ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
ভোট গণনার ভিডিও নেই, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

ভোট গণনার ভিডিও নেই, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

ভারতের কর্নাটকের একটি বিধানসভা আসনে ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ দেখাতে না পারায় দেশটির নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, কমিশনের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ পরবর্তী শুনানিতে জমা দিতে হবে। অন্যথায় এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে আদালত।২০২৩ সালের কর্নাটকের শ্রীনগেরি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার শুনানিতে এ নির্দেশনা আসে। ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান। তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি বিচারপতিরা।আনন্দবাজার অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সঞ্জিব সচদেবের বেঞ্চ এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।পুনর্গণনায় বদলে যায় ফল২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীনগেরি আসনে প্রথমে কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজেগৌড়াকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এ ফল চ্যালেঞ্জ করে আইনি পদক্ষেপ নেন বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবারাজ। পরে ওই আসনে ভোট পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনর্গণনায় পোস্টাল ব্যালটের হিসাবে ২০১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী।এ ফলাফল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন কংগ্রেস প্রার্থী। তিনি ভোট গণনা ও পুনর্গণনার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের আবেদন জানান।বাজে অজুহাত শুনব নাশুনানিতে বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ দেন, ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি প্রকাশ্যে আনা উচিত নির্বাচন কমিশনের। কমিশনের আইনজীবী শেষাদ্রী নায়ডু আদালতকে জানান, গণনার ভিডিও ফুটেজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, কমিশন কীভাবে বলতে পারে যে তারা ভিডিও রেকর্ডিং খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে?আদালত নির্দেশনা দিয়ে বলে, কমিশনের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ পরবর্তী শুনানিতে জমা দিতে হবে। তা না হলে আদালত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে। বিচারপতিরা বলেন, আমরা এই ধরনের বাজে অজুহাত শুনব না।মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৫ ফেব্রুয়ারি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ ঘিরে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে। এর মধ্যেই ভোট গণনার ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান সামনে এল।

ভোটার তালিকা সংশোধন স্থগিতের দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পথে বিরোধীদের মিছিল

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিতের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেছেন হাজারো বিরোধী নেতা-কর্মী ও সমর্থক। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানী নয়াদিল্লিতে এ কর্মসূচি পালিত হয়। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পাচ্ছে। এ নিয়ে চলতি মাসের শুরু থেকে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করছেন বিরোধী দলগুলোর নেতা-কর্মী এবং ‘ককরোচ’ যুব আন্দোলনের সমর্থকেরা।গত বছর শুরু হওয়া এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা জাপানের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বাদ পড়া নামের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মৃত ব্যক্তি, ৬ কোটি ৩০ লাখ অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তি এবং ৩ কোটি এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।সোমবারের মিছিলটি নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকার প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সুপ্রিম কোর্টের দিকে যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে বিভিন্ন দলের পতাকা দেখা যায়। তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।এর আগে সপ্তাহান্তে বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতাসহ হাজারো বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকায়ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সম্ভাবনাভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের করা আবেদনটি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য উঠতে পারে। আবেদনে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী।আবেদনে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলোর নিরীক্ষা, আগাম নোটিশ ও শুনানি ছাড়া ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া বন্ধে সুরক্ষাব্যবস্থা এবং দেশজুড়ে সংশোধন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে।তবে নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের বক্তব্য, ভুল করে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা পুনরায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবেন।অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, বিরোধীরা বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।সোমবারের মিছিলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন। পিএইচডির শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ সিয়াগ বলেন, ‘দেশের মৌলিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত আসছে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বাধীনতা হারাচ্ছে। এই আঘাতের প্রতিবাদ জানাতেই আমি এখানে এসেছি।’১১ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ছয়টি মেট্রো স্টেশনবিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করে দিল্লি পুলিশ। সোমবার ছয়টি মেট্রো স্টেশন ১১ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।এদিকে দিল্লির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরকে আর আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারিত না রাখার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। বিক্ষোভ আয়োজনের জন্য নতুন তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।চলতি বছরের শুরুর দিকে জন্তর মন্তরে কয়েক সপ্তাহ ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন সিজেপির সমর্থকেরা। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা ওই কর্মসূচি পালন করেন।আলাদাভাবে সিজেপির নেতারা দিল্লি পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের তারিখ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারিখ জানানো না হলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।বিরোধীদের আন্দোলনকে ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা বলছে বিজেপিবিজেপি বলছে, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যেই এই বিক্ষোভ করছে।ভারতের কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সাংবাদিকদের বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং রাজনীতির নামে মানুষকে আক্রমণ করার মাধ্যমে বিরোধীরা ক্ষমতায় ফিরতে চায়।গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দলের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হয়ে উঠেছে এই যুব আন্দোলন। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সরকারি স্কুলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করেছেন এর সমর্থকেরা।গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধান অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিরোধীদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়।বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এসব জনগোষ্ঠীর ভোটারদের ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে সমর্থন করার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি—উভয় পক্ষই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।সূত্র: রয়টার্স

ভোটার তালিকা সংশোধন স্থগিতের দাবিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পথে বিরোধীদের মিছিল

বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক বাংলাভাষীকে ভারতে ফেরানো হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া কয়েকজন বাংলাভাষীকে আবার ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে এ তথ্য জানিয়েছে। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করেছেন। তবে নাগরিকত্ব ও বহিষ্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত রাখা হয়েছে।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শর্মার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিষয়টি নথিভুক্ত করে আদালত বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভারতে ফিরে আসায় আপাতত মামলাগুলো চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।হাইকোর্টের নির্দেশের পর ফেরানোর উদ্যোগএর আগে কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার সুনালি খাতুন, সুইটি বিবিসহ কয়েকজনকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে বাংলাদেশে পাঠানোর কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। একই সঙ্গে তাঁদের এক মাসের মধ্যে ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।সুনালি খাতুনের পরিবারের অভিযোগ ছিল, তাঁকে স্বামী ও সন্তানসহ আটক করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। একই ধরনের অভিযোগ ওঠে সুইটি বিবি ও তাঁর সন্তানদের ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশে পাঠানোর পর তাঁদের কয়েকজনকে স্থানীয় পুলিশ আটক করেছিল।নাগরিকত্ব যাচাই করবে ভারতগত ২২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশে পাঠানো কয়েকজনকে ভারতে ফিরিয়ে এনে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি যাচাই করা হবে। সরকার তখন জানিয়েছিল, এ সিদ্ধান্ত কোনো নজির হিসেবে বিবেচিত হবে না। যাচাই শেষে তাঁদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এর আগে গত ডিসেম্বরে মানবিক কারণে সুনালি খাতুন ও তাঁর আট বছর বয়সী সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। অন্তঃসত্ত্বা সুনালির চিকিৎসা ও প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশও দিয়েছিলেন আদালত।সর্বশেষ শুনানিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনজীবী জানান, সলিসিটর জেনারেলের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং সবাই ভারতে ফিরে এসেছেন।তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, নাগরিকত্ব এবং কাউকে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নগুলোর বিষয়ে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

বাংলাদেশে পাঠানো কয়েক বাংলাভাষীকে ভারতে ফেরানো হয়েছে