ঢাকা    শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি



মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি
ছবি: সংগ্রহ

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দিতে শুরু করেছেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে বোয়েসেল কাজ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।

বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী

মালয়েশিয়ায় বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরই মধ্যে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ১৬টি চাহিদাপত্র পেয়েছে বোয়েসেল।

আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে আটকেপড়া কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক জানান, এখনো ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে বাকি রয়েছেন। তাঁদের পাঠানোই বর্তমানে সংস্থাটির মূল অগ্রাধিকার।

অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ কর্মীর চাহিদা সত্যায়নের জন্য দাখিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। আরও অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে দুই ধাপে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।

৩৩৮ এজেন্সি তালিকায়

গত ২৮ আগস্ট এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি—মোট ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগ উঠেছিল।

বারবার বন্ধ হয়েছে শ্রমবাজার

২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর বাজারটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার বন্ধ হয়ে যায়। এবার দীর্ঘ বিরতির পর বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিষয় : মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থান

দৈনিক নবকাল

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য খুলতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। চলতি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নতুন করে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে চাহিদাপত্র দিতে শুরু করেছেন মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ হাইকমিশনকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়টি জানানো হয়। আগামী ২০ অক্টোবর থেকে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) রিক্রুটিং এজেন্সি হিসেবে বোয়েসেল কাজ করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পরবর্তী কার্যক্রম কীভাবে হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পায়নি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।

বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী

মালয়েশিয়ায় বোয়েসেলের মাধ্যমে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এরই মধ্যে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে ১৬টি চাহিদাপত্র পেয়েছে বোয়েসেল।

আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে আটকেপড়া কর্মীদের পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে। বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক জানান, এখনো ১২০ থেকে ১৫০ জন কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে বাকি রয়েছেন। তাঁদের পাঠানোই বর্তমানে সংস্থাটির মূল অগ্রাধিকার।

অনুমোদন প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ৮ হাজার চাহিদাপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত মাসে এফডব্লিউসিএমএসের ই-অ্যাম্বাসি মডিউলে ২১টি আবেদনের মাধ্যমে ৮৯৫ কর্মীর চাহিদা সত্যায়নের জন্য দাখিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশি কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বর্তমানে ১৭টি অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। আরও অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রণালয়ে দুই ধাপে ৩১৮টি আবেদন জমা পড়ে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুব শিগগির মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।

৩৩৮ এজেন্সি তালিকায়

গত ২৮ আগস্ট এফডব্লিউসিএমএসে ৩৩৮টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি প্রধান এজেন্সির অধীনে ২৫০টি এবং বোয়েসেলের অধীনে ৬২টি—মোট ৩১২টি এজেন্সিকে সহযোগী এজেন্সি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ২৫টি এজেন্সির তালিকা প্রকাশের পর ‘সিন্ডিকেট’ করার অভিযোগ উঠেছিল।

বারবার বন্ধ হয়েছে শ্রমবাজার

২০০৮ সালে বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে আবার চালু হয়েছিল মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৮ সালে তা আবার বন্ধ হয়। ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর নতুন সমঝোতা চুক্তির পর বাজারটি পুনরায় চালু হয় এবং ২০২২ সালের আগস্ট থেকে বাংলাদেশি কর্মীরা মালয়েশিয়া যেতে শুরু করেন।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার বন্ধ হয়ে যায়। এবার দীর্ঘ বিরতির পর বাজারটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি
0:00 0:00
1.0x