ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের ঘটনায় মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের উখিয়ায় টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। এ মামলায় রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকেও আসামি করা হয়েছে। তবে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা জানা যায়নি।শনিবার রাতে উখিয়া থানায় মামলাটি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর আটক রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।শনিবার সকাল সাতটার দিকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ম্যানেজার সুমনকে আটক করে পুলিশ। এরপর তাঁকে উখিয়া থানায় নেওয়া হয়।অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

কক্সবাজার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।আজ শনিবার সকাল আটটার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি।স্থানীয় সংবাদকর্মী শামিমুল ইসলাম ফয়সাল জানান, ভোরে হঠাৎ রিসোর্টটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে উদ্ধারকাজ চালিয়ে সকাল ১০টা পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আরও অন্তত পাঁচজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।বর্তমানে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন।ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রিমন ঘোষ জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়। এখন পর্যন্ত সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কক্সবাজার টুপটুপ  রিসোর্টে আগুন, ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার ফসলি জমি থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী তাজমিনের লাশ উদ্ধারের আগে সে গিয়েছিল পর্যটননগরী কক্সবাজারে। সেখানে এক রাত অবস্থানের পর বাড়ি ফেরার পথে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় সে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পদুয়ারবাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পর চালক মো. সুমন মিয়া তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।তবে তাজমিন কেন কক্সবাজার গিয়েছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী ছিল এবং বাড়ি ফেরার পথে ঠিক কী ঘটেছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তদন্তে উঠে আসে, কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।ফেসবুকে পরিচয়, এরপর কক্সবাজার যাত্রাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তাজমিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায় সে। সেখান থেকে মুঠোফোনে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে রাজু বিকাশের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা পাঠান। পরে তাজমিন কক্সবাজারে পৌঁছায়।ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলস বিনিময়ের মধ্য দিয়ে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তবে তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের দাবি, তাঁদের পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর তিনি তার জন্য বাসের টিকিটের ব্যবস্থা করেন।হোটেলে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে অবস্থানকক্সবাজার শহরের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত তিনতলা একটি হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অনুসন্ধানকারীরা জানতে পারেন, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রাজুর সঙ্গে ওই হোটেলে ওঠে তাজমিন।৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেওয়ার সময় তাঁরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। হোটেলের রেজিস্টারে কিশোরীর নাম লেখা হয় ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর। রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে।হোটেলের এক কর্মীর ভাষ্য, রেজিস্টার খাতায় রাজুর দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর লেখা রয়েছে। এর মধ্যে একটি নম্বর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য দেওয়া হয়েছিল। এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে চলে যান।হোটেলটির ফ্রন্ট ডেস্ক ব্যবস্থাপক মো. আবছার জানান, রাজুর জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হলেও তাজমিনের কোনো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হয়নি।অন্যদিকে, কলাতলীর একটি টিকিট কাউন্টারের পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, মঙ্গলবার রাতে তাঁর পরিচিত ২০ বছর বয়সী এক তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন। তরুণটি কিশোরীকে নিজের বান্ধবী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন।বাড়ি ফেরার টিকিট, এরপর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকক্সবাজারের ‘কক্সেস প্যানোরামিক ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর’-এর কাউন্টার প্রতিনিধি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ জানান, ৬ অক্টোবর রাত আটটার পর তাজমিন ও রাজু কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়।রাজুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করায় তিনি তাজমিনকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। বাসভাড়ার টাকা না থাকায় ধার করে টিকিট কাটেন এবং ৫০০ টাকা দিয়ে তাকে বাসে তুলে দেন। তবে অন্য একটি অনুসন্ধানী সূত্রে টিকিটের মূল্য ৯০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।রাজুর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছানোর পর তাজমিন তাঁকে জানায়, বাড়ির ফটক বন্ধ রয়েছে। পরে রেলস্টেশনে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানিয়ে ওই ব্যক্তির বাসায় থাকার সিদ্ধান্তের কথাও বলে সে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে দাবি রাজুর।রাজুর এক সহকর্মীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লায় ফিরে অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রাজুর ফোনে কথা হচ্ছিল। অটোরিকশাচালককে নিয়েও তাঁদের মধ্যে কথা হয়। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের ‘লাইভ লোকেশন’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।রাজুর দাবি, পরদিন সকালেও বহুবার ফোন করে তাজমিনের সাড়া পাননি তিনি। পরে এক বান্ধবীর মাধ্যমে কিশোরীর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।পদুয়ারবাজার থেকে অটোরিকশায় উঠে যা ঘটেসিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর শহরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সে।পুলিশের তথ্যমতে, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।পরদিন, ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে।হত্যার খবরের পর রাজুর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নতাজমিনের মৃত্যুর খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।তবে রাজুর এসব দাবি এবং তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাজমিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, কক্সবাজারে অবস্থান এবং পরবর্তী যোগাযোগের পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মেয়ের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে যা বলছেন মাতাজমিনের মা কেয়া খাতুন সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তবে তাজমিন নির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিয়ে শুধু এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল।তিনি মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চাইলেও তাজমিন কার কাছে আছে, তা স্পষ্ট করে না বলায় তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।তদন্তে কী বলছে পুলিশলালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।উদ্ধার করা মুঠোফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অধিকতর তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রার কারণ, রাজুর সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি এবং বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিভিন্ন দিক এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।

