বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণাগার, এফটিআইআর প্রযুক্তিতে হবে দূষণ শনাক্ত
উপকূলীয় অঞ্চলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ শনাক্তকরণ ও
এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হয়েছে নতুন
একটি গবেষণাগার। আধুনিক ফোরিয়ের-ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড (এফটিআইআর) ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার
করে বিভিন্ন পরিবেশগত নমুনায় থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত
ও বিশ্লেষণ করা হবে এখানে।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায়
বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে গবেষণাগারটির উদ্বোধন করা হয়। একই
সঙ্গে গবেষকদের জন্য প্রযুক্তিটির ব্যবহার
নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রধান
অতিথি হিসেবে গবেষণাগারটির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
অধ্যাপক ড. মো. মামুন
অর রশিদ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক ড. হালিমা বেগম।
প্রশিক্ষক ছিলেন স্পেকট্রালিটি সায়েন্টিফিক ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের ফিল্ড সার্ভিস বিশেষজ্ঞ অমিত বি. রানে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন টেকনোওয়ার্থ অ্যানালিটিক্যাল লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আসিফ চৌধুরী।এ ছাড়া রসায়ন
বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মাসুদ পারভেজসহ
সংশ্লিষ্ট গবেষক, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে
উপস্থিত ছিলেন।উপকূলের দূষণ নিয়ে গবেষণায় জোরউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন
অর রশিদ বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক
গবেষণাগার স্থাপন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার
খুলেছে।তিনি বলেন, উপকূলীয়
অঞ্চলে প্লাস্টিক দূষণ শনাক্তকরণে বিশ্ববিদ্যালয়
ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুধু নিজেদের
গবেষণাই নয়, পুরো উপকূলীয়
অঞ্চলে এ ধরনের গবেষণা
ও সেবা দেওয়ার সুযোগ
তৈরি হবে।মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের জীবন ও পরিবেশে
কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, গবেষণার মাধ্যমে তা আরও স্পষ্টভাবে
তুলে ধরা সম্ভব হবে
বলেও উল্লেখ করেন উপাচার্য। ভবিষ্যতে
এই গবেষণাগারের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের
জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও গবেষণা করা
যাবে বলে আশা প্রকাশ
করেন তিনি।যে প্রকল্পের আওতায় গবেষণাগারবাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে একটি গবেষণা শীর্ষক
উপ-প্রকল্পের আওতায় গবেষণাগারটি স্থাপন করা হয়েছে।এখানে এফটিআইআর ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন পরিবেশগত নমুনা পরীক্ষা করা হবে। প্রযুক্তিটির
সাহায্যে নমুনায় উপস্থিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের ধরন শনাক্ত ও
বিশ্লেষণের পাশাপাশি গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য
সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।গবেষণাগার উদ্বোধনের দিনই গবেষক ও
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রযুক্তিটির ব্যবহার
নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ
দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে এফটিআইআর
প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতি এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক গবেষণায়
এর ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন এই গবেষণাগার
বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে গবেষণার
সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি পরিবেশ, সামুদ্রিক সম্পদ ও মানুষের ওপর
এ দূষণের প্রভাব নিরূপণেও এটি কাজে আসতে
পারে।