ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ইরান ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার কথা ভাবছে

ইরান ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার কথা ভাবছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হলে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় বুলগেরিয়া ও সাইপ্রাসের মার্কিন সামরিক স্থাপনাও রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। ইরানি সরকারের দুটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা কার্যত ভেস্তে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে বর্তমানে ওয়াশিংটনের কোনো আলোচনা চলছে না। নতুন করে আলোচনা শুরুরও কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।এর মধ্যেই বুধবার ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনাযুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খোলা রয়েছে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে। তবে বাস্তবে প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এখনো খুব কম।চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। ইরানের এক সামরিক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।মিত্রদেরও সতর্ক করছেন ট্রাম্পমধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহযোগিতা না করার অভিযোগে দীর্ঘদিনের মিত্রদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। ওমানকে তাঁর মধ্যপ্রাচ্য নীতির পথে বাধা না দেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইউরোপে মার্কিন সামরিক স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হলে সংঘাতের পরিধি আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়ে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও সিএনবিসি

আজ শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আজ সোমবার শেষ হচ্ছে। তবে এর মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন করে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে দুই দেশের সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এতে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। প্রয়োজনে উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছিল।সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং দেশটির পুনর্গঠনে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে থাকা মাইন অপসারণ এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সম্মতি জানায়।তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে। এতে চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।এদিকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ তৈরির বিষয়ে ওমানের সঙ্গে আলাদা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তেহরান। তবে ইরানের অবস্থান হলো, এ ধরনের উদ্যোগের আগে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে।এ পরিস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো চুক্তি বা সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আবারও কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।সূত্র: আল জাজিরা, জিও নিউজ

আজ শেষ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ

মানসিক চাপে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকনের নাবিকেরা

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মোতায়েন, অনিশ্চিতভাবে দেশে ফেরার সময় এবং জাহাজের নানা সমস্যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিক ও মেরিন সদস্যদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য নিয়ে রণতরিটি আট মাসের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁদের দায়িত্ব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে মোতায়েনের সময় কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। এখনো দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।পরিবারগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে অনেক নাবিক মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কয়েকজন নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।জাহাজের জীবনযাত্রা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পরিবারগুলোর দাবি, খাবারের সংকট, নষ্ট টয়লেট, স্বাস্থ্যবিধির সমস্যা ও অন্যান্য অব্যবস্থাপনা নাবিকদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।এ পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জাহাজে থাকা সদস্যদের জীবনযাত্রা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন নিয়ে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন।তবে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাহাজে কর্মরত সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রয়েছে।পরিবারগুলোর দাবি, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে নাবিকদের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কমাতে দ্রুত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া এবং দেশে ফেরার সময়সীমা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন এখন মার্কিন সামরিক সদস্যদের ওপর যুদ্ধের মানসিক ও মানবিক চাপ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মানসিক চাপে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকনের নাবিকেরা