ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়: রেজাউল করীম

মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রে জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়: রেজাউল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা মানবরচিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব নয়। তাঁর মতে, এ ক্ষেত্রে ইসলামই একমাত্র সমাধান।বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর আয়োজিত সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‘আমরা বারবার জীবন দিয়েছি, পঙ্গুত্ব বরণ করেছি, আমাদের সন্তানরা এতিম হয়েছে, নারীরা বিধবা হয়েছে। এগুলো জাতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। কিন্তু যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা ত্যাগ করেছি, তা পূরণ হয়নি।’তিনি বলেন, ‘আমরা শৃগালের হাতে মুরগি তুলে দেওয়ার মতো ভুল করেছি। মানব রচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জাতির প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। মানবরচিত তন্ত্রমন্ত্রের মাধ্যমে জুলাইয়ের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করা বোকামি। এর জন্য ইসলামই একমাত্র সমাধান।’বৈষম্য দূর করা, নারীর নিরাপত্তা এবং সংখ্যালঘুদের শান্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ইসলামকে পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।ইসলামী আন্দোলনের আমীর বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন যে সুযোগ তৈরি করেছিল, তা কাজে লাগাতে তাঁরা ইসলামের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা করেছিলেন। তবে সেই সমঝোতা সম্ভাবনাময় হয়ে ওঠার পর স্বার্থান্বেষী মহল ক্ষমতার লোভে আদর্শ থেকে সরে প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছে। এতে বাংলাদেশে ইসলামের সম্ভাবনার পাশাপাশি দেশ ও জুলাইয়ের প্রত্যাশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।দলের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গুমের তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে ‘স্পষ্ট গাদ্দারি’। তাঁর দাবি, অতীতে গুমের ঘটনায় পুলিশের সদস্যদের সম্পৃক্ততা বেশি ছিল।তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কিন্তু সমঝোতার নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা নষ্ট করেছে।সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা এখন শীর্ষে রয়েছে। নগরবাসী নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।তিনি বলেন, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়ী হলে ঢাকাকে পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।নগর দক্ষিণের সেক্রেটারি কে এম শরীয়াতুল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আইএবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব আহমদ আবদুল কাইয়ূম, দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, নগর দক্ষিণের সহসভাপতি জি এম রুহুল আমীন ও আলহাজ্ব এম এইচ মোস্তফা।এ ছাড়া নগর উত্তরের সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান- প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দেবে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি বাংলাদেশের সব মানুষের। তিনি বলেন, অকারণে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার সুযোগ নেবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদী শক্তি। বিভক্তির পরিবর্তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জুলাইয়ের চেতনা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ সময়ে বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বলেও তিনি দাবি করেন।তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার একটি চ্যালেঞ্জপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে। বাজেট পাসের পর উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।জুলাইযোদ্ধাদের উদ্দেশে তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কার্ডধারী জুলাইযোদ্ধাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এতে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু) এবং ড্যাবের জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভায় জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। পরে তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে টাঙ্গাইলের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান- প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু