ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে সোহাগ মিয়া (২০) নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার শফিক মিয়ার ছেলে।সোমবার সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।নিহত সোহাগের চাচা আব্দুল কাদির বলেন, প্রতিদিনের মতো সকালে সীমান্ত এলাকায় গরু আনতে গিয়েছিলেন সোহাগ। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালান।গুলির পর সোহাগকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে সীমান্ত এলাকায় পড়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে দেখতে পান তাঁর চাচা আব্দুল কাদিরসহ কয়েকজন। তাঁরা সোহাগকে উদ্ধার করে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সিরাজাম মুনিরা পরীক্ষা করে সোহাগকে মৃত ঘোষণা করেন।পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাড়ি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে এক আমেরিকাপ্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামালসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের আদালতে মামলাটি করেন আমেরিকাপ্রবাসী শাহিন মিয়ার ছেলে সানি আলম শ্রাবণ।আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে মাধবপুর থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেন। পরে আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাধবপুর উপজেলার মালঞ্চপুর গ্রামের ইমরান আহম্মদ (৪০), কুদ্দুস মিয়া, আলীনগর গ্রামের আশিকুর রহমান মামুন (৪৫) এবং কালিকাপুর গ্রামের মৃত মকবুল মিয়ার ছেলে শাহ আলম (৫২)।বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগমামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ আগস্ট মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর বাজারের দত্তপাড়া এলাকায় ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছিল। এ সময় বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম কামালসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজে বাধা দেন।অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তাঁরা মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।বাদীপক্ষের ভাষ্য, জমিটি ক্রয়সূত্রে তাঁদের মালিকানাধীন এবং এর বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে থানায় যাওয়ার পর মামলা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে পরে আদালতের শরণাপন্ন হন তাঁরা।‘আগেও টাকা দিয়েছি’প্রবাসী শাহিন মিয়া বলেন, জমিটি তিনি ক্রয় করেছেন এবং জমির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। আমেরিকা যাওয়ার আগে নির্মাণকাজে বাধা না দেওয়ার জন্য শামসুল ইসলাম কামালকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা এবং পরে ১ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।শাহিন মিয়ার অভিযোগ, এরপরও সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয় এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপি নেতারতবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম কামাল।তিনি বলেন, জমিটি বিরোধপূর্ণ। ৩১ শতক জমির তিনজন ওয়ারিশ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ওয়ারিশের কাছ থেকে পুরো জমি রেজিস্ট্রি নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি সেখানে গিয়েছিলেন।শামসুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।’আদালতের নির্দেশে মামলামামলার বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হবিগঞ্জে বিএনপি সভাপতিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলা

গাছ কাটার অভিযোগে বিএনপির ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ। মামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।মঙ্গলবার চুনারুঘাট থানায় সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন ১৯২৭ সালের বন আইনের (২০০০ সালে সংশোধিত) ২৬(১ক)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলাটি চুনারুঘাট থানায় ৩৪ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।সাতছড়ির মামলায় ২০ জনমামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে নেওয়া এবং সেগুলো কেনাবেচা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাছ কাটা ও বিক্রির সঙ্গে ২০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়াকে।অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম আবুল, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শফিক মিয়া মহলদার, উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর খান এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক করিম সরকার। এ ছাড়া মিরাশী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগের নামও মামলায় রয়েছে।রেমা-কালেঙ্গায় আরও ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলাএকই দিনে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে গাছ কাটা ও বিক্রির অভিযোগে আরও একটি মামলা করা হয়। বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদী হয়ে ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেন এবং চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলাগুলো করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, গাছ চুরির বিরুদ্ধে বন বিভাগ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।তবে স্থানীয় ওয়াইল্ডলাইফ কর্মী বিশ্বজিৎ পাল সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তদন্তের সময় কোনো নিরীহ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাছ কাটার অভিযোগে বিএনপির ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা