গাছ কাটার অভিযোগে বিএনপির ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা
বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ
কাটা, চুরি ও বিক্রির
অভিযোগে ৬২ জনের বিরুদ্ধে
পৃথক দুটি মামলা করেছে
বন বিভাগ। মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের
কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।মঙ্গলবার চুনারুঘাট থানায় সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন ১৯২৭ সালের বন
আইনের (২০০০ সালে সংশোধিত)
২৬(১ক)-এর (খ)
ও (ঘ) ধারায় ২০
জনের নাম উল্লেখ করে
মামলা করেন। মামলাটি চুনারুঘাট থানায় ৩৪ নম্বর হিসেবে
নথিভুক্ত হয়েছে।সাতছড়ির মামলায় ২০ জনমামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৫
সালের ১২ জানুয়ারি থেকে
২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত
বিভিন্ন সময়ে সাতছড়ি জাতীয়
উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে
নেওয়া এবং সেগুলো কেনাবেচা
করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে
গাছ কাটা ও বিক্রির
সঙ্গে ২০ জনের সম্পৃক্ততার
তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে
উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট
উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়াকে।অন্য আসামিদের মধ্যে
রয়েছেন মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম
আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার,
উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান এবং উপজেলা
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার। এ
ছাড়া মিরাশী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ
সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগের নামও মামলায় রয়েছে।রেমা-কালেঙ্গায় আরও ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলাএকই দিনে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে গাছ কাটা
ও বিক্রির অভিযোগে আরও একটি মামলা
করা হয়। বন কর্মকর্তা
এইচ এম এরশাদ বাদী
হয়ে ৪২ জনের বিরুদ্ধে
মামলাটি করেন।সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন এবং চুনারুঘাট থানার
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল
ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন
ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলাগুলো করা হয়েছে। অভিযুক্তদের
বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল
কালাম বলেন, গাছ চুরির বিরুদ্ধে
বন বিভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি
নিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায়
আনা হবে।তবে স্থানীয় ওয়াইল্ডলাইফ
কর্মী বিশ্বজিৎ পাল সরকারি উদ্যোগকে
স্বাগত জানিয়ে বলেন, তদন্তের সময় কোনো নিরীহ
ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার
না হন, সেটিও নিশ্চিত
করা প্রয়োজন।মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া
যায়নি।