ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোছা. হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের পরিকল্পনায় হালিমাকে হত্যা করা হয়।এ ঘটনায় নিহত হালিমার মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পা (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্রীপ গ্রামের নিজ বাড়িতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন হালিমা। পরদিন সকালে তাঁর মেয়ে চাম্পা দেখতে পান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকানো। দরজা খুলে ভেতরে মাকে না পেয়ে তিনি খোঁজ শুরু করেন।পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্থানীয়রা। সেখানে গিয়ে স্বজনেরা তাঁর মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। নাক-মুখে রক্তাক্ত জখম এবং গলায় সাদা রশি পেঁচানো ছিল।পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।এ ঘটনায় চাম্পা বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।থানা-পুলিশ দুই দিন তদন্তের পর মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তভার নেয়। তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বাদী চাম্পার আচরণ ও বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হয় তদন্তকারীদের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ বসতভিটার জমি কিনেছিলেন বলে দাবি করতেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এরপর দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা করেন।এ নিয়ে বিল্লালের সঙ্গে হালিমার বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে পূর্বশত্রুতার জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন বলেও পিবিআই জানিয়েছে। পরে তাঁকে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পিবিআইয়ের দাবি, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার উদ্দেশ্যে চাম্পা সহযোগীদের নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে সহযোগীরা বাড়িতে এলে চাম্পা তাঁর মাকে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীরা হালিমাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং তাঁর মাথা মাটিতে পুঁতে রাখেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চাম্পা প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা এবং প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের হাতে মাকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য ও গর্হিত অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সাবেক ছাত্রদল নেতার রিসোর্ট দখলের অভিযোগ

কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় ‘নকশী রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক রিসোর্ট রাতের আঁধারে দখলের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আল আমিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুল হাসান মিল্কী রয়েছেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজ শাকিল (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মাহফুজ শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং এলাকার শামশুদ্দিনের ছেলে।মামলায় যা বলা হয়েছেনকশী রিসোর্টের মালিকের স্ত্রী ইসরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক ছাত্রদল নেতা আল আমিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি গভীর রাতে নকশী রিসোর্টে ঢুকে সেটি দখল করে নেন।বাদীর অভিযোগ, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আসামিরা এর আগে তাঁর মালিকানাধীন ‘মিল্কী রিসোর্টের’ চারটি ফ্ল্যাট এবং নিচতলার ৮০০ বর্গফুটের একটি দোকান দখলে নেন। পরে রাত তিনটার দিকে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি লাইট হাউজ এলাকায় গিয়ে তাঁর মালিকানাধীন নকশী রিসোর্টও দখল করে নেন।জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রিসোর্টের মালিক থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। পরে ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ওসি জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাহফুজ শাকিল মামলার ২ নম্বর আসামি।মালিকের অভিযোগনকশী রিসোর্টের মালিক আব্দুর রশিদ চৌধুরী বলেন, জামায়াত নেতা মাওলানা আলমগীরের ছেলে আল আমিনকে তিনি মিল্কী রিসোর্টের চারটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান ভাড়া দিয়েছিলেন। তবে আল আমিন ভাড়া পরিশোধ না করে সেগুলো দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।আব্দুর রশিদের আরও অভিযোগ, ফ্ল্যাট ও দোকান দখলে রাখার পরও আল আমিন তাঁকে ছিনতাই, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।অভিযোগ অস্বীকার আল আমিনেরতবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আল আমিন। তিনি আব্দুর রশিদকে প্রতারক দাবি করে বলেন, নকশী রিসোর্টের জমির মালিক তিনি নন। তাঁর দাবি, রিসোর্ট ও জমির মালিক ছিলেন আবছার উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর মৃত্যুর পর আব্দুর রশিদ ভুয়া কাগজ তৈরি করে রিসোর্টটি দখল করেছেন।আল আমিন বলেন, আব্দুর রশিদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।সাংবাদিকদের নিয়ে ফেসবুক পোস্টএর আগে কক্সবাজার শহরে জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকেরা সংবাদ প্রকাশ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করে একটি স্ট্যাটাস দেন আল আমিন। সেখানে কক্সবাজারের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন তিনি।এর একদিন পরই রাতে রিসোর্ট দখলের অভিযোগে মামলা ও একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।

সাবেক ছাত্রদল নেতার রিসোর্ট দখলের অভিযোগ