এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কাজের গতি বাড়াতে এর ব্যবহার হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় মিস-ইনফরমেশন ও ডিপফেক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআইয়ের অপব্যবহার সাইবার অপরাধ আরও জটিল করে তুলতে পারে।প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই ব্যবহার
করে এমন ছবি ও
ভিডিও তৈরি করা সম্ভব
হচ্ছে, যা দেখে সাধারণ
মানুষের পক্ষে সহজে বোঝা সম্ভব
নয় যে সেগুলো ভুয়া।
ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে
পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত
তথ্যের গোপনীয়তা, ডেটা নিরাপত্তা এবং
এআই মডেলের পক্ষপাত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ
তানভীর হাসান জোহা বলেন, আগামী
দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে
ভুয়া তথ্য ও ডিপফেক।
এগুলো মোকাবিলায় মানুষের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।এখনো হয়নি এআই নীতিমালাদেশে এআইয়ের ব্যবহার
বাড়লেও এখন পর্যন্ত এ
বিষয়ে কোনো নীতিমালা প্রণয়ন
হয়নি। সরকার জানিয়েছে, এআই নীতিমালা তৈরির
কাজ চলছে এবং এ
ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।গত ৭ জুলাই
আইসিটি টাওয়ারে টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ
ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের
কাছে এআই নীতিমালা সম্পর্কে
জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান,
সরকার এ বিষয়ে কাজ
করছে এবং শিগগির নীতিমালা
প্রণয়ন করা হবে।মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এআই যেমন নতুন
সম্ভাবনা তৈরি করবে, তেমনি
এর অপব্যবহারও নানা ঝুঁকি তৈরি
করতে পারে। ভুয়া তথ্য, ডিপফেক
ও জনমত প্রভাবিত করার
কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা
রয়েছে। এ ছাড়া এআইয়ের
ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার
সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে ভুয়া ভিডিওসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই
দিয়ে তৈরি ভিডিও ও
তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কনটেন্ট এমনভাবে
তৈরি করা হচ্ছে যে
অনেকেই সেগুলোকে বাস্তব ঘটনা মনে করছেন।
বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ও তথ্য যাচাইয়ের
মাধ্যমে এসব ভিডিওর সত্যতা
যাচাই করা হলেও প্রান্তিক
পর্যায়ের অনেক মানুষ তা
করতে পারছেন না।সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শেখ
হাসিনাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যৌথ সংবাদ
সম্মেলন করতে দেখা যায়।
পরে ভিডিওটি ভুয়া বলে জানা
যায়।তথ্য যাচাইকারী সংস্থা
ডিসমিসল্যাবের এক প্রতিবেদনে বলা
হয়েছে, গত জুলাই মাসে
বাংলাদেশে ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে এআই দিয়ে তৈরি
প্রায় এক হাজার ভুয়া
ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এসব
ভিডিও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।রাজনৈতিক কনটেন্টেও অপব্যবহারের অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিরোধের
ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে
পরিচালিত ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব
চ্যানেল থেকে বিভিন্ন ধরনের
ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উত্তেজনা
ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি
হয়েছে।এআইয়ের অপব্যবহার শুধু বাংলাদেশেই নয়,
বিশ্বজুড়েই আলোচনার বিষয়। ২০১৬ সালের মার্কিন
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার
করে নির্বাচনী জনমত প্রভাবিত করার
অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক
থিংকট্যাংক দ্বিদলীয় নীতি কেন্দ্র ‘Preparing for Artificial Intelligence
and Other Challenges to Election Administration’ শিরোনামে
প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদপ্রযুক্তিবিদদের মতে, এআইয়ের কারণে
ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজের ধরন
বদলে যেতে পারে। ফলে
নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবসম্পদের
দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে এআই
ব্যবহারে নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল সচেতনতার
ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান,
এআই নীতিমালা তৈরির জন্য সরকার একটি
কমিটি গঠন করেছে। কমিটি
ইউনেস্কোর পরামর্শ নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের
কাজ করছে।