ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
কানাডায় নির্মিত হচ্ছে ভায়োলেন্স

কানাডায় নির্মিত হচ্ছে ভায়োলেন্স

কানাডায় নির্মিত হতে যাওয়া প্রথম বাংলা ভাষার সিনেমা ‘ভায়োলেন্স’ নিয়ে শুরু থেকেই দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির কয়েকটি ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে একই সিনেমায় অধরা খান ও শিরীন শিলার অভিনয়ের খবর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।একসময় মৌসুমী-শাবনূর কিংবা শাবনূর-পূর্ণিমার মতো জনপ্রিয় একাধিক নায়িকাকে একই সিনেমায় দেখা যেত। দীর্ঘ সময় পর অধরা খান ও শিরীন শিলার যৌথ কাস্টিং সেই পুরোনো দিনের আলোচনা আবারও সামনে এনেছে।বাংলাদেশ, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘ভায়োলেন্স’। সিনেমাটি পরিচালনা করছেন একসময় টেলিভিশনে অভিনয় করা কামাল হোসেন বাবর। শিগগিরই কানাডার বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।সিনেমাটিতে নিজের চরিত্র নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত শিরীন শিলা। তিনি বলেন, ভায়োলেন্স আমার অভিনয় জীবনের অন্যতম সেরা সিনেমা হতে যাচ্ছে। এই সিনেমায় আমার চরিত্রের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। চরিত্রটি নিয়ে আমি ভীষণ উচ্ছ্বসিত। আপাতত বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছি না। সময় হলেই বিস্তারিত জানাতে পারব।কানাডায় শুটিং হওয়ার বিষয়টিও শিরীনের কাছে বিশেষ আনন্দের। তিনি বলেন, কানাডার বিভিন্ন লোকেশনে শুটিং হবে-  এটাই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগার। তবে আমার কাছে আনন্দের বিষয় হচ্ছে, এই সিনেমায় আমার প্রিয় বান্ধবী অধরাও আছে। কানাডায় আমরা একই সিনেমায় অভিনয় করব, তা কখনো কল্পনাও করিনি। আমি এখনো ঘোরের মধ্যে আছি, মনে হচ্ছে যেন স্বপ্ন দেখছি। সবকিছু যেন ঠিকঠাক মতো হয়, সবার কাছে এই দোয়াই চাই।অধরা খানও শিরীন শিলার সঙ্গে একই সিনেমায় অভিনয়ের বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, শিরীন শিলা আমার খুব ভালো বন্ধু। কিছুদিন আগে সে কানাডায় এসেছে। তখনো জানতাম না যে আমরা এখানে একই সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছি। বিষয়টা অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি।বিদেশের মাটিতে বাংলা ভাষার সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতাকে বিশেষ বলে উল্লেখ করে অধরা বলেন, বিদেশের মাটিতে নিজেদের ভাষার সিনেমা করতে যাচ্ছি-এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এখন শুধু অপেক্ষা সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার। নেপথ্যের পুরো টিমকে ধন্যবাদ জানাই। কানাডার বিভিন্ন লোকেশনে শুটিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রেও সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নির্মাণের আগেই ‘ভায়োলেন্স’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত প্রযোজক সমিতির নির্বাচন

দীর্ঘ সাত বছর পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নির্বাচন ঘিরে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ৮ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচন ভোটের মাত্র দুই দিন আগে হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত হয়ে যায়।বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ দুই মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে দুটি প্যানেল থেকে মোট ৪২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এক প্যানেলের নেতৃত্বে রয়েছেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল ও কামাল মোহাম্মদ কিবরিয়া লিপু। অন্য প্যানেলে রয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম।অভিনেতা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বলের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিতের আদেশ আসে। এরপর থেকেই দুই প্যানেল পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।প্রার্থিতা নিয়ে প্রশ্নউজ্জ্বল-লিপু প্যানেলের দাবি, সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম ইতিমধ্যে টানা দুই মেয়াদ দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে তাঁদের এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।তাদের ভাষ্য, ভোটার তালিকা ও প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার আইনগত নিষ্পত্তি করতেই তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে উজ্জ্বল-লিপু পরিষদ জানায়, সমিতির গঠনতন্ত্রে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের ধারাবাহিক মেয়াদসংক্রান্ত বিধান রয়েছে। ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে দুই প্রার্থীর প্রার্থিতা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও আপিল কমিশনের ভিন্নমুখী সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি এফবিসিসিআই সালিশ ট্রাইব্যুনালে যায়।তবে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় তাঁরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন বলে জানান।পরিষদটি আরও জানায়, তাদের করা আবেদন নম্বর ১০৮৫৬-এর শুনানি শেষে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং আগের মামলাগুলোর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্ট দুই মাসের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেছেন।উজ্জ্বল-লিপু পরিষদের বক্তব্য, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিইনি। একটি আইনসম্মত, স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও গঠনতন্ত্রসম্মত নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’শেষ মুহূর্তে নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টাঅন্যদিকে খোরশেদ আলম খসরু ও শামসুল আলম প্যানেলের বক্তব্য ভিন্ন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচন ঠেকাতেই ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।তাঁদের মতে, ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর এভাবে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় সাধারণ সদস্য ও প্রযোজকদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।সাত বছর পরও নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তাচলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর ভোটার তালিকা, গঠনতন্ত্র সংস্কার এবং ‘একজন প্রযোজক, একটি ভোট’ নীতি নিয়ে জটিলতার কারণে ২০২২ সালেও শেষ মুহূর্তে নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল।এবার নতুন তফসিলে প্রথমে ১১ জুলাই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। পরে তা পিছিয়ে ৮ আগস্ট করা হয়। কিন্তু ভোটের দুই দিন আগে হাইকোর্টের আদেশে আবারও থেমে গেল পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া।সমিতির সাধারণ সদস্যদের কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন নিয়ে চলা আইনি বিরোধ চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য ইতিবাচক নয়। তাঁদের মতে, নেতৃত্বের অনিশ্চয়তার কারণে প্রযোজক ও পরিবেশকদের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে।এখন বিচারাধীন বিষয়গুলোর নিষ্পত্তির ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী নির্বাচনের প্রক্রিয়া। ফলে আরও অন্তত দুই মাস বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।

হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত প্রযোজক সমিতির নির্বাচন