ঢাকা    শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ খুঁজবে ‘সাইবর্গ আরশোলা’, দিতে পারবে জরুরি ইনজেকশন



ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ খুঁজবে ‘সাইবর্গ আরশোলা’, দিতে পারবে জরুরি ইনজেকশন
ছবি: সংগ্রহ

ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করা উদ্ধারকারীদের জন্য কঠিন ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের বদলে ছোট ছোট আরশোলা পাঠিয়ে অনুসন্ধান চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক। শুধু আটকে পড়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করাই নয়, প্রয়োজনে তাঁর কাছে জরুরি চিকিৎসা সহায়তাও পৌঁছে দিতে পারবে এসবসাইবর্গ পতঙ্গ

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বায়োরোবোটিক্স গবেষকদের নেতৃত্বে এই প্রকল্পে কাজ চলছে। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিকেল প্রকৌশলীরাও।

গবেষকেরা এসব পতঙ্গকেপ্যারাবর্গনামে অভিহিত করছেন। আরশোলার শরীরে যুক্ত করা হয়েছে ক্যামেরা, ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিশেষঅটো-ইনজেকশনব্যবস্থা। লক্ষ্য হলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন, গুহা কিংবা সংকীর্ণ বিপজ্জনক জায়গায় মানুষের কাছে পৌঁছে জরুরি সহায়তা দেওয়া।

ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত ইনজেকশন ব্যবস্থা

গবেষণার অংশ হিসেবে ফার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের বিশেষ প্রজাতির গর্ত খোঁড়া আরশোলার শরীরে হালকা ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ইনজেকশন ব্যবস্থা।

গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো প্যারাবর্গ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করলে তার কাছাকাছি গিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার মতো ব্যবস্থা করা হবে। তবে চিকিৎসাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বায়োরোবোটিক্স প্রকৌশলী থাং ভো-ডোয়ান বলেন, এত দিন সাইবর্গ পতঙ্গকে মূলত সেন্সর বহন বা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য সেই ধারণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে এসব পতঙ্গকে ক্ষুদ্রফার্স্ট রেসপন্ডার’- পরিণত করা।

তাঁদের গবেষণার মূল প্রশ্ন হলোধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া কোনো মানুষকে যদি একটি সাইবর্গ পতঙ্গ খুঁজে পায়, তাহলে শুধু অবস্থান শনাক্ত না করে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না।

ইনজেকশন দেওয়ার পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ সাফল্য

প্রাথমিক পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন গবেষকেরা। লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার পরীক্ষায় প্যারাবর্গগুলোর সাফল্যের হার ছিল ৯৫ শতাংশ।

তবে একই সঙ্গে নেভিগেশন ইনজেকশন দেওয়ার কাজ করতে গেলে সাফল্যের হার কমে দাঁড়ায় ৭২ শতাংশে।

পিএইচডি গবেষক হাই নান লে বলেন, আরশোলাকে লক্ষ্যবস্তুর কাছে নিয়ে গিয়ে সঠিক অবস্থানে স্থির রাখা প্রকল্পটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ইনজেকশন দেওয়ার সময় পতঙ্গটির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকদের মতে, মানুষের কাছে এমন বড় আকারের আরশোলা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে ধ্বংসস্তূপ বা গুহার ভেতরে কেউ আটকে থাকলে এই প্রযুক্তি তাঁর কাছে দ্রুত জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।

গবেষণা শেষে আরশোলা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে

সাইবর্গ পতঙ্গ তৈরির জন্য আরশোলার শরীরে ইলেকট্রোড মাইক্রোচিপ স্থাপন করা হয়। কাজের সময় তাদের অচেতন করা হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

গবেষণা বা উদ্ধার কার্যক্রম শেষে এসব ইলেকট্রনিক যন্ত্র খুলে ফেলা সম্ভব। এরপর আরশোলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা জীবনযাপন করতে পারে।

ভবিষ্যতে কাজ করবে পুরোআরশোলা বাহিনী

গবেষকেরা ভবিষ্যতে এক বা দুটি নয়, বিশেষায়িত সাইবর্গ পতঙ্গের পুরো একটি দল তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের ধারণা, প্রতিটি পতঙ্গকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া গেলে তারা সম্মিলিতভাবে একটি উদ্ধারকারী দলের মতো কাজ করতে পারবে।

এতে ধ্বংসস্তূপের বড় এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান চালানো সম্ভব হতে পারে। নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউয়ের প্রধান টিম হাসিওটিস মনে করেন, উদ্ধারকারীরা যেখানে সহজে পৌঁছাতে পারেন না, সেখানে সাইবর্গ পতঙ্গ দিয়ে আহত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত জরুরি সহায়তা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতের নগর অনুসন্ধান উদ্ধার কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে।

গবেষক থাং ভো-ডোয়ানের আশা, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে ধরনের সাইবর্গ পতঙ্গের উদ্ধারকারী দল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

বিষয় : প্রযুক্তি অস্ট্রেলিয়া ভূমিকম্প বায়োরোবোটিক্স সাইবর্গ পতঙ্গ উদ্ধার অভিযান

দৈনিক নবকাল

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ খুঁজবে ‘সাইবর্গ আরশোলা’, দিতে পারবে জরুরি ইনজেকশন

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করা উদ্ধারকারীদের জন্য কঠিন ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের বদলে ছোট ছোট আরশোলা পাঠিয়ে অনুসন্ধান চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক। শুধু আটকে পড়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করাই নয়, প্রয়োজনে তাঁর কাছে জরুরি চিকিৎসা সহায়তাও পৌঁছে দিতে পারবে এসবসাইবর্গ পতঙ্গ

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বায়োরোবোটিক্স গবেষকদের নেতৃত্বে এই প্রকল্পে কাজ চলছে। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিকেল প্রকৌশলীরাও।

গবেষকেরা এসব পতঙ্গকেপ্যারাবর্গনামে অভিহিত করছেন। আরশোলার শরীরে যুক্ত করা হয়েছে ক্যামেরা, ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিশেষঅটো-ইনজেকশনব্যবস্থা। লক্ষ্য হলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন, গুহা কিংবা সংকীর্ণ বিপজ্জনক জায়গায় মানুষের কাছে পৌঁছে জরুরি সহায়তা দেওয়া।

ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত ইনজেকশন ব্যবস্থা

গবেষণার অংশ হিসেবে ফার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের বিশেষ প্রজাতির গর্ত খোঁড়া আরশোলার শরীরে হালকা ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ইনজেকশন ব্যবস্থা।

গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো প্যারাবর্গ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করলে তার কাছাকাছি গিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার মতো ব্যবস্থা করা হবে। তবে চিকিৎসাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বায়োরোবোটিক্স প্রকৌশলী থাং ভো-ডোয়ান বলেন, এত দিন সাইবর্গ পতঙ্গকে মূলত সেন্সর বহন বা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য সেই ধারণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে এসব পতঙ্গকে ক্ষুদ্রফার্স্ট রেসপন্ডার’- পরিণত করা।

তাঁদের গবেষণার মূল প্রশ্ন হলোধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া কোনো মানুষকে যদি একটি সাইবর্গ পতঙ্গ খুঁজে পায়, তাহলে শুধু অবস্থান শনাক্ত না করে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না।

ইনজেকশন দেওয়ার পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ সাফল্য

প্রাথমিক পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন গবেষকেরা। লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার পরীক্ষায় প্যারাবর্গগুলোর সাফল্যের হার ছিল ৯৫ শতাংশ।

তবে একই সঙ্গে নেভিগেশন ইনজেকশন দেওয়ার কাজ করতে গেলে সাফল্যের হার কমে দাঁড়ায় ৭২ শতাংশে।

পিএইচডি গবেষক হাই নান লে বলেন, আরশোলাকে লক্ষ্যবস্তুর কাছে নিয়ে গিয়ে সঠিক অবস্থানে স্থির রাখা প্রকল্পটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ইনজেকশন দেওয়ার সময় পতঙ্গটির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকদের মতে, মানুষের কাছে এমন বড় আকারের আরশোলা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে ধ্বংসস্তূপ বা গুহার ভেতরে কেউ আটকে থাকলে এই প্রযুক্তি তাঁর কাছে দ্রুত জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।

গবেষণা শেষে আরশোলা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে

সাইবর্গ পতঙ্গ তৈরির জন্য আরশোলার শরীরে ইলেকট্রোড মাইক্রোচিপ স্থাপন করা হয়। কাজের সময় তাদের অচেতন করা হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।

গবেষণা বা উদ্ধার কার্যক্রম শেষে এসব ইলেকট্রনিক যন্ত্র খুলে ফেলা সম্ভব। এরপর আরশোলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা জীবনযাপন করতে পারে।

ভবিষ্যতে কাজ করবে পুরোআরশোলা বাহিনী

গবেষকেরা ভবিষ্যতে এক বা দুটি নয়, বিশেষায়িত সাইবর্গ পতঙ্গের পুরো একটি দল তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের ধারণা, প্রতিটি পতঙ্গকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া গেলে তারা সম্মিলিতভাবে একটি উদ্ধারকারী দলের মতো কাজ করতে পারবে।

এতে ধ্বংসস্তূপের বড় এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান চালানো সম্ভব হতে পারে। নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউয়ের প্রধান টিম হাসিওটিস মনে করেন, উদ্ধারকারীরা যেখানে সহজে পৌঁছাতে পারেন না, সেখানে সাইবর্গ পতঙ্গ দিয়ে আহত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত জরুরি সহায়তা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতের নগর অনুসন্ধান উদ্ধার কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে।

গবেষক থাং ভো-ডোয়ানের আশা, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে ধরনের সাইবর্গ পতঙ্গের উদ্ধারকারী দল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ খুঁজবে ‘সাইবর্গ আরশোলা’, দিতে পারবে জরুরি ইনজেকশন
0:00 0:00
1.0x