অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। শনিবার তিনি দেশে ফেরেন।সফরের প্রথম পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত ‘স্থলবাহিনী প্রধানদের আলোচনা সভা এবং প্রতিরক্ষা আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০২৬’-এ অংশ নেন সেনাপ্রধান। এ সময় তিনি মেলবোর্নে অবস্থিত ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সেখানে বাংলাদেশের সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘মার্কিন সেনাবাহিনীর বার্ষিক সম্মেলন ও প্রদর্শনী’তে অংশ নেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরকালে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি দুই দেশের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাও পরিদর্শন করেন।সংশ্লিষ্টদের আশা, সেনাপ্রধানের এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিদ্যমান পেশাগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত ‘ল্যান্ড ফোর্সেস ইন্টারন্যাশনাল ল্যান্ড ডিফেন্স এক্সপোজিশন অ্যান্ড চিফ অব আর্মি সিম্পোজিয়াম ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।সোমবার অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েল এবং ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি প্যাসিফিকের (ইউএসএআরপিএসি) ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল বি ভাওয়েলের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেন সেনাপ্রধান।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।সুসান কোয়েলের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।অন্যদিকে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল বি ভাওয়েলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা এবং তথ্য বিনিময় আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করতে ‘ডিজাস্টার রেসপন্স এক্সারসাইজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ’ (ডিআরইই) আয়োজনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।এ ছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং (বিআইপিএসওটি)-এ গ্লোবাল পিস অপারেশনস ইনিশিয়েটিভের (জিপিওআই) অর্থায়নে প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়।বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পশ্চিম ক্যাম্পাসে তিনটি নতুন ভবন উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার মিরপুর সেনানিবাসে এসব ভবনের উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য শুধু একাডেমিক উৎকর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানবসম্পদ গড়ে তোলার মধ্যেই এর প্রকৃত সাফল্য নিহিত।তিনি আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে বিইউপির ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।অনুষ্ঠানে বিইউপি সিনেটের সদস্যরা, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বিইউপির সাবেক উপাচার্যরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিশিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিইউপি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টরা জানান, পশ্চিম ক্যাম্পাসের নতুন তিনটি ভবন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এসব ভবনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীল চর্চার সুযোগ বাড়বে।
রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলাদেশের পরিবেশ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ পরিবেশ ধ্বংস, মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন।জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানের কারণে পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও বাড়ছে।তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় দেশের অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সংকটটির প্রভাব শুধু মানবিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; পরিবেশ, নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।অনুষ্ঠানে এনডিসির কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানোই ছিল ক্যাপস্টোন কোর্সের অন্যতম উদ্দেশ্য।তিন সপ্তাহের এই কোর্সে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতি, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, জ্বালানি, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।কোর্সে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অংশগ্রহণকারীরাও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।এবারের ক্যাপস্টোন কোর্সে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সাংবাদিক ও করপোরেট প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশার ৩৭ জন অংশ নেন।সমাপনী অনুষ্ঠানে কোর্সে অংশ নেওয়া ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন সেনাপ্রধান। অনুষ্ঠানে কোর্সের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরা হয়।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।