রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ বলার বক্তব্যে একমত নয় ঢাকা
মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের
‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটির দেওয়া
সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশ একমত নয় বলে
জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একই
সঙ্গে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমার
সরকার ও আরাকান আর্মির
ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা
চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে সাংবাদিকদের
ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।শামা ওবায়েদ বলেন,
‘অবশ্যই সেটার সঙ্গে আমরা একমত নই।
তাদের নিজেদের একটি আইডেনটিটি আছে।
সেই আইডেনটিটি নিয়েই তারা ফেরত যাবে।’মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠককে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন,
আলোচনাটি ভালো পরিবেশে হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বিষয়গুলো নিয়ে নিজ সরকারের
সঙ্গে কথা বলে দ্রুত
পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন।আন্তর্জাতিক
চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ২০১৭ সালে মানবতা
ও মানবাধিকারের বিবেচনায় বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।তিনি বলেন, রোহিঙ্গা
প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর
চেষ্টা করা হচ্ছে।চীনও এ বিষয়ে
বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ
বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের সময়
চীনা সরকার মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট চাপ
প্রয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছিল।‘সবকিছু ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদ করতে
হয় না’মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক চাপের পরিবর্তে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলা হলেও
বাংলাদেশ কেন আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ
করেনি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে
শামা ওবায়েদ বলেন, সব বিষয়ে প্রকাশ্যে
প্রতিবাদ করলেই যে সমাধান আসবে,
বিষয়টি এমন নয়।তিনি বলেন, মিয়ানমার
সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ
প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা বাংলাদেশ সবসময়ই বলে আসছে। আরাকান
আর্মির ওপরও চাপ প্রয়োগের
বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসছে।পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মিয়ানমার সরকারের
ওপর আস্থা রাখতে চাই। একই সঙ্গে
আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে আরও বেশি জোর
দিচ্ছি, তারাও যেন মিয়ানমারের ওপর
সেই প্রেশারটা ক্রিয়েট করে।