ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
দুর্যোগের আগাম বার্তায় এআই, কতটা বদলাবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি

দুর্যোগের আগাম বার্তায় এআই, কতটা বদলাবে বাংলাদেশের প্রস্তুতি

ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, তাপপ্রবাহ কিংবা শৈত্যপ্রবাহ—প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস দিতে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। বিপুল পরিমাণ আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এআইভিত্তিক মডেল। এর মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।তবে এ প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তাই শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর না করে প্রচলিত আবহাওয়াবিজ্ঞান, বাস্তব পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় তথ্যের সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে এই সমন্বয় কার্যকরভাবে করা গেলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।ঘূর্ণিঝড় ছাড়াও যেসব পূর্বাভাসে এআইআবহাওয়ার পূর্বাভাসে এআইয়ের ব্যবহার শুধু ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ নির্ণয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অতিবৃষ্টি থেকে বন্যার আশঙ্কা, তাপপ্রবাহের স্থায়িত্ব, প্রবল বাতাস, শৈত্যপ্রবাহ এবং কৃষিকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসেও এ প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে।ধরা যাক, কোনো অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এআইভিত্তিক পূর্বাভাসের মাধ্যমে আগাম ধারণা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা, বাঁধের অবস্থা পরীক্ষা করা, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা এবং জরুরি সেবার পরিকল্পনা করার সুযোগ পেতে পারে।একইভাবে, কোনো এলাকায় তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা থাকলে হাসপাতাল, কর্মক্ষেত্র ও জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেভাগে সতর্ক করা সম্ভব। এতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতে পারে।তবে শুধু বৃষ্টিপাত বা তাপমাত্রার পূর্বাভাস দিয়ে স্থানীয় দুর্যোগের ঝুঁকি পুরোপুরি বোঝা যায় না। বন্যার আশঙ্কা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট এলাকার বন্যার মানচিত্র, নদীর পানির স্তর, জনবসতি এবং অন্যান্য স্থানীয় তথ্যের সঙ্গে পূর্বাভাস মিলিয়ে দেখা জরুরি।সম্ভাব্য বিপদের একাধিক চিত্রএআইভিত্তিক পূর্বাভাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে কোনো দুর্যোগের সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা যায়।ধরা যাক, একটি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ নিয়ে কোনো মডেল ৫০টি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করল। এর অধিকাংশ পরিস্থিতিতে ঝড়টি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেল। তবে কয়েকটি পরিস্থিতিতে অন্য এলাকায় আঘাত হানার সম্ভাবনাও দেখা গেল।এ ধরনের বিশ্লেষণ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ধারণা পেতে পারে। এতে শুধু একটি সম্ভাব্য গতিপথের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়।তবে সব সম্ভাবনাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া ঠিক নয়। কোন পরিস্থিতি কতটা সম্ভাব্য এবং কোনটির ঝুঁকি কতটা গুরুতর, তা বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।এআইয়ের পূর্বাভাসে সীমাবদ্ধতা কোথায়আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এআই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এ প্রযুক্তি এখনো সব পরিস্থিতিতে সমান কার্যকর নয়। আবহাওয়া একটি জটিল ও পরিবর্তনশীল ব্যবস্থা। বায়ুমণ্ডলের সামান্য পরিবর্তনও দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি করতে পারে।কোনো অঞ্চলে পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের তথ্য পর্যাপ্ত না হলে এআইভিত্তিক মডেলের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। একইভাবে ঘূর্ণিঝড়ের মতো বিরল বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ঐতিহাসিক তথ্য কম থাকলে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়াও কঠিন হতে পারে।আরেকটি বিষয় হলো, বৈশ্বিক পর্যায়ে ভালো ফল দেওয়া কোনো মডেল স্থানীয় পর্যায়েও একই মাত্রায় নির্ভুল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, স্থানীয় ভূপ্রকৃতি, নদ-নদী, উপকূলীয় পরিবেশ ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য পূর্বাভাসের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।তাই এআইয়ের মাধ্যমে পাওয়া পূর্বাভাস স্থানীয় পর্যবেক্ষণ ও আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।নির্ভুল পূর্বাভাসই শেষ কথা নয়দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু নির্ভুল পূর্বাভাস পাওয়া যথেষ্ট নয়। সতর্কবার্তা কত আগে দেওয়া হলো, তা মানুষের কাছে সময়মতো পৌঁছাল কি না এবং মানুষ সেটি বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারল কি না—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।কোনো মডেল ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ সঠিকভাবে অনুমান করলেও সতর্কবার্তা সময়মতো মানুষের কাছে না পৌঁছালে ক্ষয়ক্ষতি কমানো কঠিন হবে। আবার সতর্কবার্তার ভাষা অস্পষ্ট হলে মানুষ ঝুঁকির মাত্রা বুঝতে ব্যর্থ হতে পারে।অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করলে মানুষ বারবার অপ্রয়োজনীয় আতঙ্কের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, সম্ভাব্য ঝুঁকি কম করে দেখালে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হবে না। এ কারণে এআইয়ের পূর্বাভাস যাচাই, অনিশ্চয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা এবং দায়িত্বশীলভাবে সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থা জরুরি।এআই ও আবহাওয়াবিজ্ঞানের সমন্বয়ই ভবিষ্যৎআবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভবিষ্যৎ এআই ও প্রচলিত আবহাওয়াবিজ্ঞানের সমন্বয়ের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে। এআই দ্রুত বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে, আবহাওয়াবিদেরা বাস্তব পর্যবেক্ষণ, বায়ুমণ্ডলের ভৌত প্রক্রিয়া এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেই পূর্বাভাস যাচাই করতে পারেন।এই সমন্বয় আরও কার্যকর হলে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ, তীব্রতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকা সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে বন্যা, তাপপ্রবাহ ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগও বাড়তে পারে।তবে প্রযুক্তির সাফল্য শুধু কত দ্রুত পূর্বাভাস তৈরি করা গেল, তা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বরং কত আগে নির্ভরযোগ্য সতর্কতা পাওয়া গেল, কত মানুষের কাছে তা পৌঁছানো সম্ভব হলো এবং এর ফলে কতটা প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি কমানো গেল—সেটিই হবে সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে এআইভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস তাই কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়; এটি দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোরও একটি সম্ভাবনাময় হাতিয়ার। নির্ভরযোগ্য তথ্য, যথাযথ পরিকল্পনা, বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন এবং কার্যকর সতর্কবার্তা ব্যবস্থার সঙ্গে এ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো গেলে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

