ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
বন্যার ধকল না কাটতেই নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

বন্যার ধকল না কাটতেই নেপালে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে নেপাল। মঙ্গলবার রাত ৯টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি। এর কয়েক ঘণ্টা আগে তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও তিব্বতে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।এদিকে ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ ও শিলার ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখনো বিপর্যস্ত বিভিন্ন এলাকা। ভোটেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও যানবাহন ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৫৭ জনে। এখনো নিখোঁজ ৫ হাজার ৩২৬ জন। উদ্ধার করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৮৩ জনকে। চীনের তিব্বত অংশেও অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনা গণমাধ্যম। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ খুঁজবে ‘সাইবর্গ আরশোলা’, দিতে পারবে জরুরি ইনজেকশন

ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করা উদ্ধারকারীদের জন্য কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের বদলে ছোট ছোট আরশোলা পাঠিয়ে অনুসন্ধান চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক। শুধু আটকে পড়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করাই নয়, প্রয়োজনে তাঁর কাছে জরুরি চিকিৎসা সহায়তাও পৌঁছে দিতে পারবে এসব ‘সাইবর্গ পতঙ্গ’।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বায়োরোবোটিক্স গবেষকদের নেতৃত্বে এই প্রকল্পে কাজ চলছে। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিকেল প্রকৌশলীরাও।গবেষকেরা এসব পতঙ্গকে ‘প্যারাবর্গ’ নামে অভিহিত করছেন। আরশোলার শরীরে যুক্ত করা হয়েছে ক্যামেরা, ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিশেষ ‘অটো-ইনজেকশন’ ব্যবস্থা। লক্ষ্য হলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন, গুহা কিংবা সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক জায়গায় মানুষের কাছে পৌঁছে জরুরি সহায়তা দেওয়া।ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত ইনজেকশন ব্যবস্থাগবেষণার অংশ হিসেবে ফার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের বিশেষ প্রজাতির গর্ত খোঁড়া আরশোলার শরীরে হালকা ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ইনজেকশন ব্যবস্থা।গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো প্যারাবর্গ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করলে তার কাছাকাছি গিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার মতো ব্যবস্থা করা হবে। তবে চিকিৎসাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বায়োরোবোটিক্স প্রকৌশলী থাং ভো-ডোয়ান বলেন, এত দিন সাইবর্গ পতঙ্গকে মূলত সেন্সর বহন বা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য সেই ধারণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে এসব পতঙ্গকে ক্ষুদ্র ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’-এ পরিণত করা।তাঁদের গবেষণার মূল প্রশ্ন হলো—ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া কোনো মানুষকে যদি একটি সাইবর্গ পতঙ্গ খুঁজে পায়, তাহলে শুধু অবস্থান শনাক্ত না করে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না।ইনজেকশন দেওয়ার পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ সাফল্যপ্রাথমিক পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন গবেষকেরা। লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার পরীক্ষায় প্যারাবর্গগুলোর সাফল্যের হার ছিল ৯৫ শতাংশ।তবে একই সঙ্গে নেভিগেশন ও ইনজেকশন দেওয়ার কাজ করতে গেলে সাফল্যের হার কমে দাঁড়ায় ৭২ শতাংশে।পিএইচডি গবেষক হাই নান লে বলেন, আরশোলাকে লক্ষ্যবস্তুর কাছে নিয়ে গিয়ে সঠিক অবস্থানে স্থির রাখা প্রকল্পটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ইনজেকশন দেওয়ার সময় পতঙ্গটির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।গবেষকদের মতে, মানুষের কাছে এমন বড় আকারের আরশোলা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে ধ্বংসস্তূপ বা গুহার ভেতরে কেউ আটকে থাকলে এই প্রযুক্তি তাঁর কাছে দ্রুত জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।গবেষণা শেষে আরশোলা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেসাইবর্গ পতঙ্গ তৈরির জন্য আরশোলার শরীরে ইলেকট্রোড ও মাইক্রোচিপ স্থাপন করা হয়। এ কাজের সময় তাদের অচেতন করা হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।গবেষণা বা উদ্ধার কার্যক্রম শেষে এসব ইলেকট্রনিক যন্ত্র খুলে ফেলা সম্ভব। এরপর আরশোলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও জীবনযাপন করতে পারে।ভবিষ্যতে কাজ করবে পুরো ‘আরশোলা বাহিনী’গবেষকেরা ভবিষ্যতে এক বা দুটি নয়, বিশেষায়িত সাইবর্গ পতঙ্গের পুরো একটি দল তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের ধারণা, প্রতিটি পতঙ্গকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া গেলে তারা সম্মিলিতভাবে একটি উদ্ধারকারী দলের মতো কাজ করতে পারবে।এতে ধ্বংসস্তূপের বড় এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান চালানো সম্ভব হতে পারে। নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউয়ের প্রধান টিম হাসিওটিস মনে করেন, উদ্ধারকারীরা যেখানে সহজে পৌঁছাতে পারেন না, সেখানে সাইবর্গ পতঙ্গ দিয়ে আহত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত ও জরুরি সহায়তা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতের নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে।গবেষক থাং ভো-ডোয়ানের আশা, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের সাইবর্গ পতঙ্গের উদ্ধারকারী দল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ খুঁজবে ‘সাইবর্গ আরশোলা’, দিতে পারবে জরুরি ইনজেকশন

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা বুধবার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।স্থানীয় সময় গত সোমবার সকালে কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিমাঞ্চলের চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। ভূমিকম্পের কম্পন দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কিবদো শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।ভূমিকম্পের পর ৭০টির বেশি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ছিল ৪-এর বেশি। পরাঘাত ভূমিকম্পের পর স্বাভাবিক ঘটনা হলেও এগুলো উদ্ধার তৎপরতাকে আরও কঠিন করে তুলছে।ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। কোথাও ভবনের একাংশ, আবার কোথাও পুরো ভবনই ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন উদ্ধারকারীরা।নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই দুর্যোগ বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।সাংবাদিকদের দে লা এসপ্রিয়েলা বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য এখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা।’দুর্গত এলাকাগুলোতে জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা পাঠাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সচল করার কাজও চলছে।দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও আসছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মেক্সিকো ও এল সালভাদরও সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৬৫, নিখোঁজ ৪৯৬