বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়ার মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ মাঠে গড়াল না। টানা বর্ষণে খেলা শুরুর তিন ঘণ্টা আগেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবিধায় সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে বাংলাদেশ।এর আগে টুর্নামেন্টের কয়েকটি ম্যাচও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া ম্যাচেও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল মাঠের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগেই ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত আসে।টানা বৃষ্টির কারণে আজকের দুটি কোয়ার্টার ফাইনালের কোনোটিই মাঠে গড়ায়নি। পরিস্থিতি এতটাই প্রতিকূল ছিল যে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্টরা।অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ম্যাচও বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার সুবাদে শ্রীলঙ্কাও সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর সেমিফাইনালে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তবে ওই ম্যাচ নিয়েও রয়েছে বৃষ্টির শঙ্কা। নির্ধারিত সময়ে সেমিফাইনাল ম্যাচ মাঠে না গড়ালে র্যাঙ্কিংয়ের নিয়মে বাংলাদেশকে বিদায় নিতে হবে। কারণ বর্তমান টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।
সাইফ হাসানের ঝোড়ো ব্যাটিং, মোসাদ্দেক হোসেনের পাল্টা লড়াই আর বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত স্পেল সব মিলিয়ে জমে উঠেছিল ম্যাচটি। শেষ পর্যন্ত টিম ‘বি’কে ১১ রানে হারিয়েছে টিম ‘এ’।টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন সাইফ হাসান। প্রতিপক্ষের একের পর এক বোলারকে সামলে ৫২ বলে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাটে ছিল ২টি চার ও ৬টি ছক্কা। তানজিদ হাসান তামিম ১৪ বলে ২৪ রান করে তাঁকে ভালো সঙ্গ দেন।সাইফের ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে টিম ‘এ’। টিম ‘বি’র হয়ে রিপন মন্ডল ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন।মোসাদ্দেকের ঝড়েও হয়নি জয়১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি টিম ‘বি’র। সৌম্য সরকার ১৮ বলে ১৭ রান করে ফেরার পর নাঈম শেখ ও মোসাদ্দেক হোসেন মিলে পাল্টা লড়াই গড়ে তোলেন।তাঁদের জুটিতে ৩৮ বলে আসে ৬৭ রান। এর মধ্যে মোসাদ্দেক ছিলেন সবচেয়ে আগ্রাসী। মাত্র ২২ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। ১ চার ও ৫ ছক্কার ইনিংসটি থামার পর নাঈমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৩৬ বলে ৪০ রান করেন তিনি।শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান ২০ বলে ২৯ রান করলেও টিম ‘বি’কে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রানেই থামে তাদের ইনিংস।বল হাতে মুস্তাফিজের দাপটটিম ‘এ’র জয়ে ব্যাটারদের পাশাপাশি বড় অবদান রাখেন মুস্তাফিজুর রহমান। বাঁহাতি এই পেসার ৩ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। তাঁর করা ১৮ বলের মধ্যে ১১টিই ছিল ডট বল। শেষ পর্যন্ত সাইফের ব্যাটিং ও মুস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১ রানের জয় পায় টিম ‘এ’।
ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে পাকিস্তান। মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে ৭ উইকেটে হেরেছে ফাতিমা সানার দল। এই পরাজয়ের সঙ্গে নারী টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডও গড়েছে পাকিস্তান।১৮.১ ওভার ব্যাট করে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৫৫ রানে। এর আগে নারী টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিল ৫৬ রান। ২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই রানে অলআউট হয়েছিল তারা।এদিন পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শাওয়াল জুলফিকার। মুনিবা আলি করেন ১৩ রান। দুই ওপেনার মিলে দলের স্কোরে যোগ করেন ২৭ রান। বাকি নয় ব্যাটারের সম্মিলিত সংগ্রহ ২৮ রান।ভারতের বোলারদের মধ্যে শ্রী চরনি ও প্রেমা রাওয়াত তিনটি করে উইকেট নেন। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখেন তাঁরা।জবাবে ৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত ৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে। শেফালি ভার্মা ১৩ এবং প্রতিকা রাওয়াল ১৮ রানে আউট হন। স্মৃতি মান্ধানাও ফিরে গেলেও জয় পেতে সমস্যা হয়নি ভারতের। ৬৮ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের জয় পায় তারা।বলের হিসাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি ভারতের অন্যতম বড় জয়। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে ৫৫ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তান নারী টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সবচেয়ে কম দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড করেছে। ভারতের বিপক্ষে এর আগে মালয়েশিয়া ২৭, থাইল্যান্ড ৩৭ এবং বাংলাদেশ ৫১ ও ৫৪ রানে অলআউট হয়েছিল। আন্তর্জাতিক নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড ৬ রান বাংলাদেশের বিপক্ষে মালদ্বীপ এবং একই সংগ্রহে মালি অলআউট হয়েছিল।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।