অনলাইন প্রেমের আড়ালে প্রতারণা, যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তারে মানুষের পরিচিত হওয়ার ধরন বদলে গেছে। এখন ঘরে বসেই নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি টিন্ডার, বাম্বল ও ট্যানট্যানের মতো ডেটিং অ্যাপও জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্মে কেউ খুঁজছেন নতুন বন্ধু, কেউবা জীবনসঙ্গী। তবে অনলাইনে পরিচয়ের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণার জালও বিস্তার করছে একশ্রেণির অপরাধী।ভুয়া পরিচয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করা কিংবা নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আটকে রেখে অর্থ আদায়- অনলাইন সম্পর্কের আড়ালে এমন নানা ধরনের অপরাধের অভিযোগ উঠছে। শুরুতে স্বাভাবিক পরিচয় ও আন্তরিক কথাবার্তার মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করলেও একপর্যায়ে সেই বিশ্বাসকেই প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।ডেটিং অ্যাপ যেভাবে কাজ করেডেটিং অ্যাপ এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ছবি, বয়স, পছন্দ ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করেন। এরপর অন্য ব্যবহারকারীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও যোগাযোগের সুযোগ পান। কারও উদ্দেশ্য বন্ধুত্ব, আবার কেউ খোঁজেন প্রেমের সম্পর্ক কিংবা জীবনসঙ্গী।নিয়মিত কথাবার্তার মধ্য দিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়, যখন কেউ ভুয়া পরিচয়, অন্যের ছবি কিংবা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করেন। আকর্ষণীয় প্রোফাইল ও আবেগপূর্ণ কথাবার্তার আড়ালে তখন চলতে পারে প্রতারণার প্রস্তুতি।প্রেমের সম্পর্ক গড়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াঅনলাইন প্রতারকেরা সাধারণত প্রথমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা এবং আবেগের জায়গায় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তাঁরা আস্থা অর্জন করেন। কখনো অল্প সময়ের মধ্যেই ভালোবাসা কিংবা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ককে গভীর করার চেষ্টা করা হয়।একপর্যায়ে নানা অজুহাতে অর্থ চাওয়া শুরু হয়। কেউ অসুস্থতার কথা বলেন, কেউ বিপদে পড়ার গল্প শোনান। আবার কেউ বিদেশ থেকে দামি উপহার পাঠানোর কথা বলে কাস্টমস বা ডেলিভারি খরচের নামে টাকা দাবি করেন।সম্পর্কের প্রতি বিশ্বাস থেকে অনেকেই অর্থ পাঠিয়ে দেন। পরে দেখা যায়, প্রতিশ্রুত উপহার আর আসে না, কথিত সমস্যারও সমাধান হয় না। একসময় যোগাযোগ বন্ধ করে দেন প্রতারক।ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলঅনলাইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার ঝুঁকিও রয়েছে। ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রতারকেরা ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করতে পারেন। কখনো ভিডিও কলের সময় গোপনে স্ক্রিন রেকর্ড করা হয়। পরে এসব ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ দাবি করা হয়।কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া আইডি থেকে আপত্তিকর ছবি পাঠিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। সামাজিক সম্মান ও পরিবারের কথা ভেবে ভুক্তভোগীদের অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁদের এই ভয়কে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা বারবার অর্থ দাবি করতে পারেন। একবার টাকা দেওয়ার পরও দাবি বন্ধ না হয়ে বরং আরও বাড়তে পারে।ভুয়া প্রোফাইলের যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেনঅনলাইনে কারও সঙ্গে পরিচয় হলেই তাঁকে বিশ্বাস করা ঠিক নয়। কিছু আচরণ সন্দেহের কারণ হতে পারে। যেমন-·        প্রোফাইলে খুব কম ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য থাকা।·        অল্প পরিচয়েই প্রেম, বিয়ে বা গভীর সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়া।·        দ্রুত ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও চাওয়া।·        পরিচয়ের শুরুতেই টাকা বা আর্থিক সহায়তা চাওয়া।·        সরাসরি দেখা করা কিংবা ভিডিও কলে কথা বলার ক্ষেত্রে বারবার অজুহাত দেখানো।·        বিদেশ থেকে উপহার পাঠানোর কথা বলে কাস্টমস বা ডেলিভারি খরচ দাবি করা।·        কথাবার্তায় অসংগতি থাকা কিংবা পরিচয় সম্পর্কে বারবার তথ্য পরিবর্তন করা।এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। সম্ভব হলে ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করতে হবে। অনলাইনে পরিচিত কারও কথার ওপর নির্ভর করে অর্থ পাঠানো কিংবা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও শেয়ার করার আগে ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করা জরুরি।বাংলাদেশেও বাড়ছে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগবাংলাদেশেও অনলাইন প্রেমের নামে প্রতারণার বিভিন্ন ঘটনা সামনে এসেছে। ডেটিং অ্যাপের পাশাপাশি ফেসবুক, ইমো ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধীরা মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।অতীতেও ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে অপহরণ, আটকে রাখা এবং ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটেছে।এআই দিয়ে ভুয়া পরিচয়, হানিট্র্যাপের অভিযোগসাম্প্রতিক দুটি ঘটনা অনলাইন সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে নতুন করে সতর্ক করেছে।২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক নারী সদস্যের ছবি ও ভিডিও তৈরি করেন। পরে নিজেকে নারী সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে ফেসবুক ও ইমোর মাধ্যমে ইতালিপ্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এভাবে ওই তরুণের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।এরপর ২৫ অক্টোবর রাজধানীর তুরাগ এলাকায় হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, চক্রটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে বিত্তশালী পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। পরে তাঁদের নির্দিষ্ট বাসা বা হোটেলে ডেকে আটকে রেখে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। এসব ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।অনলাইন সম্পর্কে সতর্কতাই সুরক্ষার প্রথম ধাপপ্রযুক্তি মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে অনলাইনে পরিচিত ব্যক্তির পরিচয় ও উদ্দেশ্য সব সময় সহজে যাচাই করা যায় না। তাই সম্পর্কের শুরুতেই অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, ভিডিও কিংবা আর্থিক তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।কেউ অর্থ দাবি করলে, ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশের হুমকি দিলে কিংবা দেখা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে আতঙ্কে টাকা না দিয়ে প্রমাণ হিসেবে কথোপকথন, প্রোফাইলের তথ্য ও লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া জরুরি।অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে আন্তরিকতা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে। কিন্তু সেই বিশ্বাস যেন প্রতারণার সুযোগ তৈরি না করে, সে জন্য সচেতনতা ও সতর্কতার বিকল্প নেই।

অনলাইন প্রেমের আড়ালে প্রতারণা, যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

এআই কি মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের শেখার পদ্ধতি, চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার জগতে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। এ প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ে জটিল বিষয় শেখা এবং নতুন ধারণা তৈরি করা সহজ হচ্ছে। তবে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও দক্ষতা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে সৃজনশীল কাজের মধ্যে বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আই অ্যাম অ্যান এক্সপার্ট ইন এআই কনশাসনেস হিয়ার’স হাউ দিস নিউ ইন্টেলিজেন্স ইজ নাউ শেপিং আওয়ার্স শিরোনামের এক নিবন্ধে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন এআই নীতিবিদ ও দার্শনিক হেনরি শেভলিন। তাঁর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এআইয়ের প্রভাব শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ নয় মানুষের জ্ঞান অর্জন, স্মৃতি, চিন্তাভাবনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের পরিবর্তন করার ক্ষমতা মানুষের দীর্ঘদিনের বৈশিষ্ট্য।ছয় সপ্তাহে দুই বছরের সমান শেখার অগ্রগতিশিক্ষাক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার শেখার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। মানুষের দক্ষতা ও শিক্ষকের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে শিক্ষার্থীদের শেখার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। নাইজেরিয়ার বেনিন সিটিতে পরিচালিত একটি গবেষণায় বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের জেনারেটিভ এআইভিত্তিক শিক্ষকের সহায়তা দেওয়া হয়। শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা যে অগ্রগতি অর্জন করে, বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে তা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রায় দুই বছরের শেখার সমতুল্য।তবে এআই ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া গেলেই যে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দক্ষতা একই হারে বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থীকে সরাসরি উত্তর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নাকি নিজে চিন্তা করে সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করা হচ্ছে।এআইয়ের ওপর নির্ভরতায় পরীক্ষার ফল কমতে পারেশিক্ষার্থীদের ওপর এআইয়ের প্রভাব বোঝার জন্য ২০২৩ সালে তুরস্কের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গণিত শেখা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়। গবেষণায় শিক্ষার্থীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। একদল পাঠ্যবই ব্যবহার করে গণিত অনুশীলন করে। অন্য দুই দল ব্যবহার করে জিপিটি-৪-এর সাধারণ সংস্করণ এবং এমন একটি বিশেষায়িত সংস্করণ, যা সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইঙ্গিতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমাধানের দিকে এগিয়ে দেয়। ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ জিপিটি-৪ ব্যবহার করা শিক্ষার্থীদের অনুশীলনী পরীক্ষায় নম্বর প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু পরে বই ছাড়া পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাদের ফল পাঠ্যবই ব্যবহার করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম ছিল।গবেষকদের ধারণা, এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এ ফলের একটি সম্ভাব্য কারণ। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ইঙ্গিত দিয়ে সমাধান খুঁজতে সাহায্য করা বিশেষায়িত এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের ফল দেখা যায়নি। এ থেকে বোঝা যায়, এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত উত্তর পাওয়া এবং নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারা এক বিষয় নয়।সৃজনশীলতা বাড়লেও কমতে পারে বৈচিত্র্যলেখালেখি ও সৃজনশীল কাজেও এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২৯৩ জন লেখককে নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় কয়েকজন লেখককে এআইয়ের দেওয়া গল্পের ধারণা ব্যবহার করতে বলা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের সহায়তা পাওয়া গল্পগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি সৃজনশীল বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে, যাঁদের সৃজনশীলতার মাত্রা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তাঁদের কাজে উন্নতি বেশি দেখা গেছে।তবে এর পাশাপাশি গল্পগুলোর মধ্যে মিলও বেড়েছে। অর্থাৎ, এআই একজন লেখকের সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করলেও অনেকের সৃষ্টিশীল কাজ একে অপরের মতো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সৃজনশীলতার উন্নতি এবং সামগ্রিকভাবে সৃজনশীল বৈচিত্র্য বজায় রাখা দুটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তির কারণে দক্ষতা হারানোর আশঙ্কা নতুন নয়নতুন প্রযুক্তি মানুষের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতির ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, এ নিয়ে উদ্বেগ বহু পুরোনো। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোও লেখার প্রচলন মানুষের স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। প্লেটোর ফেড্রাস সংলাপে লেখার আবিষ্কার নিয়ে আলোচনায় সতর্ক করা হয়েছিল, লিখিত তথ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়লে মানুষ নিজের স্মৃতির পরিবর্তে বাইরের তথ্যভান্ডারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।তবে লেখার প্রচলন মানুষের চিন্তাশক্তিকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। বরং জ্ঞান সংরক্ষণ, আদান-প্রদান ও বিকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। ১৯৩০-এর দশকে মার্কিন ধ্রুপদি সাহিত্য গবেষক মিলম্যান প্যারি বলকান অঞ্চলের দক্ষিণ স্লাভিক কবিদের মৌখিক ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি দেখতে পান, অনেক কবি লিখতে না জানলেও স্মৃতি থেকে হাজার হাজার পঙ্‌ক্তির দীর্ঘ কবিতা আবৃত্তি করতে পারতেন। তাঁরা প্রতিবার কবিতাগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনও করতেন।এ উদাহরণ দেখায়, কোনো দক্ষতার চর্চা কমে গেলে সময়ের সঙ্গে তা হারিয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি নতুন সক্ষমতা তৈরি করলেও পুরোনো কিছু দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিতে পারে।প্রযুক্তির সঙ্গে বদলেছে মানুষের জীবন ও মস্তিষ্কমানুষের ইতিহাসে প্রযুক্তি ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বহু উদাহরণ রয়েছে। আগুনের ব্যবহার ও রান্নার প্রচলন মানুষের পূর্বপুরুষদের খাবার থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তি পেতে সাহায্য করেছিল। দীর্ঘ সময়ে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে মানুষের দাঁত, চোয়াল ও পরিপাকতন্ত্রের গঠনে পরিবর্তন এসেছে।কৃষিকাজের প্রসার মানুষের পক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া সহজ করেছে। তবে এর ফলে প্রকৃতির বিভিন্ন উদ্ভিদ, ভেষজ, মাশরুম ও বেরির মধ্যে কোনগুলো খাওয়ার উপযোগী, সে বিষয়ে বিস্তৃত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা কমেছে।পড়ার অভ্যাসও মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন এনেছে। স্নায়ুবিজ্ঞানী স্তানিসলাস দ্যানে ও তাঁর সহকর্মীদের গবেষণায় দেখা গেছে, পড়তে শেখার ফলে মস্তিষ্কের দৃশ্য-প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার একটি অংশ লিখিত শব্দ শনাক্ত করার উপযোগী হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে মুখ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ওই অংশের প্রতিক্রিয়ায় সামান্য পরিবর্তনও আসতে পারে।দার্শনিক অ্যান্ডি ক্লার্কের বক্তব্য উদ্ধৃত করে শেভলিন বলেন, মানুষ স্বভাবগতভাবেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে বাইরের উপকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তনশীলতা এবং সংস্কৃতির নমনীয়তা এ বৈশিষ্ট্যেরই প্রকাশ।এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ব্যবহারের ধরনের ওপরশেভলিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এআই মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন একটি মাধ্যম। এটি একদিকে এমন কিছু কাজ করতে পারছে, যা আগে প্রযুক্তির পক্ষে সম্ভব ছিল না; অন্যদিকে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা সম্প্রসারণের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।তবে এআই মানুষের জন্য কতটা উপকারী হবে, তা শুধু প্রযুক্তির সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে না। কীভাবে এটি তৈরি করা হচ্ছে এবং মানুষ কীভাবে ব্যবহার করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্কের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা গবেষণায় সরাসরি উত্তর দেওয়া এআই এবং নিজে সমাধান খুঁজতে সহায়তা করা এআইয়ের ফলাফলে পার্থক্য দেখা গেছে। অর্থাৎ, এমনভাবে এআই ব্যবহার করা সম্ভব, যাতে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বিকশিত হয়।মানবজাতি এখন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে মানুষের কী ধরনের সুবিধা বা ক্ষতি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ইতিহাস বলছে, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মানুষের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতাও রয়েছে।

এআই কি মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে?

নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই, সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিজেই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে-এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ছোট ও মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মডেলগুলোকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।সোমবার রাতে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে অ্যানথ্রপিক জানায়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনো এআই ইন্টারনেট-সংযুক্ত বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজস্ব বটনেট তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে এটি দ্রুত এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে, বন্ধ করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে পারে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ডেটা সেন্টারেও প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এমন ঝুঁকির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অন্যরা মনে করছেন, অ্যানথ্রপিক বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডারিও আমোডেই গত মাসে প্রথম এ ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, আগামী এক বছরের মধ্যে, এমনকি তার আগেও, এআই পুরো ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে এবং ইন্টারনেটজুড়ে স্থায়ী একটি বটনেট গড়ে তুলতে পারে।নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির সক্ষমতা কতটাঅ্যানথ্রপিকের নতুন ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, তাদের পরীক্ষায় ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারবিশিষ্ট মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলোকে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে শেষ করতে এখনো তাদের সমস্যা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত কম খরচের বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এআই মডেলগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা সংগ্রহ করতে পারে। একটি সরলীকৃত পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে মডেলগুলোকে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তেও দেখা গেছে।অ্যানথ্রপিকের মতে, এভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম কোনো ব্যবস্থা বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। কারণ, এ ধরনের নেটওয়ার্কে বন্ধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নাও থাকতে পারে। ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার এআই সিস্টেম নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, নতুন এই বিশ্লেষণ তাতে আরও মাত্রা যোগ করেছে। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলা, মানুষের সীমিত তদারকিতে কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও কর্মীরাও দ্রুতগতিতে এআইয়ের উন্নয়ন নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাঁদের কেউ কেউ নিয়ন্ত্রণহীন এআই বিকাশের ফলে গুরুতর, এমনকি মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা নিয়ে সংশয়তবে অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন সব সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়েরান মার্টিন মনে করেন, পরীক্ষায় ছোট আকারের এআই মডেল চালাতে পারা মানেই বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়া নয়। তিনি বলেন, আমরা সস্তা টেলিভিশনে একটি ছোট মডেল চালাতে পেরেছি এতেই নিরাপত্তাসংকট তৈরি হয়েছে, এমনটা বলা যায় না।মার্টিনের মতে, অ্যানথ্রপিকের পোস্টটি একটি আকর্ষণীয় প্রযুক্তিগত গবেষণাপত্র হলেও এতে বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঝেংশিয়ং লি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পরীক্ষাগুলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হলেও এআই কার্যত একটি ‘ওয়ার্ম’-এ পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা উদ্বেগজনক।কম্পিউটার নিরাপত্তার ভাষায়, ওয়ার্ম হলো এমন এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যা নিজে থেকেই প্রতিলিপি তৈরি করে বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। লি বলেন, কোনো কেন্দ্রীয় সেবার ওপর নির্ভর না করে এ ধরনের ব্যবস্থা অসংখ্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়লে সেটি বন্ধ করার মতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নাও থাকতে পারে।২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সক্ষমতা অর্জনের আশঙ্কাঅ্যানথ্রপিকের অনুমান, ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা অতীতের ধারায় বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।প্রতিষ্ঠানটি আরও আশঙ্কা করছে, এআই মডেলগুলো নিজেদের কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়াতে আরও শক্তিশালী অবকাঠামো, বিশেষ করে ডেটা সেন্টারের প্রসেসরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে পারে। এমনটা সম্ভব হলে তারা অনেক বড় পরিসরে কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে। তবে একজন গবেষকের মতে, অ্যানথ্রপিকের বক্তব্যকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।এআইয়ের সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই এর নিরাপদ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য অপব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।সূত্র: রয়টার্স

নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই, সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক

মানুষের বিকল্প নয়, এআইকে মানুষের হাতিয়ার হিসেবেই রাখতে হবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়, মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রযুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই এর বিকাশ বন্ধ করে দেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ব্যবহার বাড়ানোও ঝুঁকিপূর্ণ।মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে কে জিতবে—মূল প্রশ্ন সেটি নয়। বরং মানুষের তৈরি সমাজে যন্ত্রের সক্ষমতা কীভাবে কাজে লাগানো হবে এবং এআইয়ের ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে বজায় থাকবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বে এআই নিয়ে দুটি বিপরীত ধারণা রয়েছে। এক পক্ষ মনে করে, এ প্রযুক্তি মানবজাতির প্রায় সব সমস্যার সমাধান করতে পারে। অন্য পক্ষের আশঙ্কা, এআই মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে এই দুই চরম অবস্থানের বাইরে গিয়ে এর সুফল ও ঝুঁকি—দুটিই বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তি নিজে ভালো বা খারাপ নয়; এর প্রভাব নির্ভর করে মানুষ কীভাবে সেটি তৈরি, ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করছে তার ওপর। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রযুক্তি মানুষের জীবন বদলালেও সব পরিবর্তন ইতিবাচক হয়নি।এআইয়ের প্রভাব কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। নথি যাচাই, ই-মেইল লেখা কিংবা পরিকল্পনা তৈরির মতো কাজ এআই করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ের অনেক চাকরির চাহিদা কমতে পারে। এতে বেকারত্বের পাশাপাশি মানুষের আয়, আত্মমর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।তবে এআইয়ের সুফলও রয়েছে। চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে এটি চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে। মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে করানো গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে মানুষের ভুলও কমানো যেতে পারে।তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি যন্ত্রের ওপর ছেড়ে দিলে নতুন প্রশ্ন তৈরি হবে—ভুল সিদ্ধান্তের দায় নেবে কে? এআই মানুষের ভুল কমাতে পারে, আবার মানুষের বিচারবোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।ভুল তথ্য ছড়ানো, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নজরদারির ক্ষেত্রেও এআই নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এর মাধ্যমে কম খরচে ও দ্রুত বিপুল পরিমাণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হতে পারে। ফলে সত্য ও কৃত্রিমভাবে তৈরি তথ্যের পার্থক্য করাও কঠিন হয়ে উঠবে।সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো যন্ত্রের নেওয়া সিদ্ধান্তের দায় কার—প্রোগ্রামার, সামরিক কমান্ডার, অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক নেতৃত্ব নাকি রাষ্ট্র—তা নির্ধারণ করা কঠিন হতে পারে।এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলার অর্থ গবেষণা বন্ধ করা নয়। বরং কোথায় এআই ব্যবহার করা হবে, কোথায় হবে না এবং কী গতিতে এর ব্যবহার বাড়বে—সে বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, মানবিক জবাবদিহি ও মানুষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি মানুষ বনাম যন্ত্রের লড়াই নয়। প্রশ্ন হলো, মানুষ যন্ত্রের শক্তিকে নিজের কল্যাণে ব্যবহার করতে পারবে কি না। এআইকে মানুষের হাতে থাকা শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবেই রাখা ভবিষ্যতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো

