ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন



প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন
নিহত হালিমার মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পা (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোছা. হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের পরিকল্পনায় হালিমাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনায় নিহত হালিমার মেয়ে মামলার বাদী চাম্পা (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্রীপ গ্রামের নিজ বাড়িতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন হালিমা। পরদিন সকালে তাঁর মেয়ে চাম্পা দেখতে পান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকানো। দরজা খুলে ভেতরে মাকে না পেয়ে তিনি খোঁজ শুরু করেন।

পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্থানীয়রা। সেখানে গিয়ে স্বজনেরা তাঁর মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। নাক-মুখে রক্তাক্ত জখম এবং গলায় সাদা রশি পেঁচানো ছিল।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনায় চাম্পা বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

থানা-পুলিশ দুই দিন তদন্তের পর মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তভার নেয়। তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বাদী চাম্পার আচরণ বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হয় তদন্তকারীদের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ বসতভিটার জমি কিনেছিলেন বলে দাবি করতেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এরপর দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা করেন।

নিয়ে বিল্লালের সঙ্গে হালিমার বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে পূর্বশত্রুতার জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন বলেও পিবিআই জানিয়েছে। পরে তাঁকে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পিবিআইয়ের দাবি, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার উদ্দেশ্যে চাম্পা সহযোগীদের নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে সহযোগীরা বাড়িতে এলে চাম্পা তাঁর মাকে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীরা হালিমাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং তাঁর মাথা মাটিতে পুঁতে রাখেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চাম্পা প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা এবং প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের হাতে মাকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য গর্হিত অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিষয় : হত্যা মামলা অপরাধ হত্যাকাণ্ড জমি বিরোধ পিবিআই তদন্ত করিমগঞ্জ

দৈনিক নবকাল

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোছা. হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের পরিকল্পনায় হালিমাকে হত্যা করা হয়।

ঘটনায় নিহত হালিমার মেয়ে মামলার বাদী চাম্পা (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।

পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্রীপ গ্রামের নিজ বাড়িতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন হালিমা। পরদিন সকালে তাঁর মেয়ে চাম্পা দেখতে পান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকানো। দরজা খুলে ভেতরে মাকে না পেয়ে তিনি খোঁজ শুরু করেন।

পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্থানীয়রা। সেখানে গিয়ে স্বজনেরা তাঁর মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। নাক-মুখে রক্তাক্ত জখম এবং গলায় সাদা রশি পেঁচানো ছিল।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনায় চাম্পা বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

থানা-পুলিশ দুই দিন তদন্তের পর মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তভার নেয়। তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বাদী চাম্পার আচরণ বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হয় তদন্তকারীদের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ বসতভিটার জমি কিনেছিলেন বলে দাবি করতেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এরপর দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা করেন।

নিয়ে বিল্লালের সঙ্গে হালিমার বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে পূর্বশত্রুতার জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন বলেও পিবিআই জানিয়েছে। পরে তাঁকে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পিবিআইয়ের দাবি, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার উদ্দেশ্যে চাম্পা সহযোগীদের নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে সহযোগীরা বাড়িতে এলে চাম্পা তাঁর মাকে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীরা হালিমাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং তাঁর মাথা মাটিতে পুঁতে রাখেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চাম্পা প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।

পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা এবং প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের হাতে মাকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য গর্হিত অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন
0:00 0:00
1.0x