ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দৌলতপুর সীমান্তে চার ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

দৌলতপুর সীমান্তে চার ভারতীয়কে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ব্যর্থ বিএসএফ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার সকালে ঠোঁটারপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। বিজিবির বাধার মুখে ওই চারজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ঠোঁটারপাড়া সীমান্তের ১৫৩/৯-এস পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, সকালে ঠোঁটারপাড়া সীমান্ত দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও বিজিবির নজরে এলে তারা বাধা দেন। এতে বিএসএফের ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।তিনি আরও জানান, পরে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হোগলবেড়িয়া থানার কৃষাণ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ওই চারজনকে ভারতের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যান।কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়কের পক্ষে রোববার সকাল ১০টায় পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঠোঁটারপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ১৪৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের উদয় কিষাণ ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় চার ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী।বিজিবির সতর্ক অবস্থান, তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কার্যকর তৎপরতার কারণে বিএসএফের এ চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে সকাল আটটার দিকে ওই চার ভারতীয় নাগরিক ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। সীমান্তের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাহিনীটি পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

২ ভারতীয়কে বিএসএফের গুলি, রংপুর মেডিকেলে ভর্তি 

সীমান্তে ভুল করে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর গুলি চালিয়েছে ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। এতে ছররা গুলিতে আহত দুই ভারতীয় নাগরিককে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন– আব্দুল আলিম ও ইসমাইল হোসেন। তারা ভারতের আসাম রাজ্যের বাসিন্দা। সোমবার বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘গুলিবিদ্ধ ভারতীয় দুই নাগরিক বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিরা জানান, গত রোববার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তারা সীমান্তে গরু চড়াচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে ভুলবশত তারা বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি চলে এলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি বর্ষণ করে। বার বার ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় দেওয়ার পরও বিএসএফ তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং গুলিবিদ্ধ অবস্থাতে কুড়িগ্রাম সীমান্তে ফেলে রেখে চলে যায়।  পরে গত রোববার রাতে কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী কয়েকজন স্থানীয় জেলে আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাত আনুমানিক ২টার দিকে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা ভারতের আসাম রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের। ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় সব বৈধ কাগজপত্র ও প্রমাণাদি তাদের কাছে রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।

২ ভারতীয়কে বিএসএফের গুলি, রংপুর মেডিকেলে ভর্তি 

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নিহত সোহাগের চাচা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গিয়েছিলেন সোহাগ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালান।গুলির পর সোহাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান তাঁর চাচা আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন। তাঁরা সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা পরীক্ষা করে সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত