ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গ্যাস নেই ৭ দিন, এলপিজি কিনতেও হিমশিম কেরানীগঞ্জবাসীর

গ্যাস নেই ৭ দিন, এলপিজি কিনতেও হিমশিম কেরানীগঞ্জবাসীর

ঢাকার কেরানীগঞ্জে টানা সাত দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সংকট থাকলেও গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। গ্যাসের অভাবে বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার কার্যক্রম।গ্যাস না থাকায় রান্নার জন্য বিদ্যুৎ ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে সংকটের কারণে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারও সহজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার।এদিকে গ্যাসসংকট নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন তিতাস গ্যাসের জোন-৫ (জিনজিরা) কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রতিদিন গ্যাসের দাবিতে বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ কার্যালয়ে ভিড় করছেন। গ্যাস না পাওয়ার ক্ষোভে কেউ কেউ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করছেন। ফলে হামলার আশঙ্কায় দিন কাটছে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।গত বৃহস্পতিবার জিনজিরার তিতাস কার্যালয়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি দেখা গেছে।অবৈধ সংযোগ নিয়ে অভিযোগএলাকাবাসীর অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে তিতাসের বৈধ গ্রাহকের তুলনায় অবৈধ সংযোগের সংখ্যা বেশি। ২০১৬ সালে কেরানীগঞ্জে বৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ১৫ বছরে মিল-কারখানা, ওয়াশিং প্ল্যান্ট ও বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ সংযোগের কারণে সারা বছরই কেরানীগঞ্জে গ্যাসের সংকট থাকে। তবে গত সাত দিনে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে কোনো কোনো এলাকায় একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।গ্যাস সরবরাহ না থাকায় তিতাসের ৫ হাজার ৬৭৩টি শিল্প গ্রাহকের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।১২ কেজির সিলিন্ডারে বাড়তি দামগ্যাসের বিকল্প হিসেবে কেরানীগঞ্জবাসীর একটি বড় অংশ এখন এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও সংকট তৈরি হয়েছে।সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির বেসরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। কিন্তু কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তা ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।আগানগর, শুভাঢ্যা ও কালিন্দী ইউনিয়নের কয়েকটি দোকানে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস, যমুনা এলপিজি, মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি, ইউনাইটেড আইগ্যাস, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি, নাভানা এলপিজি ও টোটালগ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।‘গ্যাসের জন্য হাহাকার’জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেরানীগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফাতেমা আমিন একা বলেন, গত সাত দিন ধরে জিনজিরাসহ কেরানীগঞ্জের নয়টি ইউনিয়নের কোথাও গ্যাস নেই। গ্যাসের জন্য মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে।তিনি বলেন, এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে বিদ্যুতের চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছেন। অনেকে লাকড়ির চুলায় রান্না করছেন। আবার কেউ কেউ রেস্টুরেন্টের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেন।গ্যাসের চাপ মাত্র ২তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৫, জিনজিরা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র মৈত্র বলেন, বাসাবাড়ির চুলার জন্য সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ সাধারণত অনেক কম থাকে। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে চাপ প্রায় ২০ থেকে ৩০ এমবিএআর বা পাইপলাইনের প্রেসার ১০ থেকে ১২ থাকে।কিন্তু বর্তমানে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইনে প্রেসার মাত্র ২। এ কারণে বাসাবাড়িতে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বড় বড় কারখানাও বন্ধ রয়েছে বলে জানান তিনি।গ্যাস না পাওয়ার পেছনে বার্নারের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেগুলেটরের সমস্যা, পাইপ ভাঁজ বা লিক হওয়া, নিচু এলাকা হওয়া, গ্যাস লাইনে পানি ঢুকে যাওয়া এবং লাইনে চাপ কমে যাওয়ার মতো কারণও থাকতে পারে বলে জানান তিতাসের এই কর্মকর্তা।‘গত এক বছরে অর্ধশত অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন’কেরানীগঞ্জে অসংখ্য অবৈধ তিতাস গ্যাস সংযোগ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বিধান চন্দ্র মৈত্র বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় অর্ধশত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।এলাকায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার অবৈধ গ্যাসের লাইন ও চুলা কীভাবে চলছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের অজান্তেই এগুলো হয়েছে।’তাঁর দাবি, অতীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে এসব অবৈধ সংযোগ স্থাপন করেছেন।পাইপলাইন পরিবর্তনের পরও মিলছে না গ্যাসগ্যাস ঠিকাদার শাহ আলম জানান, কেরানীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে কোন্ডা ইউনিয়নের পানগাঁও এলাকায় ডিআরএসএ ভালভ পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে পরিবর্তনের পরও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।ঢাকা শহরের গ্যাস সরবরাহ ঠিক রাখতে কেরানীগঞ্জের গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ রাখা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন বলে জানান।টানা সাত দিন গ্যাস না থাকায় কেরানীগঞ্জের বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাগুলোও বিপাকে পড়েছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না, বাড়ছে লোডশেডিং

