ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
পদোন্নতি, নিয়োগ ও সম্পদ অর্জন সহ নানা অভিযোগ সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

পদোন্নতি, নিয়োগ ও সম্পদ অর্জন সহ নানা অভিযোগ সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার অভিযোগে আলোচনায় আসেন সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামের একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই সাবেক আমলাকে ঘিরে এখন তাঁর পদোন্নতির প্রক্রিয়া, কথিত প্রভাবশালী বলয়ের কার্যক্রম, সম্পদ অর্জন এবং রাজধানীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে ওঠে। এই বলয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তার, বদলি ও পদায়নে সুবিধা আদায়, আত্মীয়স্বজনকে প্রশাসনিক সুযোগ পাইয়ে দেওয়া এবং বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভবন নির্মাণ ও ফ্ল্যাট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা, কুমিল্লা ও বুড়িচংয়ে কথিত এই বলয়ের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বিবরণী, জমির দলিল, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, সরকারি নথি এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।এক দিনে চার পদোন্নতি, কীভাবে সচিবঅভিযোগকারীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি হিসেবে পরিচিত নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে বিসিএস ক্যাডারে যোগ দেন। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এক দিনে চারটি পদোন্নতি পেয়ে সচিব হওয়ার বিষয়টি তাঁর প্রশাসনিক উত্থান নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।অভিযোগকারীদের দাবি, নিজেকে বৈষম্যের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করে পদোন্নতির সুযোগ নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের ব্যানারে সরকারি দপ্তরের সভাকক্ষে সভা ও মিলনমেলার আয়োজন করতেন।পদোন্নতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট আদেশের তারিখ, পদ, গ্রেড, পদোন্নতির ভিত্তি এবং প্রশাসনিক অনুমোদনের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই দিনে চারটি পদোন্নতি কীভাবে দেওয়া হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ তোফায়েলকে ঘিরে অভিযোগনজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তোফায়েলকে ঘিরেও অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, তোফায়েলকে নজরুল ইসলামের কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ এবং সিন্ডিকেটের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।অভিযোগকারীদের দাবি, আর্টসের শিক্ষার্থী হয়েও তোফায়েল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অবৈধভাবে প্রোগ্রামার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির সুপারিশ ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন।তোফায়েলের ছোট ভাই হাবিবুর রহমানকে নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বুড়িচং উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে নিজ গ্রাম যদুপুরে রাতের বেলায় মদ ও গাঁজার আসর বসাতেন তিনি। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি জামায়াত-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।এ ছাড়া তোফায়েল ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ছিলেন এবং পরে মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে—এমন অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের নথি যাচাই করা প্রয়োজন।শিক্ষা ভবনের কর্মচারী কবিরের পদায়ন নিয়ে প্রশ্নশিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদের পদোন্নতি ও পদায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুনের সময়ে ঘুষের বিনিময়ে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কর্মরত তাঁর ভগ্নিপতি ইকবালের সহায়তায় কবির আহমেদ সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পদে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হন।এ ছাড়া নজরুল ইসলামের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কবির আহমেদকে নিজ উপজেলা বুড়িচংয়ে পদায়নের জন্য মান্নান নামের আরেক কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। কবির আহমেদের আত্মীয়স্বজনদেরও বিভিন্ন সুবিধাজনক পদে পদায়ন করানোর অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।এসব অভিযোগ যাচাই করতে নিয়োগ ও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির আদেশ, চাকরির যোগ্যতা, পদ সৃষ্টির অনুমোদন এবং বদলি-পদায়নের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।তুষারধারায় ২৪ কাঠা জমিতে ভবনরাজধানীর তুষারধারা আবাসিক এলাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি বহুতল ভবন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সেখানে ২৪ কাঠা জমির ওপর নজরুল ইসলামের একটি বহুতল ভবন রয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনটির নির্মাণে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), সেটব্যাকসহ প্রযোজ্য নির্মাণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণ অনুমোদনের শর্ত পূরণ এবং অকুপেন্সি সনদ গ্রহণের আগেই ভবনটিতে বসবাস শুরু করার অভিযোগও রয়েছে।