ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে আরও সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে আরও সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুহিলপুরে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস-২৮ নম্বর কূপ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন আনুমানিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।শনিবার দুপুরে কূপটি থেকে গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি খাতে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে যে বড় ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পারলে শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতে চলমান জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের মাধ্যমে খনন করা তিতাস-২৮ কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার। কূপটি থেকে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট, গড়ে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। মূসক ও আয়করসহ কূপটি খননে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় কূপটি খনন করা হয়। এ প্রকল্পে চীনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল চুক্তি হয়। তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এবং তা ২০২৬ সালের ১৯ জুন সফলভাবে শেষ হয়।উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিরা তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের চলমান খননকাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা: রিজভী

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট-সরকার ও জনগণের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এমপি।রিজভী বলেন, দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকেন্দ্রিক সংঘাত, এলএনজি আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা এবং মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বসে নেই। অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত গ্যাস সংগ্রহের জন্য মিয়ানমার, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে জানিয়ে রিজভী বলেন, একদিকে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার ও সমুদ্রপথে এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ কারণে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।রাজপথে কর্মসূচির প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের সমালোচনা করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা উচিত। রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়।রিজভী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। বিরোধী দলের দায়িত্ব শুধু সরকারের সমালোচনা করা নয়, সংকট সমাধানের পথও দেখানো। একই সঙ্গে সরকারকেও তার উদ্যোগ আরও কার্যকর করতে হবে।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছরে এমন অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছিল, যেগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পেয়েছে। জনগণের কোষাগার থেকে এসব কেন্দ্রের মালিকদের বিপুল অর্থ দেওয়া হয়েছে।এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানার সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তাঁর ভাষ্য, জনগণের অর্থ ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল।ব্যাংক খাতের অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ব্যাংক থেকেও জনগণের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিতে ইনডেমনিটি আইন করা হয়েছিল, যাতে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সহজে মামলা করা না যায়।রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারেন। উচ্চ আদালত, গণমাধ্যম, পুলিশ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হবে।গণমাধ্যম প্রসঙ্গে রিজভী অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্য, আত্মীয়তা ও ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে গণমাধ্যমের লাইসেন্স দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। এর মাধ্যমে দুঃশাসনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। শিশু, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান রিজভী। তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞরা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে, পাশাপাশি নাগরিকদেরও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য চিত্রনায়ক হেলাল খান। বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান, জাসাসের সদস্যসচিব জাকির হোসেন রোকন, বিএনপির সহসাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাইদ সোহরাব, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফু এবং গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক শামিমুর রহমান শামিমসহ অন্যরা।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা: রিজভী

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধীদের পরিকল্পনা চাইলেন: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দ্রুত সমাধানে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা সরকারকে দেওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যকর কোনো পরিকল্পনা পাওয়া গেলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।শনিবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের যদি এমন কোনো পরিকল্পনা থাকে, যা দিয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা যাবে, তাহলে সেটা দেন। আমরা অবশ্যই সেটা গ্রহণ করব। আমি আপনাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম।’তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা থাকলে তা বাস্তবায়নে সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে দুর্বল করে রেখে গিয়েছিল।’ এর ফলে দেশের মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে নির্দিষ্ট একটি দেশে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।জামায়াতের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন বসবে। বিরোধী দলের কাছে ভালো কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।তিনি বলেন, ‘আপনাদের যদি ভালো কোনো পরিকল্পনা থাকে, সেটা উপস্থাপন করুন। আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধীদের পরিকল্পনা চাইলেন: প্রধানমন্ত্রী