ঢাকা    শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দেশি গরু-ছাগল-মুরগির উৎপাদন বাড়াতে পৃথক পরিকল্পনার আহ্বান: বাকৃবি উপাচার্য

দেশি গরু-ছাগল-মুরগির উৎপাদন বাড়াতে পৃথক পরিকল্পনার আহ্বান: বাকৃবি উপাচার্য

বাণিজ্যিক খামারের জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল জাত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত দেশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।তিনি বলেছেন, দেশের আবহাওয়া ও গ্রামীণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশি জাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব। এ জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খামার ব্যবস্থার উন্নয়নেও পৃথক পরিকল্পনা প্রয়োজন।শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।দেশি গরুর দুধ ১.৫ থেকে ৪ লিটার করা সম্ভবঅধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রায় ৪২ বছর ধরে তিনি একাডেমিক ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। ব্রিডিং খাতে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, উচ্চ উৎপাদনশীল ব্যবস্থায় বেশি দুধ ও মাংস উৎপাদনে সক্ষম গরু, ছাগল ও ভেড়ার জাত উন্নয়ন জরুরি।তবে গ্রামবাংলার প্রচলিত খামার ব্যবস্থায় দেশি জাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।উপাচার্য বলেন, বর্তমানে একটি দেশি গরু গড়ে দেড় লিটার দুধ দিলেও তা চার লিটারে উন্নীত করা সম্ভব। দেশি ছাগলের গড় দুধ উৎপাদন ৩০০ গ্রাম থেকে এক লিটার এবং মুরগির ডিম উৎপাদন বছরে ৫৩টি থেকে অন্তত ১৫০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে।দেশি প্রাণীর বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের আবহাওয়া ও সাধারণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এসব প্রাণীর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো তুলনামূলকভাবে বেশি টেকসই হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।দেশেই গবাদিপশুর টিকা তৈরির আহ্বানসরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাকৃবি উপাচার্য বলেন, উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক খামারের জন্য উন্নত ব্রিডিং ব্যাকআপ ও হাইব্রিড লাইন তৈরি করতে হবে। এতে খামারিরা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারবেন।অন্যদিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাবিহীন গ্রামীণ খামার ব্যবস্থায় দেশি গরু, ছাগল ও মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপযোগী পরিকল্পনা নিতে হবে। পাশাপাশি প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।গবাদিপশুর টিকা দেশেই উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় জীবাণু ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবাদিপশুর টিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।কৃষি নীতিতে বাকৃবির প্রতিনিধিত্ব চান উপাচার্যবাকৃবির অবদান তুলে ধরে অধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ৬৫ বছরের পথচলায় দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় অবদান রাখছেন।কৃষি খাতের নীতিনির্ধারণে বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, ঢাকাকেন্দ্রিকতার কারণে দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিনির্ধারণের বাইরে রাখা সমীচীন নয়।তিনি বলেন, কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে গবেষকেরা প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানো গেলে প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ও টেকসই উন্নয়ন আরও বাড়ানো সম্ভব।সম্মেলনে সাড়ে ৬০০ গবেষক-শিক্ষক-শিক্ষার্থীবিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ।বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান।‘ট্রান্সলেটিং ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনটু সাসটেইনেবল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় সাড়ে ৬০০ গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভেটেরিনারিয়ান অংশগ্রহণ করছেন।