ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে মতবিরোধ, নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ভ্যান্স

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে মতবিরোধ, নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রশাসনের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা সামরিক অভিযান বন্ধ করে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও উদ্বিগ্ন ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে এ যুদ্ধের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতারা।নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ভ্যান্সঅ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘সবকিছুতেই ভুল’ করছেন বলে ব্যক্তিগত আলোচনায় মন্তব্য করেছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন।ভ্যান্সের আশঙ্কা, ইরান যুদ্ধ মার্কিন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে নির্বাচনে, যা রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছেন।নির্বাচনের আগে হামলা নিয়ে উদ্বেগওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। সেখানে নির্বাচনের আগে ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে রিপাবলিকান প্রার্থীরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে উদ্বেগ জানানো হয়।এরপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জামে সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হলেও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে তেমন প্রচার চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে নির্বাচনের আগে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু না করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বিমানবাহী রণতরি ও মেরিন সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।যুদ্ধের কারণেই নির্বাচনে হার, স্বীকার ভ্যান্সেরনির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে।তাঁর মতে, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার রিপাবলিকানদের পাশ থেকে সরে গেছেন।ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি।ট্রাম্পের সামনে তিনটি পথইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন ট্রাম্পের সামনে তিনটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করা। দ্বিতীয়ত, তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো। তৃতীয়ত, নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানো।এদিকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার একটি খসড়া তৈরির উদ্যোগ চলছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশ এখনই অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ তুলে নেওয়ার পক্ষে নয়।সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক কৌশল, কূটনৈতিক সমাধান এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এই তিন দিক সামাল দিতে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সূত্র: আনাদোলু