ঢাকা    বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
কূটনীতিকদের নিয়ে খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ

কূটনীতিকদের নিয়ে খেলাফত মজলিসের নৈশভোজ

রাজধানীর শেরাটন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।সোমবার ‘এ ডিপ্লোম্যাটিক ইভনিং-২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় সংসদ সদস্যরা অংশ নেন।অনুষ্ঠানে জার্মানি, ইরান, সিঙ্গাপুর, ইরাক, মালদ্বীপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, আর্জেন্টিনা ও ব্রুনাইয়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।আয়োজনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইতিহাস, ভিশন, মিশন, ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার এবং দেশের সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। এ সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।সমাপনী বক্তব্যে দলের আমীর মাওলানা মামুনুল হক দলের পররাষ্ট্রনীতি, সংখ্যালঘু ও নারীর অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, অর্থনীতি এবং নৈতিক দর্শন নিয়ে কথা বলেন।তিনি বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোনো জনগোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। ইসলামী মূল্যবোধকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে দলটি।পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায্য বাণিজ্য ও মানবিক সংলাপের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট শক্তি বা বলয়ের পক্ষ না নিয়ে জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান ও ভারসাম্যের ভিত্তিতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণে বিশ্বাসী তাঁর দল।তিনি আরও বলেন, দলের সনদে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। নারীর ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায়ও দলটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।মামুনুল হক বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ও মুক্ত গণমাধ্যম ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জবাবদিহিমূলক সরকারের অপরিহার্য পূর্বশর্ত।অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক ক্বারি মাওলানা আহমদ বিন ইউসুফ।এ সময় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

দিল্লির বার্তা নিয়ে ঢাকায় দীনেশ ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ, নজরে তারেক রহমানের ভারত সফর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যখন নানা অস্বস্তি ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর তৎপরতা কূটনৈতিক মহলে আলাদা করে নজর কেড়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসে তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অন্তত ২৮ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন।এসব বৈঠকে একদিকে যেমন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় উঠে এসেছে, অন্যদিকে ভারতীয় প্রকল্প পুনরায় চালু, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আমলাদের প্রশিক্ষণ এবং সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারের মতো বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তবে তাঁর ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর। বিভিন্ন বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার এ সফরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে অনেক জটিলতার সমাধান হতে পারে।দীনেশ ত্রিবেদী গত ১২ জুন কলকাতা থেকে সড়কপথে ঢাকায় আসেন। ২৫ জুন রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন তিনি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য বৈঠকের জন্য তাঁকে এক মাসের বেশি অপেক্ষা করতে হয়। ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠক হয়। একই দিনে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ককে নতুন যাত্রায় নিতে হবে। একই সঙ্গে সম্পর্কের অস্বস্তির জায়গাগুলো দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর অবস্থান ছিল—সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে।এরপর ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সেখানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতার জন্য ভারতের মাটি ব্যবহার না করার বিষয়টি দিল্লিকে নিশ্চিত করতে হবে। ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বৈঠকে আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশ তখন পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভারতের সহযোগিতা চায়। ৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আবারও বৈঠক করেন তিনি। এর পরদিন, ১০ আগস্ট, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি তারেক রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীকে পরিবারসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গ্র্যান্ড ভিজিটের’ আমন্ত্রণ জানান।তবে ঢাকার পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের আগে একটি অনুকূল ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব ভারতের বলেও বার্তা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাসহ অন্য অপরাধীদের হস্তান্তরের বিষয়টি ওঠে আসে। এরপর ১১ আগস্ট দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্রিফ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।ঢাকায় ফিরে তাঁর বৈঠকের পরিধি আরও বাড়ে। ২০ আগস্ট অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে বন্ধ থাকা ভারতীয় প্রকল্পগুলো পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। ২৪ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত হাট চালু, স্থলবন্দর কার্যকর করা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুই দেশের মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। তিনি ভারত-বাংলাদেশকে নতুন প্রজন্মের জন্য একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এরপর সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারেও উদ্যোগী হন তিনি। ২ সেপ্টেম্বর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সঙ্গে পৃথক বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের নিয়ে একটি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন।তবে এসব বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় সামনে এসেছে। চিফ হুইপ সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ড, বেড়া নির্মাণ এবং অতীতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের নীরবতার বিষয়ে ক্ষোভের কথা জানান। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেও ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যান দীনেশ ত্রিবেদী। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে দুই দেশের তরুণদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির প্রস্তাব দেন। জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশি আমলাদের প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে পাঠানোর বিষয়টি তোলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার বিষয়ও উত্থাপন করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। পরদিন প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে সামরিক প্রশিক্ষণ, কর্মকর্তা বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।১৩ সেপ্টেম্বর পানিসম্পদমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে ভারতের সহযোগিতার আগ্রহের কথা জানান। পরদিন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বৈঠকগুলোর আরেকটি পর্ব শেষ হয়। বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক, তবে সবকিছু সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তাঁর প্রত্যাশা, সময়মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন। দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যে বারবার একটি বিষয়ই ফিরে এসেছে—ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেওয়া। তাঁর ভাষায়, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে একটি দায়িত্ব দিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছেন এবং তাঁর কাজ হলো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া। এই ধারাবাহিক তৎপরতায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের জন্য ঢাকা-দিল্লির মধ্যে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ কত দ্রুত তৈরি হয় এবং সেই সফর হলে দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে কতটা অগ্রগতি আসে।

দিল্লির বার্তা নিয়ে ঢাকায় দীনেশ ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ, নজরে তারেক রহমানের ভারত সফর

চার দিনে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ১১ দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তির বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদসংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি, জাতিসংঘের সাইডলাইনে চারটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।গুরুত্ব পেয়েছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জনশক্তিমাহদী আমিন বলেন, বিভিন্ন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে জেপি মরগান চেজ আয়োজিত প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।এরপর ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে স্বাগত জানানো হয় এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের সঙ্গে বৈঠকমাহদী আমিন জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তিনি কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।এসব বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা, আরও জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। তিন দেশই প্রধানমন্ত্রীকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে চায় সরকার।জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসাধারণ পরিষদসংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পাঁচটিতে বক্তব্য দিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হাইকমিশনার এবং মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন।রোহিঙ্গা ও জলবায়ুতে গুরুত্ববাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট এবং মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও জাস্ট ট্রানজিশন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়েও উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।গেটস ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউট এবং ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। উন্নয়ন অংশীদার ও স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।আট কর্মসূচিতে অংশ নেন ডা. জুবাইদাপ্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও সফরে আটটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং চারটিতে বক্তব্য দেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স, ফার্স্ট স্পাউসেস ডায়ালগ এবং মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য ও মিডওয়াইফারি-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান উল্লেখযোগ্য।মাহদী আমিন বলেন, এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ডা. জুবাইদা রহমানের বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন।চার দিনে প্রায় ৮০ কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বপ্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা চার দিনে প্রায় ৮০টি বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।তিনি বলেন, ছোট একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকারের পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয় উঠে এসেছে। সূত্র: বাসস

চার দিনে ৩০ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি, ১১ দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা।ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।বাংলায় ভাষণ, গুরুত্ব পেল রোহিঙ্গা সংকটসফরকালে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক সংকট, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।সংঘাত নিরসনে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ক্ষেত্রে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ বা থ্রি-আর কৌশলের কথাও তুলে ধরেন তিনি।রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান। প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সহযোগিতা চান তিনি।একাধিক রাষ্ট্র ও সংস্থার সঙ্গে বৈঠকসফরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ এবং জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ এবং কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, দক্ষ জনশক্তি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।বিশ্বব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আলোচনাবিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক সুজম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। সেখানে জনস্বাস্থ্য, শিশুসেবা, টিকাদান, সাশ্রয়ী মূল্যের টিকা, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।এ ছাড়া গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকেফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে মানবিক চ্যালেঞ্জ, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।জলবায়ু ও স্বাস্থ্য নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় জলবায়ু অর্থায়নের আহ্বান জানান।সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকেও বক্তব্য দেন তিনি। জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তির ব্যবহার, অভিযোজন অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।বাংলাদেশ-সুইডেন-ইউএনএফপিএ আয়োজিত ধাত্রীবিদ্যা বিষয়ক অনুষ্ঠানে তিনি ‘সুস্থ বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য খাতে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে ৮০ হাজার নারী ও ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ বা ধাত্রী থাকার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজের চুক্তিসফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে ম্যানহাটনে জেপিমরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।পাঁচ দিনের সফরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: বাসস

জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

ইরানের দেওয়া শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকবে।পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ইরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে তাদের অবস্থান ও শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে।ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, ‘শত্রুপক্ষ ভালোভাবেই জানে যে প্রতারণা ও একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পথ এখন রুদ্ধ।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ, দেশটির ‘বৈধ অধিকার’ স্বীকৃতি এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার অবস্থায় ফিরে যাওয়া বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে কয়েকটি শর্ত পাঠায় ইরান।শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজাই বলেন, আমাদের শর্ত হলো- সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে, আমাদের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। সূত্র: আল-জাজিরা

শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না: ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাঁর এই আশাবাদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় যুদ্ধের অবসানে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।ট্রাম্প যদি সত্যিই এই যুদ্ধের অবসান চান, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে ইরানের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যেও যুদ্ধটি ক্রমেই নিন্দনীয় হয়ে উঠছে। এমনকি কয়েকজন শীর্ষ মার্কিন জেনারেলও উত্তেজনা আরও বাড়ানো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন। এ পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযানের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানসহ আস্থাভাজন তৃতীয় পক্ষ এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে আবারও সংলাপের পথ খুলে দেওয়ার আহ্বান উঠেছে।নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন ঝুঁকিপূর্ণসম্প্রতি আয়ারল্যান্ড সফরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প বলেন, তাঁর হিসাব অনুযায়ী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই সংঘাত কমে আসবে। তবে এখন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হতে পারে। যুদ্ধ এমন কোনো সরল বিষয় নয়, যা চাইলেই একটি বোতাম চাপ দিয়ে শেষ করে দেওয়া যায়।গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিও ভেঙে পড়েছে। ইরানপন্থী এই গোষ্ঠী ইয়েমেনে আরও কিছু এলাকা দখল করেছে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে সৌদি জাহাজ চলাচল ঠেকাতে নিজেদের অবস্থান জোরদার করছে।অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার পর সৌদি আরবের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকের দিক থেকে হামলাটি চালানো হয়েছে। রিয়াদ জানিয়েছে, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইরাকি সরকারের’ অনুরোধে তারা তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে জবাব দেওয়ার অধিকার তারা সংরক্ষণ করেছে।ইরাকে শক্তিশালী ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় থাকলেও ওই হামলার দায় তখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।লেবাননেও বাড়ছে সংঘাতএদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার লক্ষ্যে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এসব হামলায় হাজারো লেবানিজ নিহত এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।লেবাননে যুদ্ধবিরতি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত যে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির জন্য নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।আলোচনার পথ খোলার আহ্বানযুদ্ধের আগ্রাসী পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রথম পদক্ষেপ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করা উচিত বলে মত দেওয়া হয়েছে। একইভাবে তেহরানেরও প্রতিক্রিয়া জানানো প্রয়োজন।হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সোমবার ওমানে আলোচনার কথা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ পুনরায় খুলে দিতে আঞ্চলিক দেশগুলো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।আস্থা তৈরির পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া উচিত। কারণ যুদ্ধের গতিপথ অত্যন্ত অনিশ্চিত। নভেম্বর পর্যন্ত সংঘাতের মাত্রা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে ওয়াশিংটনের এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই এখনই একটি শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা প্রয়োজন।

নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা নয়, এখনই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত ট্রাম্পের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে খলিলুর রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব আজ মঙ্গলবার নিচ্ছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। দীর্ঘ চার দশক পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশ আবারও নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে।দায়িত্ব গ্রহণের আগে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন খলিলুর রহমান। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ এবং অধিবেশন পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।সোমবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বার্তায় খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় উষ্ণ অভিনন্দন ও শুভকামনা জানিয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন খলিলুর রহমান। তিনি জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ঐতিহাসিক দায়িত্বজাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে ইউএনজিএর ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।খলিলুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রায় চার দশক পর আবারও এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশ একজন প্রতিনিধি পেল।যেভাবে নির্বাচিত হন খলিলুর রহমানগত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে খলিলুর রহমানকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত করেন।নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। আজ দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামী এক বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের কার্যক্রমে সভাপতিত্ব করবেন খলিলুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর আলোচনা ও সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে খলিলুর রহমান

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে পাকিস্তানি সাবেক সেনা কর্মকর্তার আহ্বান

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও নিরপেক্ষ করতে সংস্থাটির কাঠামো পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা ও সাবেক সিনেটর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদুল কাইয়ুম। তাঁর মতে, নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি দেশের ভেটো ক্ষমতা এবং বিভিন্ন অঞ্চল ও মুসলিম বিশ্বের সীমিত প্রতিনিধিত্ব জাতিসংঘের নিরপেক্ষভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে।ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ) ইউকের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।আবদুল কাইয়ুম বলেন, শান্তি রক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন ও শরণার্থী সংকট মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো জাতিসংঘ সনদ ও সংস্থাটির প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করলে এর কার্যকারিতা সীমিত হয়ে পড়ে।সংঘাতের পেছনে নানা কারণবিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, ঘোষণাবিহীন পারমাণবিক অস্ত্র, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরেন কাইয়ুম। এ প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন।তাঁর মতে, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, সীমান্ত বিরোধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, জাতীয়তাবাদ, বর্ণবাদ, ধর্মীয় উগ্রতা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের অন্যতম কারণ।তিনি বলেন, বৈশ্বিক রাজনীতির বাস্তবতা ও শক্তির ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক কূটনীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এক রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে নিরাপত্তাআবদুল কাইয়ুমের মতে, ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা কোনো পরাশক্তির সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।সামরিক শক্তির সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তানে ন্যাটোর ব্যর্থতা এবং ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা সফল না হওয়ার বিষয় উল্লেখ করেন কাইয়ুম। তিনি বলেন, নিজেদের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় কিছু দেশ দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতেও প্রস্তুত থাকে।সংলাপ ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানবিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ, মধ্যস্থতা ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন আবদুল কাইয়ুম।তিনি আন্তর্জাতিক জলপথে ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করা, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার, সহনশীলতা বৃদ্ধি, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।কাইয়ুম বলেন, এসব লক্ষ্য জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে জাতিসংঘ কতটা সফল হবে, তা শেষ পর্যন্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর নির্ভর করবে। সূত্র: ডন

জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করতে পাকিস্তানি সাবেক সেনা কর্মকর্তার আহ্বান

ফিলিস্তিনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা নতুন ওআইসি মহাসচিবের

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার ওআইসির ৫৭ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাঁকে এ পদে নির্বাচিত করেন।বর্তমানে ওআইসির মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহা। ২০২১ সালের নভেম্বরে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী নভেম্বরে তাঁর মেয়াদ শেষ হলে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ মহাসচিবের দায়িত্ব নেবেন।ফিলিস্তিনকে অগ্রাধিকারনতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখার কথা জানিয়েছেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক—তিন ক্ষেত্রেই ফিলিস্তিন ইস্যু ওআইসির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকবে।ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায়ও সংস্থাটির কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রতিরোধ, পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মান বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।আফ্রিকার সমর্থন পেয়েছিলেন শুরুতেইইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা শুরু থেকেই আফ্রিকার সমর্থন পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য তাঁকে ওআইসির মহাসচিব পদে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়।ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিবের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই মেয়াদ একবার নবায়ন করা যায়। মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান এবং সমান সুযোগের নীতি বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সনদে আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে মহাসচিবের পদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো ধারাবাহিকতা নেই। তবে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ভারসাম্য ও পালাক্রমের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।জাতিসংঘে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা৬৬ বছর বয়সী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অভিজ্ঞতা তিন দশকের বেশি। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কাজ করার পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৪ সালে লিবিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, আবাসিক সমন্বয়কারী ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবেও কাজ করেছেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়াতেও একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।দীর্ঘ কূটনৈতিক ও জাতিসংঘের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামী নভেম্বরে বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসির নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।সূত্র: আনাদোলু

ফিলিস্তিনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা নতুন ওআইসি মহাসচিবের

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলোচনা ও সম্মানজনক আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে।গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাড়াহুড়ো করতে চায় না। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক থাকবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা এবং নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে ভারতকে যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে। সম্মানজনক পরিবেশ ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রয়োজন নেই।ভারতকে নিয়ে অসন্তোষবাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপতৎপরতার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিহুমায়ুন কবির বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চলছে।তিনি জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও নতুন রপ্তানি বাজার তৈরিতে কাজ করছে সরকার।রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের জন্য এখনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম।রোববার বেলা ১১টার দিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।শহীদুল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। তবে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের পর সফর আয়োজনের প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, এই সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।’এ জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।শহীদুল করিম বলেন, শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দোষী সাব্যস্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁর ও অন্যান্য পলাতক ব্যক্তির প্রত্যর্পণকে ভারত সফরের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের ‘অনুকূল পরিবেশ’ নেই: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে দুই ভারতীয় গণমাধ্যমে দুই দাবি

