কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় ‘নকশী রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক রিসোর্ট রাতের আঁধারে দখলের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আল আমিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার অন্য
আসামিদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের
নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুল হাসান মিল্কী রয়েছেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল
থেকে মাহফুজ শাকিল (৪০) নামের একজনকে
গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দিবাগত
রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার শহরের
লাইট হাউজ এলাকায় এ
ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে
ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
যায়। এ সময় মাহফুজ
শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি
উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং এলাকার শামশুদ্দিনের ছেলে।
মামলায় যা বলা হয়েছে
নকশী রিসোর্টের
মালিকের স্ত্রী ইসরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি
করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক
ছাত্রদল নেতা আল আমিনের
নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২
জন অজ্ঞাত ব্যক্তি গভীর রাতে নকশী
রিসোর্টে ঢুকে সেটি দখল
করে নেন।
বাদীর অভিযোগ,
১০ লাখ টাকা চাঁদা
না দেওয়ায় আসামিরা এর আগে তাঁর
মালিকানাধীন ‘মিল্কী রিসোর্টের’ চারটি ফ্ল্যাট এবং নিচতলার ৮০০
বর্গফুটের একটি দোকান দখলে
নেন। পরে রাত তিনটার
দিকে ১০ থেকে ১২
জন ব্যক্তি লাইট হাউজ এলাকায়
গিয়ে তাঁর মালিকানাধীন নকশী
রিসোর্টও দখল করে নেন।
জাতীয় জরুরি
সেবা ৯৯৯-এ ফোন
পাওয়ার পর সদর থানা
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
আনে।
কক্সবাজার সদর
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ
আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রিসোর্টের
মালিক থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।
পরে ৯৯৯ নম্বর থেকে
ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে
যায়। সেখান থেকে একজনকে গ্রেপ্তার
করা হয়েছে।
ওসি জানান,
এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে
মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাহফুজ শাকিল মামলার ২ নম্বর আসামি।
মালিকের অভিযোগ
নকশী রিসোর্টের
মালিক আব্দুর রশিদ চৌধুরী বলেন,
জামায়াত নেতা মাওলানা আলমগীরের
ছেলে আল আমিনকে তিনি
মিল্কী রিসোর্টের চারটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান
ভাড়া দিয়েছিলেন। তবে আল আমিন
ভাড়া পরিশোধ না করে সেগুলো
দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন
তিনি।
আব্দুর রশিদের
আরও অভিযোগ, ফ্ল্যাট ও দোকান দখলে
রাখার পরও আল আমিন
তাঁকে ছিনতাই, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ অস্বীকার আল আমিনের
তবে এসব
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আল আমিন। তিনি
আব্দুর রশিদকে প্রতারক দাবি করে বলেন,
নকশী রিসোর্টের জমির মালিক তিনি
নন। তাঁর দাবি, রিসোর্ট
ও জমির মালিক ছিলেন
আবছার উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর মৃত্যুর পর
আব্দুর রশিদ ভুয়া কাগজ
তৈরি করে রিসোর্টটি দখল
করেছেন।
আল আমিন
বলেন, আব্দুর রশিদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে
বিরোধ রয়েছে।
সাংবাদিকদের নিয়ে ফেসবুক পোস্ট
এর আগে
কক্সবাজার শহরে জমি দখলের
অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকেরা সংবাদ
প্রকাশ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করে
একটি স্ট্যাটাস দেন আল আমিন।
সেখানে কক্সবাজারের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ে
আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি ৫০০
থেকে ১ হাজার টাকার
বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন তিনি।
এর একদিন পরই রাতে রিসোর্ট দখলের অভিযোগে মামলা ও একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।