ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে অভিযান, ২৬০ জনের বেশি আটক

গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে অভিযান, ২৬০ জনের বেশি আটক

রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের (ইনু) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ২৬০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী রয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার সকাল থেকে চলা ওই অভিযান শেষ হয় বিকেলের দিকে।পুলিশের ভাষ্য, জাসদ কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এমন খবর পাওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো হয়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার অভিযানে আটক ব্যক্তিদের পল্টন ও শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। তাঁদের পরিচয় ও আগের কর্মকাণ্ড যাচাই করতে বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হকাররা জাসদ কার্যালয় থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শুনতে পান। পরে তাঁরা ভবনটির দ্বিতীয় তলায় গিয়ে কার্যালয়টি ঘিরে ফেলেন। পুলিশ আসার পর ভবন ঘিরে অভিযান শুরু হয়।প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউয়ের ৩৫ নম্বর ভবনের (হোটেল গ্যানিস ইন্টারন্যাশনাল) দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত জাসদের কার্যালয়ে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেন। তাঁরা দলবদ্ধভাবে না এসে দুই-তিনজন করে সেখানে জড়ো হন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সভা শুরু হয়।স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী ও হকার জানান, সেখান থেকে স্লোগানের শব্দ শুনে তাঁরা দ্বিতীয় তলায় যান। এ সময় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দরজা খোলা হলে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষকে দেখে তাঁরা বিস্মিত হন। এ সময় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। অনেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে চলে যান। পরে বাইরে থাকা লোকজন কলাপসিবল গেট বন্ধ করে পুলিশকে খবর দেন।এরপর পুলিশ ভবনটি ঘিরে অভিযান শুরু করে। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর আটক ব্যক্তিদের পাঁচটি প্রিজনভ্যানে করে থানায় নেওয়া হয়। পল্টন থানায় জায়গা সংকুলান না হওয়ায় তাঁদের একটি অংশকে শাহবাগ থানায় রাখা হয়।ঘটনাস্থলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভিড়আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও বিক্ষুব্ধ লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাঁরা ভবনটি ঘিরে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ।যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সেখানে মিছিল করেন। নয়ন সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা যাতে ঢাকার কোথাও মিছিল-মিটিং করতে না পারে, সে বিষয়ে ঢাকা মহানগর যুবদলের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জাসদ কার্যালয়ের ওই সভায় কোনো ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।শাহবাগ থানা যুবদলের সদস্যসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন তপনের দাবি, কুষ্টিয়া, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এনে সেখানে গোপন বৈঠক করা হচ্ছিল। তাঁদের দাবি, দেশে ‘জ্বালাও-পোড়াও’ করার পরিকল্পনা নিয়ে ওই বৈঠক হচ্ছিল। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত বৈঠকে নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।ডিইউজের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য আটকঅভিযানের সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্যকেও আটক করা হয়। জাসদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।পুলিশ তাঁকে গাড়িতে তোলার সময় উপস্থিত সাংবাদিকেরা জানতে চান, তিনি কেন ওই সভায় গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি কোনো উত্তর দেননি। পরে আটক অবস্থায় দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে সূর্য দাবি করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।থানায় পরিচয় যাচাইপল্টন থানার কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তাঁদের অতীতের কর্মকাণ্ড বা কোনো মামলায় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা জানতে দেশের বিভিন্ন থানায় তথ্য পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানাগুলো থেকে তথ্য পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।আটক ব্যক্তিদের থানার বিভিন্ন কক্ষে রাখা হয়েছে। তাঁদের অনেকের কাছেই মোবাইল ফোন রয়েছে এবং তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছেন। থানার লকআপে একসঙ্গে এত মানুষ রাখার মতো জায়গা না থাকায় আপাতত তাঁদের এভাবে রাখা হয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।স্বজনদের থানায় ছোটাছুটিঅভিযানের খবর পেয়ে অনেকের স্বজন জাসদ কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন। স্নিগ্ধা নামের এক তরুণী নিজেকে এনসিপির গুলশান থানার নেত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা রুহুল আমিন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। তাঁর বাবা আগে জাসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তবে বর্তমানে করেন না। শনিবার ঢাকায় এসে তিনি জাসদ কার্যালয়ে আটক হয়েছেন বলে ফোনে জানিয়েছেন। পরে বাবার খোঁজ নিতে তিনি পল্টন থানায় যান।পুলিশের বক্তব্যডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের ডিসি মো. আকতার হোসেন বলেন, জাসদ কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল এবং সেখানে বৈঠক চলছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়।পল্টন থানার ওসি আরিফুর ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।জাসদের দাবি, এটি ছিল প্রতিনিধি সভাতবে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছে জাসদ। দলের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শনিবার জাসদের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সভা ছিল। এতে সারা দেশ থেকে প্রায় ৪০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।সাজ্জাদ হোসেনের দাবি, প্রথমে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসে তাঁদের নেতা-কর্মীদের মারধর করেন। ওই সময় সেখানে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন। পরে বিকেলে পুলিশ এসে নেতা-কর্মীদের আটক করা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে তাঁদের সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয়।জাসদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রতিনিধি সভায় মাইক ব্যবহার এবং নিরাপত্তার জন্য পুলিশকে আগে থেকেই আবেদন করা হয়েছিল। ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসির কাছে গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠিও রয়েছে বলে দাবি করেছে জাসদ। তবে ওই অনুমতির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ইনুর বিরুদ্ধে মামলার রায় গত ৩০ জুন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনাল ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং প্রতিটি অভিযোগে তাঁকে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়।