মানুষের বিকল্প নয়, এআইকে মানুষের হাতিয়ার হিসেবেই রাখতে হবে

গবেষণা থেকে বাস্তব সমাধানের পথে এআইইউবির উদ্যোগ

গবেষণাকে বাস্তব প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) আয়োজন করেছে গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক অনুষ্ঠান ‘গবেষণা থেকে বাস্তবতা’ কীভাবে আমরা বৈদ্যুতিক ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড যানবাহনের সম্ভাব্যতা প্রকল্প তৈরি করেছি। অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইর্তিজা আহম্মদ রাইফা। অনুষ্ঠানে এআইইউবির উপাচার্য, অধ্যাপক, শিক্ষক, গবেষক, বিশেষ অতিথি ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় এআইইউবির গবেষণা দলের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রচলিত তিন চাকার রিকশার বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বৈদ্যুতিক যানবাহন নিয়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের গবেষণা পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, স্মার্ট ও নিরাপদ চলাচল এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।অনুষ্ঠানে ৩লিফ টেকনোলজিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহ তাজুল ইসলাম রুমেল বলেন- বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক গবেষণার মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় ধারণাকে বাস্তব, কার্যকর ও টেকসই প্রকল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব।প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এআইইউবির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভবিষ্যতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গবেষণা, উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি ও টেকসই পরিবহন নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানানো হয়।সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তব সমাধানে রূপ দিতে পারে। গবেষণা যেন শুধু গবেষণাপত্রে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্ভাবন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের জীবনে কার্যকর প্রভাব ফেলে, এ ধরনের উদ্যোগ সেই পথ তৈরি করতে পারে।অনুষ্ঠানে তরুণদের গবেষণা, মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, গবেষণা থেকে উদ্ভাবন, উদ্ভাবন থেকে বাস্তবায়ন এবং সেখান থেকে মানুষের জন্য কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হবে।

গবেষণা থেকে বাস্তব সমাধানের পথে এআইইউবির উদ্যোগ

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ খুঁজবে ‘সাইবর্গ আরশোলা’, দিতে পারবে জরুরি ইনজেকশন

ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করা উদ্ধারকারীদের জন্য কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের বদলে ছোট ছোট আরশোলা পাঠিয়ে অনুসন্ধান চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন অস্ট্রেলিয়ার একদল গবেষক। শুধু আটকে পড়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করাই নয়, প্রয়োজনে তাঁর কাছে জরুরি চিকিৎসা সহায়তাও পৌঁছে দিতে পারবে এসব ‘সাইবর্গ পতঙ্গ’।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বায়োরোবোটিক্স গবেষকদের নেতৃত্বে এই প্রকল্পে কাজ চলছে। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিকেল প্রকৌশলীরাও।গবেষকেরা এসব পতঙ্গকে ‘প্যারাবর্গ’ নামে অভিহিত করছেন। আরশোলার শরীরে যুক্ত করা হয়েছে ক্যামেরা, ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিশেষ ‘অটো-ইনজেকশন’ ব্যবস্থা। লক্ষ্য হলো ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন, গুহা কিংবা সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক জায়গায় মানুষের কাছে পৌঁছে জরুরি সহায়তা দেওয়া।ক্যামেরার সঙ্গে যুক্ত ইনজেকশন ব্যবস্থাগবেষণার অংশ হিসেবে ফার নর্থ কুইন্সল্যান্ডের বিশেষ প্রজাতির গর্ত খোঁড়া আরশোলার শরীরে হালকা ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে দূর থেকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ইনজেকশন ব্যবস্থা।গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো প্যারাবর্গ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আহত ব্যক্তিকে শনাক্ত করলে তার কাছাকাছি গিয়ে নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার মতো ব্যবস্থা করা হবে। তবে চিকিৎসাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।ইউনিভার্সিটি অব কুইন্সল্যান্ডের বায়োরোবোটিক্স প্রকৌশলী থাং ভো-ডোয়ান বলেন, এত দিন সাইবর্গ পতঙ্গকে মূলত সেন্সর বহন বা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছে। তাঁদের লক্ষ্য সেই ধারণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে এসব পতঙ্গকে ক্ষুদ্র ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’-এ পরিণত করা।তাঁদের গবেষণার মূল প্রশ্ন হলো—ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া কোনো মানুষকে যদি একটি সাইবর্গ পতঙ্গ খুঁজে পায়, তাহলে শুধু অবস্থান শনাক্ত না করে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জরুরি সহায়তা দেওয়া সম্ভব কি না।ইনজেকশন দেওয়ার পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ সাফল্যপ্রাথমিক পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছেন গবেষকেরা। লক্ষ্যবস্তুর ১৫ সেন্টিমিটারের মধ্যে থেকে ইনজেকশন দেওয়ার পরীক্ষায় প্যারাবর্গগুলোর সাফল্যের হার ছিল ৯৫ শতাংশ।তবে একই সঙ্গে নেভিগেশন ও ইনজেকশন দেওয়ার কাজ করতে গেলে সাফল্যের হার কমে দাঁড়ায় ৭২ শতাংশে।পিএইচডি গবেষক হাই নান লে বলেন, আরশোলাকে লক্ষ্যবস্তুর কাছে নিয়ে গিয়ে সঠিক অবস্থানে স্থির রাখা প্রকল্পটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ইনজেকশন দেওয়ার সময় পতঙ্গটির নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।গবেষকদের মতে, মানুষের কাছে এমন বড় আকারের আরশোলা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে ধ্বংসস্তূপ বা গুহার ভেতরে কেউ আটকে থাকলে এই প্রযুক্তি তাঁর কাছে দ্রুত জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে পারে।গবেষণা শেষে আরশোলা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেসাইবর্গ পতঙ্গ তৈরির জন্য আরশোলার শরীরে ইলেকট্রোড ও মাইক্রোচিপ স্থাপন করা হয়। এ কাজের সময় তাদের অচেতন করা হয় বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।গবেষণা বা উদ্ধার কার্যক্রম শেষে এসব ইলেকট্রনিক যন্ত্র খুলে ফেলা সম্ভব। এরপর আরশোলাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও জীবনযাপন করতে পারে।ভবিষ্যতে কাজ করবে পুরো ‘আরশোলা বাহিনী’গবেষকেরা ভবিষ্যতে এক বা দুটি নয়, বিশেষায়িত সাইবর্গ পতঙ্গের পুরো একটি দল তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তাঁদের ধারণা, প্রতিটি পতঙ্গকে আলাদা দায়িত্ব দেওয়া গেলে তারা সম্মিলিতভাবে একটি উদ্ধারকারী দলের মতো কাজ করতে পারবে।এতে ধ্বংসস্তূপের বড় এলাকায় দ্রুত অনুসন্ধান চালানো সম্ভব হতে পারে। নিউ সাউথ ওয়েলস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউয়ের প্রধান টিম হাসিওটিস মনে করেন, উদ্ধারকারীরা যেখানে সহজে পৌঁছাতে পারেন না, সেখানে সাইবর্গ পতঙ্গ দিয়ে আহত ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত ও জরুরি সহায়তা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতের নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে।গবেষক থাং ভো-ডোয়ানের আশা, আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে বাস্তব জরুরি পরিস্থিতিতে এ ধরনের সাইবর্গ পতঙ্গের উদ্ধারকারী দল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষ খুঁজবে ‘সাইবর্গ আরশোলা’, দিতে পারবে জরুরি ইনজেকশন

