ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হবে: শ্রমমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হবে: শ্রমমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দেশটির নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, শুধু শ্রমিক পাঠালেই হবে না, তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেই মালয়েশিয়ায় পাঠাতে হবে।রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।চাহিদা নির্ধারণ করে প্রশিক্ষণআরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক পাঠানো হবে। এ জন্য আগে শ্রমিকের চাহিদা নির্ধারণ করে, সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ছাড়া শ্রমিক পাঠানো হলে তাঁরা মালয়েশিয়ায় গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই এবার শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ডিমান্ড অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে চাই। যারা ওই দেশের শ্রমিক নেবে, তারা এখানে এসে তাদের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক বাছাই করবেন। এরপর আমরা শ্রমিক পাঠাব।’বোয়েসেলের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিমালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা জানান শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিমান্ড অনুযায়ী বোয়েসেল ও অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হবে। তবে শ্রমিক পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করতে হবে।সিন্ডিকেট নিয়ে এবার সতর্ক সরকারএর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ এবং শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত শ্রমিক পাঠানো হলে শ্রমিকদের হয়রানির ঝুঁকি কমবে।মেডিকেল প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত নয়মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের মেডিকেল পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এখনো অনুমোদিত হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে শ্রমিকের চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান তিনি।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দিতে শুরু করেছেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা।সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে বোয়েসেল কাজ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীমালয়েশিয়ায় বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরই মধ্যে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ১৬টি চাহিদাপত্র পেয়েছে বোয়েসেল।আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে আটকেপড়া কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক জানান, এখনো ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে বাকি রয়েছেন। তাঁদের পাঠানোই বর্তমানে সংস্থাটির মূল অগ্রাধিকার।অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রেরকর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ কর্মীর চাহিদা সত্যায়নের জন্য দাখিল করা হয়েছে।বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। আরও অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে দুই ধাপে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে।প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।৩৩৮ এজেন্সি তালিকায়গত ২৮ আগস্ট এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি—মোট ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।এর আগে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগ উঠেছিল।বারবার বন্ধ হয়েছে শ্রমবাজার২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর বাজারটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার বন্ধ হয়ে যায়। এবার দীর্ঘ বিরতির পর বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি

কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা

দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছে বাংলাদেশ। কৃষি ও প্রাণিসম্পদসহ আরও কিছু খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ তৈরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীরা কোরিয়ার বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশি কর্মীদের এ সুযোগ দেওয়ার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে বাংলাদেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। দুই দেশের শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) গুরুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে কল্যাণকর কাঠামো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।তিনি জানান, ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮ হাজার ৫৯ জন বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। ইপিএসের অন্যতম প্রধান কর্মী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে এবং নির্ধারিত কোটা সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে বাংলাদেশ আগ্রহী।কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ আরও কয়েকটি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি দক্ষিণ কোরিয়া সরকার বিবেচনা করবে বলেও প্রত্যাশা জানান তিনি।দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হান উনসুক বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই দক্ষিণ কোরিয়া মূলত ইপিএসের মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে তারা যেমন আগ্রহী, তেমনি কর্মী বাছাই প্রক্রিয়াটি শতভাগ স্বচ্ছ রাখার বিষয়েও তারা গুরুত্ব দেয়।ইপিএসের কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানান হান উনসুক।সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ বাড়ানোর প্রত্যাশা