ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকালেন মার্কিন দুই ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকালেন মার্কিন দুই ডেমোক্র্যাট

ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় আপত্তি জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। একই অবস্থান নিয়ে প্রস্তাবিত অস্ত্র সরবরাহে বাধা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস।এর ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহের উদ্যোগ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরের বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রতিটি বোমার ওজন প্রায় এক টন বা ২ হাজার পাউন্ড। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।সিনেটর জিন শ্যাহিনের অভিযোগ, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বন্ধে এবং মার্কিন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটি এবং প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যরা অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দিতে পারেন। অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সাধারণত পররাষ্ট্র দপ্তরকে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগের বিষয়টি সমাধান করে সম্মতি নিতে হয়।প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকসও সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিন শ্যাহিন বলেন, ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন বলেন, নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না।তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে। নিহতদের বড় অংশ নারী ও শিশু।এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের আপত্তির মুখে পড়েছে।

ফিলিস্তিনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা নতুন ওআইসি মহাসচিবের

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মৌরিতানিয়ার কূটনীতিক ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার ওআইসির ৫৭ সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাঁকে এ পদে নির্বাচিত করেন।বর্তমানে ওআইসির মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন চাদের হুসেইন ইব্রাহিম তাহা। ২০২১ সালের নভেম্বরে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আগামী নভেম্বরে তাঁর মেয়াদ শেষ হলে ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ মহাসচিবের দায়িত্ব নেবেন।ফিলিস্তিনকে অগ্রাধিকারনতুন মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ফিলিস্তিন ইস্যুকে ওআইসির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখার কথা জানিয়েছেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক—তিন ক্ষেত্রেই ফিলিস্তিন ইস্যু ওআইসির আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকবে।ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলায়ও সংস্থাটির কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক বক্তব্য প্রতিরোধ, পারস্পরিক সংলাপ ও সম্মান বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিস্তৃত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।আফ্রিকার সমর্থন পেয়েছিলেন শুরুতেইইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের প্রার্থিতা শুরু থেকেই আফ্রিকার সমর্থন পায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আফ্রিকান ইউনিয়ন ২০২৭ থেকে ২০৩২ মেয়াদের জন্য তাঁকে ওআইসির মহাসচিব পদে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেয়।ওআইসির সনদ অনুযায়ী, মহাসচিবের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই মেয়াদ একবার নবায়ন করা যায়। মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক ভারসাম্য, পালাক্রমে দায়িত্ব প্রদান এবং সমান সুযোগের নীতি বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়।সনদে আরব, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে মহাসচিবের পদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো ধারাবাহিকতা নেই। তবে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ভৌগোলিক ভারসাম্য ও পালাক্রমের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।জাতিসংঘে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা৬৬ বছর বয়সী ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অভিজ্ঞতা তিন দশকের বেশি। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কাজ করার পাশাপাশি জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মৌরিতানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।২০১৪ সালে লিবিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-বিশেষ প্রতিনিধি, আবাসিক সমন্বয়কারী ও মানবিক সমন্বয়কারী হিসেবেও কাজ করেছেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।এর আগে ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের প্রতিনিধি ছিলেন। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সিরিয়াতেও একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।দীর্ঘ কূটনৈতিক ও জাতিসংঘের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামী নভেম্বরে বিশ্বের ৫৭টি মুসলিম দেশের জোট ওআইসির নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন ইসমাইল উলদ শেখ আহমেদ।সূত্র: আনাদোলু

ফিলিস্তিনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা নতুন ওআইসি মহাসচিবের

গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও ৩০০ দিনে নিহত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ

গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পরও শিশুদের প্রাণহানি থামেনি। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর ঘোষিত তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পর গত ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ, গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে শত শত শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের অবস্থা গুরুতর।বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার জন্য ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়ও যদি প্রতিদিন একটি করে শিশু নিহত হয়, তবে তা শিশুদের সুরক্ষায় ব্যর্থতারই প্রমাণ। তার ভাষায়, গাজার শিশুরা এখনও সেই সহিংসতার অবসানের অপেক্ষায় রয়েছে, যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছিল।ইউনিসেফ জানায়, গাজার বাসিন্দারা এখন অবরুদ্ধ ভূখণ্ডের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সীমাবদ্ধ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো অপুষ্টি, রোগব্যাধি, নিরাপদ পানির সংকট এবং ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো নানা দুর্ভোগের মুখে রয়েছে। ইনকিউবেটরের সংকটের কারণে একাধিক অপরিণত নবজাতককে একই যন্ত্র ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।অঞ্চলটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইউনিসেফের হিসাবে, ৫৮ হাজারের বেশি শিশু তাদের বাবা-মায়ের একজন বা উভয়কেই হারিয়েছে। এছাড়া ১০ লাখের বেশি শিশুর সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা প্রয়োজন। সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল, প্রায় ১৭ হাজার শিশু অভিভাবকহীন বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট পশ্চিম গাজা সিটিতে এক হামলায় এক গর্ভবতী নারী, তার স্বামী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান নিহত হন। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ওই নারীর গর্ভস্থ অনাগত সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ইউনিসেফের মতে, চলমান সংঘাত শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব কেড়ে নিয়েছে। খেলাধুলার বদলে অনেক শিশুকে পানি সংগ্রহ, খাবারের লাইনে দাঁড়ানো ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে সময় কাটাতে হচ্ছে। বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে খেলাধুলার সরঞ্জাম, কাগজ-কলম ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণেরও তীব্র সংকট রয়েছে।সংস্থাটির মে মাসের এক মূল্যায়নে বলা হয়, গাজায় ছোট শিশুদের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পরিবেশ নেই। দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় স্কুলপড়ুয়া শিশুরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।ইউনিসেফের ফিলিস্তিনবিষয়ক যোগাযোগ প্রধান জোনাথন ক্রিক্স এর আগে বলেছিলেন, যুদ্ধ শিশুদের কাছ থেকে যা কেড়ে নিয়েছে, খেলাধুলা তার অনেকটাই ফিরিয়ে দিতে পারে। তাই খেলাধুলা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক প্রয়োজন।সাম্প্রতিক সংঘাত কমানোর উদ্যোগ ও ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে এডুয়ার্ড বেইগবেডার বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হবে কি না, পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাবে কি না, হাসপাতালগুলো আবার চালু হবে কি না এবং নিরাপদ পানির সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কি না।আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা। এ উপলক্ষে ইউনিসেফ চলতি সপ্তাহে ৬০০ প্যালেটের বেশি শিক্ষা উপকরণ ও সাবান গাজায় পাঠিয়েছে।

গাজায় ‘যুদ্ধবিরতির’ পরও ৩০০ দিনে নিহত ৩০০ শিশু: ইউনিসেফ