ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই, সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক

নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে এআই, সতর্ক করল অ্যানথ্রপিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিজেই নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে-এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ছোট ও মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এ ধরনের সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে মডেলগুলোকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।সোমবার রাতে প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে অ্যানথ্রপিক জানায়, নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া কোনো এআই ইন্টারনেট-সংযুক্ত বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজস্ব বটনেট তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে এটি দ্রুত এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে, বন্ধ করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে পারে এবং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে ডেটা সেন্টারেও প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এমন ঝুঁকির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও অন্যরা মনে করছেন, অ্যানথ্রপিক বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডারিও আমোডেই গত মাসে প্রথম এ ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, আগামী এক বছরের মধ্যে, এমনকি তার আগেও, এআই পুরো ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে এবং ইন্টারনেটজুড়ে স্থায়ী একটি বটনেট গড়ে তুলতে পারে।নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির সক্ষমতা কতটাঅ্যানথ্রপিকের নতুন ব্লগ পোস্টে বলা হয়েছে, তাদের পরীক্ষায় ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারবিশিষ্ট মাঝারি আকারের এআই মডেলগুলোকে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে শেষ করতে এখনো তাদের সমস্যা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত কম খরচের বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এআই মডেলগুলো নিজেদের প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ক্ষমতা সংগ্রহ করতে পারে। একটি সরলীকৃত পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে মডেলগুলোকে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তেও দেখা গেছে।অ্যানথ্রপিকের মতে, এভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিলিপি তৈরি করতে সক্ষম কোনো ব্যবস্থা বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। কারণ, এ ধরনের নেটওয়ার্কে বন্ধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নাও থাকতে পারে। ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার এআই সিস্টেম নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, নতুন এই বিশ্লেষণ তাতে আরও মাত্রা যোগ করেছে। এসব ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় সাইবার হামলা, মানুষের সীমিত তদারকিতে কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা।প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী ও কর্মীরাও দ্রুতগতিতে এআইয়ের উন্নয়ন নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তাঁদের কেউ কেউ নিয়ন্ত্রণহীন এআই বিকাশের ফলে গুরুতর, এমনকি মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা নিয়ে সংশয়তবে অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কার সঙ্গে একমত নন সব সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়েরান মার্টিন মনে করেন, পরীক্ষায় ছোট আকারের এআই মডেল চালাতে পারা মানেই বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হওয়া নয়। তিনি বলেন, আমরা সস্তা টেলিভিশনে একটি ছোট মডেল চালাতে পেরেছি এতেই নিরাপত্তাসংকট তৈরি হয়েছে, এমনটা বলা যায় না।মার্টিনের মতে, অ্যানথ্রপিকের পোস্টটি একটি আকর্ষণীয় প্রযুক্তিগত গবেষণাপত্র হলেও এতে বিপদের মাত্রা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঝেংশিয়ং লি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, পরীক্ষাগুলো নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরিচালিত হলেও এআই কার্যত একটি ‘ওয়ার্ম’-এ পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা উদ্বেগজনক।কম্পিউটার নিরাপত্তার ভাষায়, ওয়ার্ম হলো এমন এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম, যা নিজে থেকেই প্রতিলিপি তৈরি করে বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। লি বলেন, কোনো কেন্দ্রীয় সেবার ওপর নির্ভর না করে এ ধরনের ব্যবস্থা অসংখ্য ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়লে সেটি বন্ধ করার মতো নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নাও থাকতে পারে।২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সক্ষমতা অর্জনের আশঙ্কাঅ্যানথ্রপিকের অনুমান, ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা অতীতের ধারায় বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের প্রতিলিপি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।প্রতিষ্ঠানটি আরও আশঙ্কা করছে, এআই মডেলগুলো নিজেদের কম্পিউটিং ক্ষমতা বাড়াতে আরও শক্তিশালী অবকাঠামো, বিশেষ করে ডেটা সেন্টারের প্রসেসরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে পারে। এমনটা সম্ভব হলে তারা অনেক বড় পরিসরে কম্পিউটিং ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে। তবে একজন গবেষকের মতে, অ্যানথ্রপিকের বক্তব্যকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য ঝুঁকির একটি বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।এআইয়ের সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই এর নিরাপদ ব্যবহার, নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য অপব্যবহার প্রতিরোধের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।সূত্র: রয়টার্স

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

পুলিশের কিছু সদস্য এখনো ‘ফ্যাসিবাদীদের’ সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বিভিন্ন তথ্য দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শৃঙ্খলা না মানলে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের কেউ কেউ এখনো ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নানা ধরনের তথ্য দিচ্ছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে আগামী সপ্তাহে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই ইউনিটের শাখা মেট্রো, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে থাকবে। থানা ও জেলা পর্যায়ের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটে আধুনিক যন্ত্রপাতিও থাকবে।তিনি বলেন, বড় আকারের ফরেনসিক ল্যাবসহ প্রয়োজনীয় সাপোর্ট হেডকোয়ার্টার ও বিভাগীয় পর্যায়ে রাখা হবে। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে যেসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা আধুনিক অপরাধপ্রবণতার একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো রাষ্ট্রে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত সাইবার বা স্ক্যামভিত্তিক হয়ে থাকে। এ কারণে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

ইসরায়েলের সামরিক খাতের সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নোভামিল সিস্টেমস লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ এবং প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অচল করে দেওয়ার দাবি করেছে ‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ নামের একটি ইসরায়েলবিরোধী হ্যাকার গোষ্ঠী।এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, সর্বশেষ অভিযানে নোভামিলের গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামগুলো কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে তারা।‘সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট’ গত বছর আত্মপ্রকাশ করে। গোষ্ঠীটির ঘোষিত লক্ষ্য ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা।গোষ্ঠীটির দাবি, নোভামিল ইসরায়েলের যন্ত্রাংশ সংযোজন, সংবেদনশীল ও অত্যন্ত নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি এবং রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষায়িত একটি প্রতিষ্ঠান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির সহযোগিতা রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।নোভামিল যুদ্ধবিমান ও বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার জন্য নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরি করে। পাশাপাশি নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নাইট ভিশন, থার্মাল ক্যামেরা এবং লক্ষ্য নির্ধারণের প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন উন্নত সামরিক ব্যবস্থার বৈদ্যুতিক-যান্ত্রিক ও অপটিক্যাল-যান্ত্রিক যন্ত্রাংশ সংযোজনের কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।এক টেরাবাইট তথ্য সংগ্রহের দাবিসাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া কয়েকটি দলের তৈরি নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নোভামিলের একটি কারখানার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা হয়।গোষ্ঠীটির ভাষ্য, অভিযানে নোভামিলের প্রায় এক টেরাবাইট সংবেদনশীল ও গোপন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত নিখুঁত যন্ত্রপাতি বা সিএনসি এবং নেটওয়ার্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা অচল করে দেওয়া হয়েছে।এতে নোভামিলের উৎপাদন সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে তাদের দাবির বিষয়ে নোভামিল বা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্যের কথা এখানে উল্লেখ করা হয়নি।কর্মীদের সতর্কবার্তা‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট নোভামিলের কর্মীদেরও সতর্ক করেছে।বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি বলেছে, নোভামিলের কর্মীদের ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য তাদের হাতে রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।গোষ্ঠীটির দাবি, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে নোভামিলের সহযোগিতার বিষয়ে তারা যে বিপুল তথ্য সংগ্রহ করেছে, প্রকাশ করা তথ্য তার সামান্য অংশ। তবে এসব তথ্যের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করেনি তারা।আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলার দাবিএর আগে ইসরায়েলের সামরিক খাতের ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোয় হামলা চালানোর দাবি করেছিল সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিজেডএমটি, ইমকো, মায়া ও কার্সোমেটালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব হামলায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনব্যবস্থা অচল করে দেওয়ার দাবিও করেছিল গোষ্ঠীটি।প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ‘সাইবার অবরোধ’ চালানোকে নিজেদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করে আসছে সাইবার সাপোর্ট ফ্রন্ট। নোভামিলের বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযানকে সেই কৌশলের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে গোষ্ঠীটি।

ইসরায়েলি সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা

এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও কাজের গতি বাড়াতে এর ব্যবহার হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি, ভিডিও ও কণ্ঠ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় মিস-ইনফরমেশন ও ডিপফেক নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রযুক্তিবিদদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এআইয়ের অপব্যবহার সাইবার অপরাধ আরও জটিল করে তুলতে পারে।প্রযুক্তিবিদদের মতে, এআই ব্যবহার করে এমন ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা দেখে সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে বোঝা সম্ভব নয় যে সেগুলো ভুয়া। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, ডেটা নিরাপত্তা এবং এআই মডেলের পক্ষপাত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ তানভীর হাসান জোহা বলেন, আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভুয়া তথ্য ও ডিপফেক। এগুলো মোকাবিলায় মানুষের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।এখনো হয়নি এআই নীতিমালাদেশে এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নীতিমালা প্রণয়ন হয়নি। সরকার জানিয়েছে, এআই নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে এবং এ ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।গত ৭ জুলাই আইসিটি টাওয়ারে টেলিকম বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের কাছে এআই নীতিমালা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে এবং শিগগির নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এআই যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে, তেমনি এর অপব্যবহারও নানা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ভুয়া তথ্য, ডিপফেক ও জনমত প্রভাবিত করার কাজে এআই ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার সক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাড়ছে ভুয়া ভিডিওসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব কনটেন্ট এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যে অনেকেই সেগুলোকে বাস্তব ঘটনা মনে করছেন। বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হলেও প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক মানুষ তা করতে পারছেন না।সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শেখ হাসিনাকে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও যৌথ সংবাদ সম্মেলন করতে দেখা যায়। পরে ভিডিওটি ভুয়া বলে জানা যায়।তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ডিসমিসল্যাবের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুলাই মাসে বাংলাদেশে ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে এআই দিয়ে তৈরি প্রায় এক হাজার ভুয়া ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এসব ভিডিও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।রাজনৈতিক কনটেন্টেও অপব্যবহারের অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিরোধের ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে পরিচালিত ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থেকে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এআইয়ের অপব্যবহার শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই আলোচনার বিষয়। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক বট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে নির্বাচনী জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছিল। এ নিয়ে ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক দ্বিদলীয় নীতি কেন্দ্র ‘Preparing for Artificial Intelligence and Other Challenges to Election Administration’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।দক্ষতা বাড়ানোর তাগিদপ্রযুক্তিবিদদের মতে, এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। ফলে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে এআই ব্যবহারে নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটাল সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এআই নীতিমালা তৈরির জন্য সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটি ইউনেস্কোর পরামর্শ নিয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে।

এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