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই অভ্যুত্থান দমনে নির্যাতন, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার সকালে প্রকাশ করা হয়েছে।রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৫ জুলাই বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে।যে তিন অভিযোগে সাজা৩ নম্বর অভিযোগে সাক্ষী রাইসুল হকসহ ভুক্তভোগীদের রাজনৈতিক নিপীড়ন, নির্যাতন ও আহত করার দায়ে ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।৬ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগের দায়ে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।৭ নম্বর অভিযোগে অপরাধের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।রায়ে বলা হয়েছে, ইনুর ওপর আরোপিত সব সাজা যুগপৎ চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁকে ১০ বছর কারাগারে থাকতে হবে।আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।আট অভিযোগের বিবরণইনুর বিরুদ্ধে ৩৯ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। এতে ২০ জনকে সাক্ষী করা হয়।প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ১৮ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে বল প্রয়োগের উসকানি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিলেন ইনু।দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় সারা দেশে সেনা মোতায়েন, কারফিউ জারি এবং ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্তে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০ জুলাই কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের ভিডিও দেখে শনাক্ত করে দমন ও হত্যার নির্দেশ দেন তিনি।চতুর্থ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করে ছত্রীসেনা নামানো এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, ২৭ জুলাই ‘নিউজ টোয়েন্টিফোর’-এ আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন ইনু।ষষ্ঠ অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর পরিচালিত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।সপ্তম অভিযোগে ৪ আগস্ট আন্দোলনকারীদের জঙ্গি আখ্যা দিয়ে কারফিউ জারি, গুলি বর্ষণের কঠোর সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।অষ্টম অভিযোগে বলা হয়, ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া সদর মডেল থানা এলাকায় ইনুর নির্দেশে ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হয়।তবে রায়ে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে।দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়াপ্রসিকিউশনের তদন্ত দল ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ১১ সেপ্টেম্বর এবং ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর কৌঁসুলি আব্দুস সোবহান তরফদারের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর প্রথম সাক্ষী হিসেবে মেহেরপুরের বাসিন্দা রাইসুল হকের জবানবন্দি নেওয়া হয়।বিচার চলাকালে প্রসিকিউশনের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষের দুজন সাফাই সাক্ষীও সাক্ষ্য দেন। মামলায় ২০ সিরিজের নথি ও পাঁচটি বস্তুগত আলামত উপস্থাপন করা হয়।গত ১১ মার্চ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাইব্যুনালে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দেন ইনু। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে কাল্পনিক, বিদ্বেষপ্রসূত ও বানোয়াট বলে দাবি করেন।২ এপ্রিল তাঁর পুনর্তদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর আসামিপক্ষ টানা নয় দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। ৬ মে ইনুর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্ক শেষ করে খালাস দাবি করেন। ১৪ মে প্রসিকিউশনও যুক্তিতর্ক শেষ করে। পরে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক জীবন২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার একটি বাসা থেকে হাসানুল হক ইনুকে আটক করা হয়। শুরুতে নিউ মার্কেট থানায় করা একটি হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্যে ২১ আগস্ট কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার দেখানো মামলার সংখ্যা ৮৭টি। এ ছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।১৯৪৬ সালের ১২ নভেম্বর জন্ম নেওয়া হাসানুল হক ইনু ১৯৭০ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি করেন। ১৯৭২ সালে জাসদ গঠনের সময় তিনি প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৮৬ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সাল থেকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