ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে থাকা হত্যা মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মৃত জয়নাল আবেদিন (৪২) নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার বেগমপুর এলাকার একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গত ২০ এপ্রিল জয়নাল আবেদিনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।শনিবার সন্ধ্যায় কারাগারে হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন জয়নাল। পরে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাত ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।জেলার মো. বিল্লাল উদ্দিন বলেন, ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার জয়নাল আবেদিনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আবারও পিছিয়েছে সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। নতুন করে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে সিআইডির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালতে সময়ের আবেদন করেন। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা এবার নবমবারের মতো সময় পেলেন।১১ জনকে আসামি করে মামলামামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।মামলায় সামিরা হকের পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তাঁর মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে।যেভাবে সালমান শাহকে বাসায় পাওয়া যায়মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, যিনি সালমান শাহ নামে পরিচিত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় ছিলেন।সেদিন সালমানের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও ছোট ভাই শাহরান শাহ বাসায় যান। পরিবারের সদস্যদের সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল।বাসায় গিয়ে তাঁরা সালমানের স্ত্রী সামিরা ও কর্মচারী আবুলের কাছ থেকে জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন। একই সময়ে চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বাসায় যান।সালমান ঘুমিয়ে আছেন জানতে পেরে তাঁর বাবা-মা পরে আবার আসবেন বলে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বাবাকে জানান, তাঁর ছেলের ‘যেন কী হয়েছে’।খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ইস্কাটনের বাসায় ফিরে সালমানকে শোবার ঘরে পড়ে থাকতে দেখেন। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, তখন কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। রুবী নামের একজন নারীও সেখানে ছিলেন। এ সময় সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।হাসপাতালে নেওয়ার পথে গলায় দড়ির দাগএজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, পরে সালমানকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে পরিবারের সদস্যরা তাঁর গলায় দড়ির দাগ দেখতে পান। তাঁর মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ হয়ে গিয়েছিল।প্রথমে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সালমান শাহর মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে। দীর্ঘ সময় পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে তাই তাঁর পরিবার ও ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়ায় প্রতিবেদন জমা দিতে আরও সময় চেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

আবারও পিছিয়েছে সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার মামলায় তাঁর শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।রোববার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মরিয়মের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম উদ্দিন।আদালত সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছফুয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে মরিয়ম বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন তাঁর বাবা মো. সোলেমান নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন।মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিন, শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর নিজাম উদ্দিনকে আসামি করা হয়।তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। পরে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলার নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আবদুল মতিনকে খালাস দেওয়া হয়।রায়ের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন এবং নিহতের স্বজনেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে মরিয়ম হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোছা. হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের পরিকল্পনায় হালিমাকে হত্যা করা হয়।এ ঘটনায় নিহত হালিমার মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পা (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্রীপ গ্রামের নিজ বাড়িতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন হালিমা। পরদিন সকালে তাঁর মেয়ে চাম্পা দেখতে পান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকানো। দরজা খুলে ভেতরে মাকে না পেয়ে তিনি খোঁজ শুরু করেন।পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্থানীয়রা। সেখানে গিয়ে স্বজনেরা তাঁর মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। নাক-মুখে রক্তাক্ত জখম এবং গলায় সাদা রশি পেঁচানো ছিল।পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।এ ঘটনায় চাম্পা বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।থানা-পুলিশ দুই দিন তদন্তের পর মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তভার নেয়। তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বাদী চাম্পার আচরণ ও বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হয় তদন্তকারীদের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ বসতভিটার জমি কিনেছিলেন বলে দাবি করতেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এরপর দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা করেন।এ নিয়ে বিল্লালের সঙ্গে হালিমার বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে পূর্বশত্রুতার জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন বলেও পিবিআই জানিয়েছে। পরে তাঁকে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পিবিআইয়ের দাবি, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার উদ্দেশ্যে চাম্পা সহযোগীদের নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে সহযোগীরা বাড়িতে এলে চাম্পা তাঁর মাকে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীরা হালিমাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং তাঁর মাথা মাটিতে পুঁতে রাখেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চাম্পা প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা এবং প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের হাতে মাকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য ও গর্হিত অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্ত্রী তানিয়া বেগমকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় দেন।রায় ঘোষণার সময় আসামি মোহাম্মদ আজাদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে।যেভাবে হত্যার ঘটনামামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আজাদ ও তাঁর স্ত্রী তানিয়া বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।এরই জেরে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই দিবাগত রাতে আজাদ তাঁর স্ত্রী তানিয়ার হাত-পায়ে বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে শক দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তানিয়ার মৃত্যু হয়।এ ঘটনায় নিহত তানিয়ার মা মায়া বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদ আজাদকে প্রধান আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় হত্যা মামলা করেন।পরে পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, বিভিন্ন আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং মামলার বিভিন্ন নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত মঙ্গলবার মোহাম্মদ আজাদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।দীর্ঘদিন পর ন্যায়বিচার পেয়েছিরায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘদিন পর তাঁরা আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান তিনি।রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণে বাদীপক্ষের স্বজনদের সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

স্ত্রীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

চোর সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে বাদশা (২৭) নামে এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় মাজেদুল ইসলাম (১৯) নামে আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।নিহত বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা জামালের ছেলে। আহত মাজেদুল ইসলামও একই এলাকার বাসিন্দা।আটক ব্যক্তিরা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আজিমুল হক ও ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী সাইফুল ইসলাম সজীব।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে চুরি বা অবৈধভাবে প্রবেশের সন্দেহে বাদশা ও মাজেদুলকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের একটি পোল্ট্রি খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাতভর তাঁদের মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।নির্যাতনের একপর্যায়ে দুই তরুণ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁদের হাত-পা বেঁধে ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার সড়কের পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।শনিবার ভোরে কয়েকজন স্থানীয় মাছ শিকারি সড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দুই তরুণকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। এ সময় বাদশাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। গুরুতর আহত মাজেদুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।আহত মাজেদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হলেও তাঁরা বারবার তা অস্বীকার করেন। এরপরও তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং চুরির কথা স্বীকার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে ভোরে জ্ঞান ফিরলে পাশে বাদশার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।ঘটনাটি জানাজানি হলে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন জানান, বাদশা হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আজিমুল হক ও কর্মচারী সাইফুল ইসলাম সজীবকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

