বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সকাল ১১টায় শুরু হওয়া বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের রাজনৈতিক ও চলমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন তাঁরা।সাক্ষাতের শুরুতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রুহুল কবির রিজভীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।বৈঠকে দুই দেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সাক্ষাতে চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন ও রাজনৈতিক অ্যাটাশে লিং শুয়ান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর পিএস কাজী নজরুল ইসলাম এবং এপিএস জাহেদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তির উন্নয়নে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত।ইয়াও ওয়েন বলেন, জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ঘাটতি পূরণে চীন তার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা চলছে।তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে। ওই সফরের মাধ্যমে ‘নতুন যুগে একটি অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায়’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরবর্তী দুই মাসে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।তিনি জানান, চীনের সহায়তায় বাংলাদেশে প্রথম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা নদী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজও বর্তমানে চলমান রয়েছে।ইয়াও ওয়েন আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন রেসিডেন্সিয়াল হল এবং একটি হাসপাতাল নির্মাণের কাজও অত্যন্ত ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে চলছে।দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা ও কাজ চলছে বলে জানান চীনের রাষ্ট্রদূত।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।