ঢাকা    রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা


জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা
মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক আমেরিকাপ্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলাটি করেন আমেরিকাপ্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে সানি আলম শ্রাবণ।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাধবপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাধবপুর উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের ইমরান আহম্মদ (৪০), কুদ্দুস মিয়া, আলীনগর গ্রামের আশিকুর রহমান মামুন (৪৫) এবং কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৫২)।

বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম কামালসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তাঁরা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বাদীপক্ষের ভাষ্য, জমিটি ক্রয়সূত্রে তাঁদের মালিকানাধীন এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় যাওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তাঁরা।

‘আগেও টাকা দিয়েছি’

প্রবাসী শাহিন মিয়া বলেন, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমেরিকা যাওয়ার আগে নির্মাণকাজে বাধা না দেওয়ার জন্য শামসুল ইসলাম কামালকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

শাহিন মিয়ার অভিযোগ, এরপরও সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল।

তিনি বলেন, জমিটি বিরোধপূর্ণ। ৩১ শতক জমির তিনজন ওয়ারিশ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ওয়ারিশের কাছ থেকে পুরো জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

আদালতের নির্দেশে মামলা

মামলার বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


বিষয় : মামলা হবিগঞ্জ মাধবপুর চাঁদা

দৈনিক নবকাল

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক আমেরিকাপ্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলাটি করেন আমেরিকাপ্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে সানি আলম শ্রাবণ।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাধবপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাধবপুর উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের ইমরান আহম্মদ (৪০), কুদ্দুস মিয়া, আলীনগর গ্রামের আশিকুর রহমান মামুন (৪৫) এবং কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৫২)।

বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম কামালসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তাঁরা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

বাদীপক্ষের ভাষ্য, জমিটি ক্রয়সূত্রে তাঁদের মালিকানাধীন এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় যাওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তাঁরা।

‘আগেও টাকা দিয়েছি’

প্রবাসী শাহিন মিয়া বলেন, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমেরিকা যাওয়ার আগে নির্মাণকাজে বাধা না দেওয়ার জন্য শামসুল ইসলাম কামালকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

শাহিন মিয়ার অভিযোগ, এরপরও সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতার

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল।

তিনি বলেন, জমিটি বিরোধপূর্ণ। ৩১ শতক জমির তিনজন ওয়ারিশ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ওয়ারিশের কাছ থেকে পুরো জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।

শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’

আদালতের নির্দেশে মামলা

মামলার বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা
0:00 0:00
1.0x