চোর সন্দেহে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

ডনের গ্রেপ্তারে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য ফের সামনে

প্রায় তিন দশক ধরে রহস্যের জট খোলেনি চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের বাসায় তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে আত্মহত্যা ও হত্যার- দুই ধরনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। এর মধ্যে একসময়ের চলচ্চিত্র খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডনের গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।গত রোববার সৌদি আরবে যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁকে বিমানবন্দর থেকে যেতে দেওয়া হয়নি। পরে সিআইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।সিআইডি সূত্র বলছে, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের বাসায় কী ঘটেছিল, কারা সেখানে ছিলেন এবং কী কারণে মৃত্যুটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানো হয়েছিল- এসব বিষয়ও নতুন করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।১২ লাখ টাকার চুক্তির দাবিডনের গ্রেপ্তারের পর মামলার পুরোনো নথি ও জবানবন্দির বিষয়গুলোও সামনে এসেছে। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ ১৯৯৭ সালে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা, কয়েকজনের সম্পৃক্ততা এবং অর্থ লেনদেনের কথা বলেছিলেন।রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, ওই জবানবন্দিতে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সম্পর্কের জেরে হত্যার পরিকল্পনা এবং ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তির কথা উঠে আসে।তবে রিজভী আহমেদ সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। সালমান ও শাবনূরকে ঘিরে তাঁর কিছু বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শাবনূর তাঁর বক্তব্যের কয়েকটি অংশকে পরস্পরবিরোধী বলে দাবি করেছেন।পুরোনো ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও সাম্প্রতিক বক্তব্যের মধ্যে এই পার্থক্য কেন, কোন পরিস্থিতিতে ওই জবানবন্দি দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের সঙ্গে এর কতটা মিল রয়েছে- এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।পুরোনো তদন্তে আত্মহত্যার কথাসালমান শাহর মৃত্যুর পর তাঁর বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ করা হয়।১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। সেখানে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হয়। পরিবার ওই প্রতিবেদনে আপত্তি জানায়। পরে বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়। ২০১৪ সালের ওই তদন্ত প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি।এরপর ২০১৬ সালে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংস্থাটি ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়ে জানায়, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি; তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরিবার ওই প্রতিবেদনেও নারাজি দেয়।২০২৫ সালে মামলায় নতুন মোড়দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলা বাতিল করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে নেওয়ার নির্দেশ দেন।এর পরদিন রমনা থানায় ১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়। আসামিরা হলেন সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, তাঁর মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রিজভী আহমেদ।দেহাবশেষ উত্তোলন নিয়েও জটিলতাসালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তে দেহাবশেষ উত্তোলন ও পুনরায় ময়নাতদন্তের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা ২০ মে দেহাবশেষ উত্তোলন করে সুরতহাল ও পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন করেন। ২৪ মে আদালত তা অনুমোদন করেন।পরে ২৩ জুন বাদীপক্ষের আবেদনের পর আগের আদেশ বাতিলের বিষয়ে আদালতে প্রক্রিয়া শুরু হয়। একাধিক প্রতিবেদনে ওই আবেদন মঞ্জুর করে আগের আদেশ বাতিলের কথা জানানো হয়েছে।বাদীপক্ষের যুক্তি ছিল, প্রায় তিন দশক পর দেহাবশেষ থেকে কার্যকর আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা কম। পাশাপাশি ধর্মীয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়।ডনকে ঘিরে সিআইডির প্রশ্নসিআইডি সূত্র জানিয়েছে, ডনের গ্রেপ্তার তদন্তে নতুন তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। তদন্তকারীরা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে ১৯৯৭ সালের নথি, রিজভীর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি, পুরোনো তদন্ত প্রতিবেদন, পরিবারের বক্তব্য এবং নতুন মামলার এজাহার মিলিয়ে দেখবেন।ডনের কাছে ১৯৯৬ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর অবস্থান, সালমান শাহর সঙ্গে শেষ যোগাযোগ, সামিরা ও অন্য আসামিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং ১২ লাখ টাকার কথিত চুক্তির বিষয়ে জানতে চাওয়া হতে পারে।ঘটনার দিন ইস্কাটনের বাসায় যাঁরা গিয়েছিলেন, সালমানকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় যাঁরা সঙ্গে ছিলেন এবং পরে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থার কাছে যাঁরা বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যও নতুন তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতে পারে।মায়ের দাবি, তদন্তে গতি আনতে হবেসালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ডনের গ্রেপ্তারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করলেই তদন্ত শেষ হওয়ার সুযোগ নেই।তিনি ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের তথ্য বের করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদের, বিশেষ করে সামিরা হক, লতিফা হক লুসি ও আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।৩০ আগস্ট প্রতিবেদন জমার দিনসিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, এজাহারভুক্ত চার নম্বর আসামি ডনকে গ্রেপ্তার করা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ও রহস্য উদ্ঘাটনে আইনানুগ সব পথ অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ডনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা এরই মধ্যে আটবার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই আদালত আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য করেন।ডনের গ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভক্তদের অনেকে বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রিজভী আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং শাবনূরের প্রতিক্রিয়াও আলোচনায় এসেছে।তবে প্রায় তিন দশক পর নতুন করে সামনে আসা পুরোনো নথি, জবানবন্দি ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কোনটি কতটা সত্য- তার উত্তর এখন নির্ভর করছে সিআইডির চলমান তদন্তের ওপর।

ডনের গ্রেপ্তারে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য ফের সামনে