ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করার দাবি

বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করার দাবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই ভেনিসে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সভা-সেমিনারে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাঁদের কেউ কেউ নিজেকে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবেও পরিচয় দেন বলে জানা গেছে।চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ইলিয়াস মিয়া নামের একজন রয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে বাঁধনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওতে বাঁধনের দিকে পানি ছুড়ে মারতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিকে শিপল মাহমুদ বিপ্লব হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনিও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা করেও তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে আরও কয়েকজন আওয়ামী লীগের কর্মী বাঁধনকে হেনস্তায় জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রাথমিকভাবে তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।সম্প্রতি চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভেনিসে গিয়েছিলেন। হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনেককে সে সময় জয়ের সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গেছে বলেও জানা গেছে।ভেনিসে বাঁধনকে হেনস্তাস্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাতে ইতালির ভেনিসে একদল প্রবাসীর হাতে মারধর ও হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তিনি জানান, তাঁকে লক্ষ্য করে পানি ও পচা ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে।বাঁধনের অভিযোগ, জুলাই আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার কারণে ভেনিস আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের পরিচয়দানকারী কয়েকজন নেতাকর্মী তাঁর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে বাঁধনের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে সঙ্গে থাকা তাঁর ভাই তাঁকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে বাঁধন বলেন, তিনি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন বাঙালি তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁর গায়ে পানি ও কোক ছুড়ে মারা হয়। এ সময় তাঁর ভাইয়ের ছোট শিশুও সঙ্গে ছিল বলে জানান তিনি।বাঁধন বলেন, ‘আমার গায়েও হাত তুলেছে, আমার ফোন ফেলে দিয়েছে, আমার কানের এখানে বাড়ি মেরেছে।’তিনি আরও বলেন, তাঁকে জুলাইযোদ্ধা বলা হয়েছে। এর জবাবে বাঁধন বলেন, হ্যাঁ, আমি জুলাইযোদ্ধা। আমি অবশ্যই জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি।বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বলে পরিচয় দেন এবং তাঁকে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বাধ্য করেন। তাঁরা এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে লাইভ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।পুলিশের কাছে অভিযোগঘটনার পর স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন আজমেরী হক বাঁধন। ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি দেশটিতে গেছেন। ঘটনার ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতালির স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।