গ্যাসের সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা দেশে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। একই সময়ে বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কোথাও চুলা জ্বলছে না, কোথাও আবার মাটির চুলা বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।গ্যাসের সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানা ও সার উৎপাদনেও। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও কারখানা বন্ধ রেখে শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হলেও তা চাহিদার তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। গ্যাসের অভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অর্ধেকের বেশি বর্তমানে উৎপাদনে নেই। সার কারখানাগুলোতে চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতিদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করেও এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এর আগে এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল।জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, লোডশেডিং কমাতে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। এরপরও বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।উৎপাদন কমেছে শিল্পকারখানায়গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদনেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, নিটিং, ডাইং ও ওয়াশিং খাতের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ দিন ধরে অনেক কারখানায় তীব্র গ্যাস সংকট চলছে।গাজীপুরের একটি নিট কারখানায় আগে দিনে ২৬ টন কাপড় উৎপাদিত হলেও গ্যাসের সংকটে তা কমে ১১ থেকে ১২ টনে নেমে এসেছে।বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, সংগঠনের সদস্যভুক্ত প্রায় ৭০ শতাংশ কারখানা থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আগে মূলত গ্যাস সংকটের কথা জানানো হলেও গত কয়েক দিনে বিদ্যুৎ সংকটের অভিযোগও বেড়েছে।সার কারখানায়ও সংকটগ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)।উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংকঋণের সুদ ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খরচ চালিয়ে যেতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এতে প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।দেশের অন্যান্য সার কারখানাতেও চাহিদার তুলনায় মাত্র ৩৮ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস নেই, মাটির চুলায় রান্নাগ্যাস উৎপাদনে দেশের অন্যতম প্রধান জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও আবাসিক গ্রাহকেরা গ্যাস সংকটে ভুগছেন। গত দুদিন ধরে জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের চুলা না জ্বলায় বাসাবাড়িতে মাটির চুলায় রান্না করছেন অনেকে। কেউ কেউ সিলিন্ডার গ্যাস কিনে ব্যবহার করছেন।টেংকের পাড় এলাকার বাসিন্দা রুনা দাস বলেন, বেলা ১১টার পর গ্যাসের চুলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর গ্যাস আসেনি। বাধ্য হয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে হয়েছে।কাজীপাড়ার বাসিন্দা ইয়াদে রিবা পাপিয়া বলেন, এমনিতেই তাঁদের এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকে। গত দুদিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। তাই সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্না করতে হচ্ছে।যানবাহনচালকেরাও গ্যাস সংকটের কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাড়িতে ঠিকমতো গ্যাস নিতে পারছেন না।কুমিল্লায় ৩১ ঘণ্টা ধরে গ্যাস নেইটানা দুদিন ধরে গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকার জনজীবন। কোথাও গ্যাস একেবারেই নেই, কোথাও আবার মিলছে খুব কম চাপে। ফলে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির খরচ।বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা সাখাওয়াত হোসেন জানান, তাঁদের বাসায় ৩১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অনেক হোটেলেও পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না।রেসকোর্স এলাকার গৃহবধূ খালেদা আক্তার বলেন, বুধবার ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করেছিলেন। বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎও না থাকায় বাড়ির পাশে অস্থায়ী চুলা তৈরি করে রান্না করতে হয়েছে।কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)।সুনামগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ নেইগ্যাসের পাশাপাশি তীব্র বিদ্যুৎ সংকটেও ভুগছে সুনামগঞ্জের মানুষ। শহরে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও জেলার বিভিন্ন গ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ছাতকের জাউয়াবাজার এলাকায় বিদ্যুতের দাবিতে এলাকাবাসী মিছিলও করেছেন।তাহিরপুরের বাসিন্দা মশিউর রহমান বলেন, রাতে ১২টার পর বিদ্যুৎ আসে, আবার ৩টার দিকে চলে যায়। সকালে থাকে না। দুপুরে আধা ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না বললেই চলে।অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জকে দায়ী মন্ত্রীদেশের বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের জন্য পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের লুটপাট এবং ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশার বিস্তারকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।মন্ত্রী বলেন, অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি রাতে চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা হামলার শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ঠিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং ব্যবস্থাপনা ও অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত উপায় নেই। দেশে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানো এবং আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ- দুই ক্ষেত্রেই এখন সমস্যা রয়েছে।তিনি জানান, এলএনজি সরবরাহ বাড়াতে আরও তিনটি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি টার্মিনালের জন্য ১০ থেকে ১২ দিন আগে অর্ডার দেওয়া হয়েছে। মোংলা-হিরণ পয়েন্ট এলাকাতেও আরেকটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালগুলো মেরামতের কাজও চলছে।মন্ত্রীর আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে। ততদিন দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গ্যাসের সংকটে চুলা জ্বলছে না, বাড়ছে লোডশেডিং

নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ

নরসিংদীর ইটাখোলা থেকে পাঁচদোনা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন গাড়িচালকেরা। আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইটাখোলা থেকে পাঁচদোনা এলাকার সিএনজি পাম্পগুলোতে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা। এর প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে শতাধিক চালক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।বিক্ষোভের সময় চালকেরা সড়কের ওপর টায়ার জ্বালান। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকে পড়েন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান শিবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুর রহিম। তিনি বিক্ষোভরত চালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পর চালকেরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নরসিংদীর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