ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার আলোচনা

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার আলোচনা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান।সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।আলোচনায় দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিয়মিত যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, বিশেষায়িত কোর্স ও প্রশিক্ষণ বিনিময় এবং সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করেন দুই পক্ষ।এ ছাড়া আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিকস সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে যৌথ অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়।সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান। তিনি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্ব আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ‘জ্যাভেলিন’ কিনতে চুক্তি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ফরেন মিলিটারি সেলস (এফএমএস) প্রক্রিয়ার আওতায় এ চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর চুক্তিটিকে ‘বড় খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত জ্যাভেলিন কেনার উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও তিনি জানান।ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৬০টি জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চুক্তিটির মূল্য প্রায় ২৯২ কোটি রুপি। জরুরি ক্রয়ক্ষমতার আওতায় এ কেনাকাটা করা হয়েছে। তবে চুক্তির সঠিক সংখ্যা ও মূল্য মার্কিন দূতাবাস বা যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।যেভাবে কাজ করে জ্যাভেলিনজ্যাভেলিন কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। একজন সেনাসদস্য এটি বহন ও উৎক্ষেপণ করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।জ্যাভেলিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ প্রযুক্তি। লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর নিক্ষেপকারীকে আর সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেই লক্ষ্য অনুসরণ করে।এ কারণে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর সেনাসদস্য দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন। শত্রুপক্ষ পাল্টা আঘাত করার আগেই নিরাপদ অবস্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।জ্যাভেলিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা হলো ট্যাংকের ওপরের তুলনামূলক কম সুরক্ষিত অংশে আঘাত করা। পাশাপাশি সাঁজোয়া যান ও বাংকারের মতো সুরক্ষিত অবস্থানও এর লক্ষ্য হতে পারে। এ কারণে প্রচলিত যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি শহরাঞ্চলেও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।কেন জ্যাভেলিন কিনছে ভারতআধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা ভারত দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছে। একই সঙ্গে দেশটি নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দেশীয় ব্যবস্থাটি এখনো উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর্যায়ে থাকায় দ্রুত সক্ষমতা বাড়াতে বিদেশি অস্ত্র কেনার পথে এগিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী।ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, গত বছরের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর পর সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে জরুরি ক্রয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি সরঞ্জামের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি রুপি পর্যন্ত কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে। জ্যাভেলিন কেনার চুক্তিও এই সীমার মধ্যে করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ভারতীয় সূত্রের বরাতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শেষ নাগাদ জ্যাভেলিন সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।এর আগেও অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রভারতকে জ্যাভেলিন বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্র আগেই দিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতকে জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দেয়।মার্কিন প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (ডিএসসিএ) জানিয়েছিল, সম্ভাব্য ওই বিক্রির আনুমানিক মূল্য ছিল ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবে ১০০টি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভেলিন রাউন্ড, একটি পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৫টি লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিটের কথা ছিল। এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।তবে সেটি ছিল সম্ভাব্য ফরেন মিলিটারি সেলসের অনুমোদন। তাই ২০২৬ সালের নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে ৪৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার বা ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্রকে চূড়ান্ত চুক্তির মূল্য বা সংখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা ঠিক হবে না।প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাজ্যাভেলিন কেনার চুক্তিকে শুধু অস্ত্র ক্রয় হিসেবে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরের বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদনের পথও খুলতে পারে এই চুক্তি।গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করতে ১০ বছরের একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় জ্যাভেলিন চুক্তিকে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের আরেকটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।সামরিক ব্যয়ের দিক থেকেও ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় দেশ। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক খাতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান পঞ্চম। অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও দেশটি বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।ফলে জ্যাভেলিনের মতো আধুনিক ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র সংগ্রহ ভারতের সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ। পাশাপাশি নতুন এই চুক্তি নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকেও আরও দৃশ্যমান করল।সূত্র: এনডিটিভি, রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত হলো ‘জ্যাভেলিন’ ক্ষেপণাস্ত্র