ডিএমেই টাকা পাঠানোর সুবিধা আনছে টিকটক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গণ্ডি পেরিয়ে এবার সরাসরি অর্থ লেনদেনের সুবিধা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে টিকটক। নতুন ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীরা ডাইরেক্ট মেসেজের (ডিএম) মাধ্যমেই একে অন্যকে টাকা পাঠাতে পারবেন।প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ, ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, টিকটকের নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করেই এই লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। আইফোনের জন্য টিকটক অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণের কোড বিশ্লেষণ করে নতুন ফিচারটির অস্তিত্বের তথ্য পাওয়া গেছে।প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো ব্যবহারকারী টাকা পাঠালে প্রাপক নির্দিষ্ট একটি বোতামে চাপ দিয়ে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। লেনদেনের সঙ্গে ছোট বার্তা যুক্ত করার সুবিধাও থাকতে পারে।তবে টিকটক জানিয়েছে, সুবিধাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। কবে এটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি।বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে টিকটক শপের কেনাকাটায় টিকটকের পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন ফিচার চালু হলে একই প্ল্যাটফর্মে কেনাকাটার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের মধ্যে সরাসরি অর্থ লেনদেনের সুযোগও তৈরি হবে।আর্থিক সেবায় টিকটকের আগ্রহ অবশ্য এর আগেও দেখা গেছে। চলতি বছরের মার্চে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলে ঋণ ও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার অনুমতি চেয়েছিল টিকটক।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরেও নিজেদের সেবার পরিধি বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। উন্নত সার্চ, অনলাইন কেনাকাটা, স্থানীয় স্থান খোঁজার ম্যাপ, গেমিং ও হোটেল বুকিংয়ের পর এবার অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সুবিধা চালু হলে ভেনমো ও জেলের মতো ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারে টিকটক। একই পথে এগোচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সও। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ‘এক্স মানি’ সেবা চালু করেছে।তবে টিকটকের অর্থ লেনদেন সুবিধাটি এখনো পরীক্ষামূলক উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে এটি শেষ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী চালু হবে কি না কিংবা কোন কোন দেশে প্রথমে পাওয়া যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ডিএমেই টাকা পাঠানোর সুবিধা আনছে টিকটক

ফেসবুকে রিচ ও আয় বাড়াতে যে ধরনের কনটেন্টে গুরুত্ব দিচ্ছে প্ল্যাটফর্ম

ফেসবুক পেজ থেকে আয় ও রিচ বাড়াতে কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। এখন শুধু নিয়মিত পোস্ট করলেই হবে না, কনটেন্টে নির্মাতার নিজস্ব চিন্তা, সৃজনশীলতা ও নতুন মূল্য সংযোজন আছে কি না, সেটিও গুরুত্ব পাচ্ছে।ফেসবুকের নীতিমালা অনুযায়ী, নির্মাতার নিজের ধারণ করা ভিডিও, নিজস্ব পরিকল্পনা, কণ্ঠ, উপস্থাপনা ও অভিজ্ঞতা-নির্ভর কনটেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কোনো বিষয়ে নিজস্ব গবেষণা ও বিশ্লেষণ যুক্ত করলেও কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে।অন্যের ভিডিও বা ফুটেজ ব্যবহার করলেও তাতে নতুন তথ্য, বিশ্লেষণ, ব্যাখ্যা বা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে হবে। শুধু ভিডিও পুনঃপ্রকাশ করলে সেটিকে মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।ভিডিওতে শুধু ক্যাপশন, বর্ডার বা গান পরিবর্তন, কিংবা গতি কমানো-বাড়ানোর মতো সামান্য সম্পাদনাও অরিজিনাল কনটেন্ট হিসেবে গণ্য হয় না। রিঅ্যাকশন ভিডিওর ক্ষেত্রেও নির্মাতার নিজস্ব মতামত ও বিশ্লেষণ থাকা প্রয়োজন।এ ছাড়া সাম্প্রতিক ও আলোচিত বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি, ফেসবুকের ট্রেন্ড ও হ্যাশট্যাগ বিশ্লেষণ এবং নিয়মিত রিলস প্রকাশের মাধ্যমে অর্গানিক রিচ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। দর্শকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে কমেন্টের উত্তর, পোল ও প্রশ্নভিত্তিক পোস্টও কার্যকর হতে পারে।ফেসবুক থেকে আয় করতে হলে সংশ্লিষ্ট মনিটাইজেশন শর্ত পূরণের পাশাপাশি কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে। ফলোয়ার, ভিডিওর ওয়াচ টাইম এবং যোগ্যতা অনুযায়ী ইন-স্ট্রিম অ্যাডস ও ফেসবুক স্টারসের মতো ফিচার থেকেও আয়ের সুযোগ রয়েছে।সব মিলিয়ে, ফেসবুকে দীর্ঘমেয়াদে রিচ ও আয় বাড়াতে অন্যের কনটেন্ট কপি করার বদলে নিজস্ব পরিকল্পনা, তথ্য, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির ওপরই গুরুত্ব দিতে হবে।

ফেসবুকে রিচ ও আয় বাড়াতে যে ধরনের কনটেন্টে গুরুত্ব দিচ্ছে প্ল্যাটফর্ম

প্রকৌশলীদের মেধা-উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে হবে: ফকির মাহবুব

দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে প্রকৌশলীদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে ২৭তম বিসিএস টেলিযোগাযোগ ক্যাডারে যোগ দেওয়া সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীদের সঙ্গে আয়োজিত পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। বাংলাদেশও দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এ অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করতে দক্ষ মানবসম্পদ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি।সরকারি দায়িত্ব জনগণের সেবা করার সুযোগনতুন যোগ দেওয়া প্রকৌশলীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরি শুধু চাকরি নয়, এটি জনগণের সেবা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়মিতভাবে বাড়ানোর জন্যও প্রকৌশলীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।মন্ত্রী বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে উন্নত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগসেবা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সাশ্রয়ী, মানসম্মত ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।প্রকৌশলীদের মতবিনিময়সভায় ২৭তম বিসিএস টেলিযোগাযোগ ক্যাডারে যোগ দেওয়া সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীরা নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। তাঁরা টেলিযোগাযোগ খাতের উন্নয়নে নিজেদের প্রত্যাশা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।এর আগে পরিচিতি সভার শুরুতে মন্ত্রী টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরে অবস্থিত সাইবার থ্রেট ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স (সিটিডিআর) সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং এর কার্যক্রম দেখেন।টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আশরাফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং নবনিযুক্ত সহকারী বিভাগীয় প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকৌশলীদের মেধা-উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগাতে হবে: ফকির মাহবুব

X–এ কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় ব্যবস্থা, আসছে নতুন প্রোগ্রাম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X) কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। বর্তমান ‘ক্রিয়েটর আর্নিংস’ কর্মসূচি বন্ধ করে এর পরিবর্তে ‘অরিজিনাল কনটেন্ট রিওয়ার্ডস’ নামে নতুন একটি প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা করেছে প্ল্যাটফর্মটি।নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্তমান পদ্ধতিতে আয় করার সুযোগ থাকবে। এরপর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন যোগ্য নির্মাতারা।নতুন কর্মসূচিতে অংশ নিতে ব্যবহারকারীর এক্স প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন থাকতে হবে। পাশাপাশি কমপক্ষে ৫০০ যাচাইকৃত ফলোয়ার এবং গত ৯০ দিনে যাচাইকৃত ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অন্তত ৫ লাখ ভিউ পাওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।নতুন আয় ব্যবস্থায় মৌলিক কনটেন্টকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্মাতার নিজের তৈরি ছবি, ভিডিও, প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, মন্তব্য, মিম ও গ্রাফিকস এ কর্মসূচির আওতায় থাকবে।অন্যের কনটেন্টে সামান্য পরিবর্তন এনে পুনরায় প্রকাশ করলে সেটিকে মৌলিক কনটেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। অন্য অ্যাকাউন্টের পোস্ট কপি করা কিংবা কোনো কনটেন্ট ডাউনলোড করে পুনরায় প্রকাশ করলেও আয় পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।এক্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরোনো আয় ব্যবস্থার কিছু প্রণোদনা সময়ের সঙ্গে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যা প্রত্যাশা অনুযায়ী কার্যকর হচ্ছিল না। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে নির্মাতাদের আরও বেশি নিজস্ব ও সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহিত করাই লক্ষ্য।এক্সের অ্যালেগ্রা জাকিয়া মনে করেন, নির্মাতাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত প্ল্যাটফর্মে নতুন ও মূল্যবান কনটেন্ট তৈরি করা, কেবল বেশি অর্থ উপার্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়া নয়।এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও কনটেন্ট থেকে আয়ের নিয়মে পরিবর্তন এনেছিল এক্স। তখন অন্যের কনটেন্ট কপি বা সংগ্রহ করে প্রকাশ করা এবং অতিরিক্ত আকর্ষণনির্ভর কনটেন্টের ওপর নির্ভরশীল অ্যাকাউন্টগুলোর আয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।নতুন ‘অরিজিনাল কনটেন্ট রিওয়ার্ডস’ কর্মসূচির মাধ্যমে মৌলিক, সৃজনশীল ও নতুন কনটেন্টকে আরও বেশি পুরস্কৃত করতে চায় এক্স। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে কর্মসূচিটির নিয়মে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।

X–এ কনটেন্ট নির্মাতাদের আয় ব্যবস্থা, আসছে নতুন প্রোগ্রাম

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে বিটিএমএ-বিজিএমইএর সমঝোতা

বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।সমঝোতা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একটি ইভেন্ট অর্গানাইজারের সহযোগিতায় বিশ্বমানের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল মেশিনারি এক্সিবিশন (বিটমা) আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রদর্শনীর পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিটিএমএ ও বিজিএমইএর পাঁচজন করে প্রতিনিধিকে নিয়ে ১০ সদস্যের একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দুই সংগঠনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত হবে। প্রথম বছর চেয়ারম্যান হবে বিটিএমএ এবং কো-চেয়ারম্যান হবে বিজিএমইএর প্রতিনিধি।বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্বজুড়ে পোশাকশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও গ্রিন টেকনোলজির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পকে এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রাখাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, টেক্সটাইল ও পোশাক খাত পরস্পরনির্ভরশীল। এই সমঝোতা শুধু একটি প্রদর্শনী আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।অনুষ্ঠানে উভয় সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতারা, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বৈশ্বিক সক্ষমতা বাড়াতে বিটিএমএ-বিজিএমইএর সমঝোতা