ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কিছু করার পরিকল্পনা নেই

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কিছু করার পরিকল্পনা নেই

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সব বিষয়ে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো কোনো বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই।বুধবার চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবটি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। কারণ, এসব বিভাগ একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে।পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমন করতে গিয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। অপরাধীদের দমনে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে গেলে কোনো ব্যক্তি আসামিকে সহায়তা করলে, সে ক্ষেত্রেও তথ্যের ভিত্তিতে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।আট বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবদেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে অপরাধের ধরন বদলে যাচ্ছে। সাইবার স্পেস ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ ও প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে। এমনকি শেয়ারবাজারে কারসাজির ক্ষেত্রেও সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অপরাধ শনাক্ত ও দমনে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের বিকল্প নেই।এ লক্ষ্যেই সাইবার পুলিশ ইউনিটের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাইবার পুলিশ ইউনিটের নিজস্ব ল্যাবরেটরি সুবিধা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।আধুনিকায়ন করা হবে সিআইডির ল্যাবস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিআইডি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি পরিচালনা করে আসছে। ভিসেরা প্রতিবেদন তৈরিতে এ ল্যাব ব্যবহার করা হয়। তবে সময়ের প্রয়োজনে এর সক্ষমতা সম্প্রসারণ করাও জরুরি হয়ে পড়েছে।তিনি বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি ত্বরান্বিত করতে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সেগুলোর যথাযথ প্রত্যয়ন গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসব সক্ষমতা বাড়াতে হবে।সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, আধুনিক ডিজিটাল জগতে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে উন্নত সরঞ্জাম, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং অন্যান্য সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।অনুষ্ঠানে যারা ছিলেনসাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন।কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কেওআইসিএ) সহযোগিতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

দারাজের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা, পণ্য সরবরাহকারী গ্রেপ্তার

মাদক ব্যবসার অভিযোগে বহুল ব্যবহৃত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। সোমবার রাজধানীর বাড্ডা থানায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।এর আগে রোববার বিকেলে অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনী এনে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক কেনাবেচার বিষয়টি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ওই ধারায় এটিই প্রথম মামলা বলে তাঁরা জানান।ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক কেনাবেচায় কঠোর শাস্তিমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধিত ২০২০ ও ২০২৬ সালের বিধান অনুযায়ী, সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স অবৈধভাবে কেনাবেচা, সরবরাহ, প্রস্তাব, প্রচার বা লেনদেনে যুক্ত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) হাসান মারুফ বলেন, সরকার যেকোনো মূল্যে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে চায়। এ জন্য সংশোধিত আইনে সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।তিনি বলেন, দারাজ ছাড়াও সন্দেহজনক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।পণ্য সরবরাহকারীকে গ্রেপ্তারমাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান বলেন, দারাজে বিক্রি হওয়া একটি পণ্যে মাদক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যের কারখানায় অভিযান চালানো হয়।রোববার বিকেলে বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিবিটি ওয়েল ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া যায়। এ সময় কারখানার মালিক ও দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন জাপানে ছিলেন। সেখানে তিনি গাঁজার তরল উপাদান ব্যবহার করে বিশেষ ধরনের তেল তৈরির কৌশল রপ্ত করেন। পরে ঢাকায় ফিরে সুগন্ধী সাবান তৈরির আড়ালে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দারাজের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা, পণ্য সরবরাহকারী গ্রেপ্তার