ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলোচনা ও সম্মানজনক আমন্ত্রণের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হতে পারে।গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে বাংলাদেশ তাড়াহুড়ো করতে চায় না। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় দুই দেশের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ঢাকা ইতিবাচক থাকবে।তিনি বলেন, বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতা এবং নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে ভারতকে যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে। সম্মানজনক পরিবেশ ছাড়া শীর্ষ পর্যায়ের সফরের প্রয়োজন নেই।ভারতকে নিয়ে অসন্তোষবাংলাদেশের আদালতে দণ্ডিত ও পলাতক ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপতৎপরতার জন্য ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিহুমায়ুন কবির বলেন, সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা চলছে।তিনি জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও নতুন রপ্তানি বাজার তৈরিতে কাজ করছে সরকার।রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কথাও জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা।

তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে দুই ভারতীয় গণমাধ্যমে দুই দাবি

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাঁর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।শুক্রবার ভারতের দ্য ট্রিবিউন–এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ না করা পর্যন্ত তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় এক বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে এমন বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টির ওপর তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর এবং ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ—দুটিই অনেকটা ‘পঞ্চাশ-পঞ্চাশ’ অবস্থায় রয়েছে।তবে ওই বৈঠকের পর ভারতীয় হাইকমিশনার সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের আলোচনায় সমাধান করা সম্ভব নয়—এমন কোনো সমস্যা নেই।এনডিটিভির দাবি, সফরের প্রস্তুতি চলছেঅন্যদিকে ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফরের প্রস্তুতি চলছে।সফরটি হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি চলছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর কিংবা সফর না করার বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি।১২-১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনআগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের নয়াদিল্লিতে উদীয়মান অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের বিশেষ আমন্ত্রণে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে।হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে টানাপোড়েন২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে রায় হওয়ার পর তাঁকে বাংলাদেশে ফেরাতে দিল্লিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় ঢাকা।ভারত সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের দুই ধরনের প্রতিবেদনের মধ্যেও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান পাওয়া যায়নি।

তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে দুই ভারতীয় গণমাধ্যমে দুই দাবি