ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
শেখ হাসিনাকে ধরে আনতে চাই, তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: জাহেদ উর রহমান

শেখ হাসিনাকে ধরে আনতে চাই, তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে: জাহেদ উর রহমান

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সময় নেই, তাঁকে ধরে আনতে চায় সরকার। তাঁর জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে।আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অগ্রগতি নিয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকেরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান জানতে চান।জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে কোনো শর্ত যুক্ত করা হলে বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলছি, শেখ হাসিনা আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি পলাতক আসামি। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।’ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার এখন আপিল করারও সুযোগ নেই। তিনি এসে আপিল করে রায় পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না। তাঁর ভাষায়, ‘তার মানে ব্যাপারটা টেকনিক্যালি এখন এরকম যে, তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।’সম্প্রতি শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন করেছেন উল্লেখ করে ডা. জাহেদ বলেন, এ বিষয়ে সরকার ‘খুব স্ট্রংলি’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এখন ভারতের প্রতিষ্ঠিত কিছু গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। সরকারের প্রত্যাশা ছিল, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন।তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এক্সপেক্ট করবো ভারত সরকার এই ব্যাপারে তাকে একটা বার (বাধা) দেবে। তিনি ওখানে পালিয়ে আত্মগোপন হয়ে আছেন। সেখানে তিনি এই রাইটগুলো ভোগ করতে পারেন কিনা, এগুলোরও ক্লারিফিকেশন নাই।’ভারতের এ অবস্থানকে সঠিক মনে করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের দাবি জোরালো এবং এর মধ্যে কোনো কৌশল নেই। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ডা. জাহেদ বলেন, সম্পর্ক যে জায়গায় খারাপ হয়েছিল, তা উন্নত করার জন্য ভারত সরকার অন্তত একটি পদক্ষেপ তাৎক্ষণিকভাবে নিতে পারত। সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা। তিনি প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার কেন সেটি করছে না।ভারতের হাইকমিশনারের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ভারতের হাইকমিশনার একজন পলিটিক্যাল পারসন। আমরা তাকে পজিটিভলি দেখেছি।’ শেখ হাসিনার বিষয়ে বাংলাদেশের সংবেদনশীলতার বিষয়টি ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।ডা. জাহেদ বলেন, শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়, সেটি ভারতীয় পক্ষের বোঝা উচিত। এ বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনারের কাছে জানতে চাওয়ার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আস্থার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একদিকে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পর্ককে নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের দেওয়া প্রতিবাদপত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ‘আস্থার পরিবেশ’ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় সরকারকে বোঝাতে হবে যে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায় এমন আস্থাও তৈরি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।