ভবনটির মালিকানা, অনুমোদিত ও সংশোধিত নকশা, নির্মাণকাজ পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং অকুপেন্সি সনদ যাচাই ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ারে রাজউকের অভিযানের পরও নির্মাণের অভিযোগতুষারধারা আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সেক্টরে বায়তুশ শরীয়ত মসজিদের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত ‘ফ্রেন্ডস ভিউ টাওয়ার’ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২২ সালে রাজউক ভবনটিতে অভিযান চালিয়ে কিছু অংশ ভেঙে দেয় এবং মুচলেকা নিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভবনটির নির্মাণকাজ আবার সম্পন্ন করা হয় এবং অকুপেন্সি সনদ ছাড়াই সেখানে বসবাস শুরু হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে রাজউকের অভিযানসংক্রান্ত নথি, মুচলেকা, নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশ, পরবর্তী পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ভবনটির বর্তমান অনুমোদনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্টে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান-ফ্ল্যাটতুষারধারা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সেক্টরের ‘মিশন সাগরিকা অ্যাপার্টমেন্ট’ নিয়েও মালিকানা বিরোধ ও নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষা ভবনের উন্নয়ন প্রকল্পের কম্পিউটার অপারেটর আবু সেলিম ও মো. শাহাজাহান ২০১৭ সাল থেকে ভবনটির মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্মাণ অনিয়ম নিয়ে রাজউক এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দিয়ে আসছেন।তাঁদের অভিযোগ, ২০১৯ ও ২০২২ সালে দুদকে করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানা ও মুচলেকা আদায় করে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে পার্কিংয়ের জায়গায় দোকান ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া একটি ফ্ল্যাট বিক্রির পর কাগজপত্র পরিবর্তনের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুদকের অভিযোগের মূল কপি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন, জরিমানা ও মুচলেকার নথি, অনুমোদিত নকশা এবং ফ্ল্যাটের দলিল পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দনজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বুড়িচংয়ের যদুপুর গ্রামের ওমর ফারুককে ধানমন্ডিতে অফিসার্স কোয়ার্টার বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।অভিযোগ অনুযায়ী, ওমর ফারুক পলিটেকনিক্যালের কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট একটি পদে কর্মরত। তাঁকে বরাদ্দ দেওয়া আবাসনটি নিয়মবহির্ভূতভাবে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পদ, চাকরির ধরন, যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে আবেদন, বরাদ্দপত্র এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।সম্পদ অর্জন ও নিয়োগ নিয়ে আরও অভিযোগঅভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যদুপুর গ্রামের রফিক, তোফায়েল, মুমিন ও হাবিবকে নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সুবিধাভোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রায় চার দশক আগে নোয়াখালী থেকে আসা এই পরিবারটি পরবর্তী সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। তবে সম্পদের পরিমাণ ও অর্জনের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে জমির দলিল, আয়কর নথি, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন যাচাই করা প্রয়োজন।অভিযোগে বলা হয়েছে, মুমিন ঘুষের বিনিময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালকের পদ পেয়েছেন। অল্প সময়ে আদাবর, উত্তরা, বসুন্ধরা, কুমিল্লা, দৌলতপুর ও বুড়িচংয়ে প্লটের পাশাপাশি স্কুল ও হাসপাতালের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া মুমিনের আত্মীয় দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে সোহেল রানাকে বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সিস্টেম অ্যানালিস্ট শাহিনের মাধ্যমে নিয়োগ-সংক্রান্ত জালিয়াতি করা হয়। এসব অভিযোগের পক্ষে নিয়োগ নথি, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।খিলক্ষেতের স্টক এক্সচেঞ্জে কর্মরত কাজী মামনের বিরুদ্ধেও একাধিক ভবনের ফ্ল্যাটের মালিক হওয়া এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ দখল, বদলি-বাণিজ্য ও ঠিকাদারি কাজের তদবির করার অভিযোগ উঠেছে। এসব দাবি যাচাই করতে তাঁর সম্পদ অর্জনের উৎস, ফ্ল্যাটের দলিল, চাকরি থেকে প্রাপ্ত আয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক পরীক্ষা করা প্রয়োজন।ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিঅভিযোগকারীরা নজরুল ইসলামকে ঘিরে থাকা কথিত বলয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেছেন। তালিকায় রয়েছে কনটেক ডেভেলপার, ওয়নল্যান্ড ডেভেলপার, কনফিডেন্স গ্রুপ, রোজ গার্ডেন অ্যাসোসিয়েশন, মিশন ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট, বুড়িচং পলিটেকনিক, বুড়িচং আধুনিক হাসপাতাল, বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, রওশন-সিরাজ ফাউন্ডেশন, মিশন শ্যামলিমা, মিশন লাইট হাউজ, মিশন গার্ডেন ঢাকা এবং কনফিডেন্স সফটওয়্যার।অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনোটি ভবন নির্মাণ, সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি তুষারধারা আবাসিক এলাকার একটি ঠিকানা ব্যবহার করে দীর্ঘদিন আড়ালে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।তবে সব প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত বলা যায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, প্রকৃত মালিকানা, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ভবনের অনুমোদন আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিঅভিযোগকারীরা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বর্তমান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। একই সঙ্গে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা ভবনগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।