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাঁর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।শুক্রবার ভারতের দ্য ট্রিবিউন–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় এক বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে এমন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টির ওপর তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ—দুটিই অনেকটা ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ’ অবস্থায় রয়েছে।তবে ওই বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের আলোচনায় সমাধান করা সম্ভব নয়—এমন কোনো সমস্যা নেই।এনডিটিভির দাবি, সফরের প্রস্তুতি চলছেঅন্যদিকে ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে।সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর কিংবা সফর না করার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।১২-১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনআগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের বিশেষ আমন্ত্রণে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপোড়েন২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে রায় হওয়ার পর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরাতে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় ঢাকা।ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের দুই ধরনের প্রতিবেদনের মধ্যেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান পাওয়া যায়নি।

তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে দুই ভারতীয় গণমাধ্যমে দুই দাবি

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, আলোচনার বিষয় জানানো হয়নি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার বেলা ১১টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। তবে বৈঠকে কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।এর আগে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার। এর এক সপ্তাহ আগে, গত ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেছিলেন তিনি।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননিসোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ভারতীয় হাইকমিশনার সচিবালয়ের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কোনো ব্রিফ না করেই চলে যান। পরে সাংবাদিকদের জানানো হয়, তিনি এ মুহূর্তে কোনো বক্তব্য দেবেন না।এর এক দিন আগে রোববার রাজধানীর কুড়িলে ইন্ডিয়ান ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) শিশুদের জন্য নির্মিত একটি খেলাঘর উদ্বোধন করেন দীনেশ ত্রিবেদী।সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দুই সরকারপ্রধান একসঙ্গে বসলে বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীই অত্যন্ত জনবান্ধব। ফলে বিদ্যমান সংকটগুলোর ইতিবাচক সমাধানের বিষয়ে তাঁর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে।দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এখানে কোনো নেতিবাচকতা নেই; বরং সবকিছু ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে এগোচ্ছে।সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, আলোচনার বিষয় জানানো হয়নি

ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে জামায়াতের নিন্দা

ভারতে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়ার ঘটনায় দেশটির সরকারের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।শুক্রবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়া ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী’ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতির লঙ্ঘন।বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতসহ সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য উদ্বেগজনক।মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এসব বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে।তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারত সরকার বন্দি বিনিময় চুক্তির বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে না।জামায়াতের এই নেতা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া এবং জাতিসংঘের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যদি এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনের পর দেশে পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির পুনরুত্থান ঠেকাতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে জামায়াতের নিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি ‘নাটকীয় ও ব্যর্থ’, বললেন ইরানের স্পিকার

ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের অবস্থান নতুন কিছু নয়; বরং এটি বারবার পুনরাবৃত্ত হওয়া একটি ‘নাটকীয় কূটনীতি’।ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘একটি বড় হামলা আসছে, অপেক্ষা করুন, তারা আলোচনা করতে চায়—এসব কথা পুনরাবৃত্তিমূলক নাটকীয় কূটনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।’তিনি আরও বলেন, আলোচনায় চাপ তৈরির জন্য হুমকি দেওয়া, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা এবং ভুয়া তথ্যের আশ্রয় নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যর্থ কৌশল।গালিবাফের ভাষায়, ‘বাস্তবতাকে মেনে নিন এবং আপনাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করুন। আমাদের আর কোনো নাটকের প্রয়োজন নেই।’সূত্র: পার্সটুডে

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি ‘নাটকীয় ও ব্যর্থ’, বললেন ইরানের স্পিকার

দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ভারতের প্রতি ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

ভারতে অবস্থানরত দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণ সম্পর্কে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা নিন্দনীয়।বিবৃতিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশ আগেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ ধরনের আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে যখন দেশজুড়ে শহীদদের স্মরণ করা হচ্ছিল, তখন ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অসম্মান।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশু-সহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এমন প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা করবে বলে উল্লেখ করা হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান নেই।বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয় জানায়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। তবে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ–ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের একাধিক অনুরোধের এখনো কোনো সাড়া দেয়নি ভারত সরকার। বরং তাঁকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যও তা সহায়ক নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ভারতের প্রতি ঢাকার তীব্র ক্ষোভ