ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাচ্ছেন না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাচ্ছেন না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশকে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে ঢাকা সন্তুষ্ট নয়। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন না। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকসের অষ্টাদশতম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত।গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থের কথা ভাবব।’ বাণিজ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই।

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলোচনা ও সম্মানজনক আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে।গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাড়াহুড়ো করতে চায় না। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক থাকবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা এবং নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে ভারতকে যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে। সম্মানজনক পরিবেশ ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রয়োজন নেই।ভারতকে নিয়ে অসন্তোষবাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপতৎপরতার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিহুমায়ুন কবির বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চলছে।তিনি জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও নতুন রপ্তানি বাজার তৈরিতে কাজ করছে সরকার।রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর