ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আমিনুল-জাহাঙ্গীর

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নেতৃত্বে আলোচনায় আমিনুল-জাহাঙ্গীর

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দলটির ভেতরে চলছে নানা সমীকরণ। গুরুত্বপূর্ণ এই সাংগঠনিক ইউনিটের নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও বিতর্কমুক্ত নতুন নেতৃত্বকে জায়গা দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম।সম্প্রতি রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলাজনিত কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এরপর থেকেই মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।দলীয় সূত্র জানায়, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাদের ভূমিকা, ত্যাগ, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকার গঠনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের কারণে যাতে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে চায় দলটি।বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আমার দেশকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। যেহেতু পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে, শিগগির নতুন কমিটি গঠন করা হবে। কীভাবে কমিটি দেওয়া হবে, সেটা পার্টি সিদ্ধান্ত দেবে।’দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা জানান, শিগগিরই নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে। কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি হবে, নাকি কেন্দ্র থেকে সরাসরি ঘোষণা দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম। নতুন কমিটিতে অভিজ্ঞ ও অপেক্ষাকৃত নতুন নেতৃত্বের সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।ভোটাধিকার আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত ঢাকার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই ইউনিটের আগের কমিটি বিলুপ্তির পেছনে নিচের সারির কিছু নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের পাশাপাশি নেতাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতাও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি রয়েছে দলের ভেতরে।সভাপতি পদে আমিনুল, সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীরের নামনতুন কমিটির সভাপতি পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল হক। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন।এ ছাড়া শীর্ষ নেতৃত্বের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, আব্দুর রাজ্জাক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ড. এমএ কাইয়ুম, মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব এবং আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের নাম।সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা আমিনুল হক বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর যুব প্রশিক্ষণ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্টেডিয়াম ও মিনি মাঠ নির্মাণ, খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ড এবং মাদকমুক্ত যুবসমাজ গঠনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ও দেশজুড়ে সাড়া ফেলেছে।ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিতে আমিনুলের দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও আলোচনায় রয়েছে। ২০২১ সালের ২ আগস্ট গঠিত ৪৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে তিনি সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাইফুল আলম নীরব আহ্বায়কের দায়িত্ব পেলে আমিনুল আবারও সদস্যসচিব হন। পরে ৪ নভেম্বর ঘোষিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটিতে তাঁকে আহ্বায়ক করা হয়।মহানগর উত্তরের নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, আমিনুল দায়িত্বে থাকার সময় জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় রাখতে পেরেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংগঠনকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচন থাকায় সংগঠন শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন বলেও মনে করেন তাঁরা।তৃণমূলের নেতাদের কেউ কেউ আমিনুলের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ভূমিকার কথাও তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি ৪২টি মামলার মুখোমুখি হন এবং চারবার কারাবরণ করেন। একাধিকবার রিমান্ডে নির্যাতনের শিকারও হন তিনি। তাঁদের মতে, নতুন কমিটি গঠনের সময় এসব ত্যাগ ও রাজনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়ন করা উচিত।সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক আমার দেশকে বলেন, ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনের পর থেকে আমিনুল জ্যেষ্ঠ ও নবীন নেতাদের একসঙ্গে রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে যেভাবে সক্রিয় রেখেছেন, অতীতের কোনো নেতৃত্ব তা পারেনি। এ বিবেচনায় নতুন কমিটিতে আমিনুলকে পুনর্বিবেচনা করা উচিত।বাড্ডা থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বাবু বলেন, বিগত সময়ে যাঁরা রাজপথে ছিলেন, তাঁদের দিয়েই কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। জুলাই বিপ্লবসহ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ঢাকা মহানগরকে ঐক্যবদ্ধ রাখার পেছনে আমিনুলের বড় ভূমিকা ছিল। সভাপতি হিসেবে তাঁকে পেলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুশি হবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।সাধারণ সম্পাদক পদে জাহাঙ্গীরের অভিজ্ঞতাসাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা জাহাঙ্গীর হোসেনেরও রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা। ১৯৯০ সালে তিনি তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব হন। পরে কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপির দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকার কারণে একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন জাহাঙ্গীর। ২০২৩ সালে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও কারাবাস করতে হয় তাঁকে।আলোচনায় নীরবও, তবে রয়েছে জটিলতাশীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছেন মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তাঁকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়। এখনো তিনি দলে ফিরতে পারেননি।এরপরও দলীয় আনুগত্য, জনপ্রিয়তা, সক্রিয় রাজনীতি এবং দলের দুর্দিনে ভূমিকার কারণে শেষ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।তৃণমূলের প্রত্যাশা ত্যাগী নেতৃত্বনতুন কমিটি নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দলের দুঃসময়ে যাঁরা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মূল্যায়ন করা হোক। একই সঙ্গে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার পক্ষে মত দিয়েছেন তাঁরা।দলীয় পর্যায়ে নতুন প্রজন্মের দক্ষ নেতাদেরও কমিটিতে জায়গা দেওয়ার চিন্তা রয়েছে। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিলে তৃণমূলে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার শুধু পুরোনো নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সংগঠনের সমন্বয় কঠিন হতে পারে। এ কারণে অভিজ্ঞ ও নতুন নেতৃত্বের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

যেকোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় ঢাবির একাধিক নেতা

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে। এরপর থেকেই নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা চলছে। ছাত্রদলের প্রায় সব সাংগঠনিক ইউনিটের কাজ শেষ করে নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্তমান নেতারা। এখন নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের অপেক্ষা।ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৎপরতাও বেড়েছে। নিজ নিজ বলয়ে যোগাযোগের পাশাপাশি বিএনপির হাইকমান্ডের মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকে। তবে নতুন কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির। সংগঠনের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই হিসাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, তাঁদের কাজ প্রায় শেষ। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন প্রয়োজন মনে করবেন, তখন নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে।নেতৃত্বে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছেবিএনপি ও ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দলের প্রতি আনুগত্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অতীতের মতো কোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব বা ‘পকেট কমিটি’র বদলে পরীক্ষিত ও দক্ষ নেতৃত্ব বাছাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দীর্ঘদিন সময়মতো কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদলে নেতৃত্বের একটি জট তৈরি হয়েছে। তাই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এ কারণে ২০০৮-০৯ থেকে পরবর্তী কয়েকটি শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্য থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।ঢাবি থেকে যাঁদের নাম আলোচনায়নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে।২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি খোরশেদ আলম সোহেল আলোচনায় রয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি তিনি হামলা, মামলা, কারাবরণ ও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি ছাড়াও কেন্দ্রীয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।একই ব্যাচের মনজুরুল আলম রিয়াদ, এবিএম ইজাজুল কবির রুয়েল ও সাফি ইসলামও আলোচনায় রয়েছেন। রিয়াদ বর্তমান কমিটির সহসভাপতি এবং এর আগে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অমর একুশে হলের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। রুয়েল আন্দোলন-সংগ্রামের সময় একাধিক মামলার আসামি হয়ে কারাবরণ করেছেন।২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, ২ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান ও মোস্তাফিজুর রহমানের নাম রয়েছে।জিসান দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনে সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর দাবি, দল ও নেতাকর্মীদের প্রয়োজনে তিনি নিজের সাধ্যের মধ্যে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তবে দলের সিদ্ধান্তই তাঁর কাছে চূড়ান্ত।ফারুক হোসেনকে ক্লিন ইমেজের নেতা ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে বর্ণনা করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আমানউল্লাহ আমান ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলনের সময় হামলায় আহত হওয়ার পাশাপাশি তিনি মামলায় গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মোস্তাফিজুর রহমান ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী ছিলেন।আরও যাঁদের নিয়ে আলোচনা২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তারিক, ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র সাহস, সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম বিল্লাহ মাসুম ও সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের নামও আলোচনায় রয়েছে।তারিক আন্দোলন-সংগ্রামে একাধিকবার হামলা, গুলিবিদ্ধ ও গ্রেপ্তারের শিকার হয়েছেন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দেওয়া দায়িত্ব পালন এবং রাজপথের সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁকে সাধারণ সম্পাদক পদে বিবেচনার আলোচনা রয়েছে।অনিক ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের মনোনীত জিএস প্রার্থী ছিলেন। আন্দোলনের সময় তিনি গুম ও কারাবরণের শিকার হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহামেদ, গাজী মো. সাদ্দাম হোসেন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স এবং ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন সমীকরণে রাজু আহামেদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পদের আলোচনায় এগিয়ে আছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।রাজু আহামেদ বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নবোদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সারা দেশের ছাত্রদল অপেক্ষা করছে। তাঁদের আশা, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান অচিরেই নতুন কমিটি ঘোষণা করবেন।এ ছাড়া ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের নূর আলম ভূঁইয়া ইমনের নামও আলোচনায় রয়েছে। সিনিয়রদের মধ্যে ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাছির ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমের নাম সভাপতি পদে আলোচনায় এসেছে। তবে নাছির জানিয়েছেন, তিনি নতুন কমিটিতে থাকতে চান না।ঢাবির বাইরেও কয়েকজন আলোচনায়ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সম্ভাব্য নেতৃত্ব হিসেবে ছাত্রদলের বর্তমান সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আবু হোরায়রা ও সাধারণ সম্পাদক এম রাজীবুল ইসলাম তালুকদার বিন্দুর নাম রয়েছে।ডা. আউয়াল আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবায় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন। কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত আন্দোলনের সময় মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক কমিটিবর্তমান রাকিব-নাছির কমিটির অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে প্রায় সব সাংগঠনিক ইউনিটে কমিটি গঠনের বিষয়টি তুলে ধরছেন নেতারা।ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছিরের ভাষ্য, তাঁদের মেয়াদে প্রায় ২ হাজার ১০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও মহানগরের প্রায় সব কমিটিও দেওয়া হয়েছে। পাঁচ থেকে সাতটি কমিটি এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।তিনি বলেন, দেশের এক হাজারের বেশি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কমিটি দিয়ে একটি সাংগঠনিক কাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। বাকি কমিটিগুলোর কাজও শেষ হয়েছে; দল চাইলে সেগুলো জমা দেওয়া যাবে।নাছির আরও বলেন, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার কাজের সঙ্গে নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি চলমান সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, পরবর্তী নেতৃত্ব এসে তা সম্পন্ন করবে।নতুন কমিটি কবে ঘোষণা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন কমিটি এখন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে এবং যেকোনো সময় ঘোষণা আসতে পারে।

যেকোনো সময় ছাত্রদলের নতুন কমিটি, আলোচনায় ঢাবির একাধিক নেতা