ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বন্যা পুনর্বাসনে সরকার একা নয়, অংশীদার হচ্ছে বেসরকারি খাত ও এনজিও: অর্থমন্ত্রী

বন্যা পুনর্বাসনে সরকার একা নয়, অংশীদার হচ্ছে বেসরকারি খাত ও এনজিও: অর্থমন্ত্রী

বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।রোববার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের কার্যক্রমকে শুধু সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সক্ষমতাকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক মডেল তৈরি হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন পক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।ত্রাণ বিতরণে দক্ষতার ওপর গুরুত্বআমির খসরু বলেন, দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ও সঠিকভাবে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দেশে ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অপচয় এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে অনেক সময় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় না।সরকার প্রাথমিক পর্যায়ে জরুরি সহায়তা দেওয়ার কাজ করলেও পুনর্বাসনের পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওকে যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা এবং অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।ফ্যামিলি কার্ডে ত্রুটি ১.২ শতাংশফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, এতে ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই ত্রুটির হার খুবই কম বলে মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ রাখা হবে না।দুর্নীতি কমাতে বেসরকারি অংশীদারত্বঅর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে সব ধরনের সহায়তা কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা কঠিন। সেখানে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত থাকলে কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ে এবং অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে।তিনি বলেন, বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত তাঁর জানা মতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমেও এ ধরনের কোনো অভিযোগ তিনি দেখেননি বলে জানান।৩ পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাকে সরকারের কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন আমির খসরু।তিনি বলেন, এসব ব্যবস্থা একদিকে সহায়তা বিতরণের তদারকি করছে, অন্যদিকে সরকারের সম্পদের অপচয় ও দুর্নীতি রোধে ভূমিকা রাখছে।বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে ব্র্যাকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর এই যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে।তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে কোনো সহায়তাকেই পূর্ণাঙ্গ সহায়তা বলা যায় না। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, দুই উপজেলায় বিক্ষোভ

ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে মাগুরার মহম্মদপুর ও বাগেরহাটের চিতলমারীতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।গতকাল রোববার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ ও চিতলমারী উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে পৃথক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।মহম্মদপুরে ইউএনওর অপসারণের দাবিমাগুরার মহম্মদপুরে ফ্যামিলি কার্ডের শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রীর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপির একটি অংশ।বিক্ষোভকারীরা নিয়োগ বাতিল করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ, নীতিমালা অনুসরণ না করে একটি পক্ষের সুপারিশে বৈষম্যের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যাসিস্ট ও ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও করেন তাঁরা।রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব কর্মসূচি চলে। এতে বক্তব্য দেন মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম খান বাচ্চু, সাবেক সভাপতি গোলাম আজম সাবু মিয়া, সাবেক সদস্যসচিব আকতারুজ্জামান আক্তার, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য সাজ্জাদুল আলম খান নান্নু, যুবদল নেতা শেখ শাহানুর রহমান ও জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পারভেজ আলমসহ অনেকে।তবে বিএনপির আরেকটি অংশের নেতা ও মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মৈয়ুর আলী মৃধা দাবি করেন, ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগ স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই হয়েছে। এ দাবিতে তাঁর নেতৃত্বে মিছিল-সমাবেশও করা হয়।অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে নীতিমালা অনুসরণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।চিতলমারীতে দুই কর্মকর্তার অপসারণ দাবিবাগেরহাটের চিতলমারীতে ফ্যামিলি কার্ডের খানা তথ্যভান্ডারের জন্য লোক নিয়োগে অনিয়ম, বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।ইউএনও খাদিজা আক্তার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রণজিৎ বিশ্বাসের অপসারণের দাবিতে রোববার উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা ব্যানার, ঝাড়ু ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। এ সময় ইউএনও, সমাজসেবা, শিক্ষা ও মৎস্য অফিসসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের দরজা বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ডিজিটাল জরিপকাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং অতিরিক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তা অনুসরণ না করে বৈষম্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।বিএনপি নেতা ও বাগেরহাট-১ আসনের সাবেক প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বিক্ষোভে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া। এ কর্মসূচিতে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।সমাবেশে শরিফুল হাসান অপু, অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, শিপন মুন্সি, জাকারিয়া মিলন, নিয়ামত আলী খান ও জবরুল শেখসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

ফ্যামিলি কার্ডের জনবল নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, দুই উপজেলায় বিক্ষোভ