তাঁদের দাবি, সাবেক সচিব নজরুল ইসলামের পদোন্নতি-সংক্রান্ত আদেশ, তুষারধারার ভবনগুলোর অনুমোদিত নকশা, অকুপেন্সি সনদ, রাজউকের অভিযানসংক্রান্ত নথি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ ও পদায়নের বৈধতা এবং সম্পদ অর্জনের উৎস যাচাই করা হোক।একজন সরকারি কর্মকর্তার পদোন্নতি, সম্পদ অর্জন কিংবা কোনো ভবনের মালিক হওয়া নিজে থেকেই অপরাধের প্রমাণ নয়। তবে সরকারি পদে থেকে প্রভাব খাটানো, বিধিবহির্ভূত নির্মাণে সহায়তা, অবৈধ সম্পদ অর্জন কিংবা নিয়োগ ও বদলি-পদায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।নজরুল ইসলামকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পর্যালোচনা, অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।আসিফ মাহমুদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনি বৃহস্পতিবার এ নোটিশ পাঠান।গত ২ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে আখতারুল ইসলাম বলেছিলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়া গেছে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের তদন্ত বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার এমন বক্তব্যের কারণে আসিফ মাহমুদকে ঘিরে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ শুরু হয় এবং তাঁর সম্পর্কে জনমনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়।পরে সাংবাদিকদের দুদক বিটের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আখতারুল ইসলাম তাঁর ওই বক্তব্য ভুলবশত দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করে একটি বার্তা দেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ‘প্রাথমিক সত্যতা’ কথাটি বাদ দেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। তবে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।নোটিশে অভিযোগের তথ্যগত অসঙ্গতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিলের অভিযোগ করা হলেও বাস্তবে ১১২ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।এ ছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে পদোন্নতির ঘটনায় আসিফ মাহমুদকে জড়ানোর বিষয়টিকেও ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।আইনি নোটিশ অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি দেওয়া হয় ২০২৬ সালের ১১ মে। অর্থাৎ তাঁর পদত্যাগের প্রায় পাঁচ মাস পর এবং বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় ওই পদোন্নতি হয়।নোটিশে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য ১৫ দিনের মধ্যে একইভাবে নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাচাই করা ও প্রমাণসমর্থিত তথ্য ছাড়া কোনো বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদক কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশ

বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগ, সাবেক বিসিবি পরিচালকসহ ৩ জন সাময়িক নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে বিসিবির সাবেক এক পরিচালকসহ তিনজনকে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টি-করাপশন কোডের একাধিক ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট এই পদক্ষেপ নিয়েছে।সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া তিনজন হলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান (শামীম), সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।বিসিবির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ম্যাচের ফলাফল কিংবা খেলার স্বাভাবিক গতিপথ অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে অন্যদের প্ররোচিত করা, ফিক্সিং-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাওয়ার তথ্য গোপন রাখা এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগেরও তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।শামীমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগমোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে বিপিএলের ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা ম্যাচের কোনো অংশের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা, অন্যকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার পর তা বিসিবির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে (আকসু) না জানানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।এ ছাড়া তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলে তদন্তপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।জাকির ও সানির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগসাবেক এসএলও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল প্রভাবিত করার অপচেষ্টায় সহায়তা করা এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত দলের সঙ্গে সহযোগিতা না করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।অন্যদিকে রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তপ্রক্রিয়ায় অসহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।১৪ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবেসাময়িক নিষেধাজ্ঞার নোটিশ দিয়ে বিসিবি অভিযুক্ত তিনজনকে কারণ দর্শানোর জন্য ১৪ দিনের সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।অভিযুক্তদের লিখিত জবাব পর্যালোচনার পর আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের সংশ্লিষ্ট নীতি ও ধারা অনুসরণ করে চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে বলে বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এটি সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগ, সাবেক বিসিবি পরিচালকসহ ৩ জন সাময়িক নিষিদ্ধ