ফেসবুকে পরিচয়, কক্সবাজারে এক রাত এরপর তাজমিনের লাশ উদ্ধার

পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: বিএনপি নেতা শফিউল আলম কারাগারে

কক্সবাজারের মহেশখালীতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা মামলার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি নেতা ও কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিউল আজমের আদালতে মামলার ছয় আসামি হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত শফিউল আলম ও মাঈন উদ্দিন গাদ্দাফিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর চার আসামিকে জামিন দেওয়া হয়।মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই কুতুবজোমের বটতলী এলাকায় মানবপাচার ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি কাশেমকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় মহেশখালী থানা-পুলিশ।পুলিশ কাশেমকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় কাশেমের আপন চাচা, কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শফিউল আলমের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে।একপর্যায়ে ওই দল পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে হেফাজতে থাকা হাতকড়াপরা আসামি কাশেমকে ছিনিয়ে নেয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শফিউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়।মামলার পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন শফিউল আলম। মঙ্গলবার তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাই: বিএনপি নেতা শফিউল আলম কারাগারে

কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত, নিহত ২

কক্সবাজার শহরের একটি হোটেল বারে কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) ও মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮)।এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ছুরিকাঘাতে রাশেদের মৃত্যু হয়। আর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক ও মারধরের শিকার সোলাইমান শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের দোতলায় থাকা বারে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোলাইমানের মৃত্যু হয়।নিহত রাশেদ শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকার এবং সোলাইমান বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বারে কথা-কাটাকাটি, পরে ছুরিকাঘাতপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে নাজিবুল হক রাশেদসহ কয়েকজন যুবক রেনেসাঁ হোটেলের বারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া শুরু হয়।পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে। তারা বারে ঢুকে রাশেদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে রাশেদের পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।পরে তাঁকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।সন্দেহে আটক, পরে হাসপাতালে মৃত্যুরাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সোলাইমানকে আটক করে মারধর করেন।পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানায়, মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় সোলাইমানকে আটক করা হয়েছিল। মারধরের কারণে গুরুতর আহত হওয়ায় প্রথমে তাঁকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে সংঘর্ষের দাবি পুলিশেরকক্সবাজার সদর থানার পুলিশ বলছে, মাদক ব্যবসার টাকা নিয়ে ওই যুবকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।কক্সবাজার সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহকক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান বলেন, অনুমোদনবিহীন মদের বারটি পরিচালিত হচ্ছিল। হোটেলের বারের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বারের লাইসেন্স নিয়ে ভিন্ন দাবিতবে রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁদের বারের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে এবং সেটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে।তিনি বলেন, সংঘর্ষে জড়িত যুবকদের মধ্যে কয়েকজনের ব্যক্তিগত মদের লাইসেন্স ছিল, আবার কয়েকজনের ছিল না। ‘ঢাকা থেকে অতিথি এসেছে’ এমন পরিচয়ে অনেকেই বারে প্রবেশ করেছিলেন।দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় সংঘর্ষের সূত্রপাত, এতে কারা জড়িত এবং ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কক্সবাজারে হোটেল বারে সংঘর্ষ ও ছুরিকাঘাত, নিহত ২

সাবেক ছাত্রদল নেতার রিসোর্ট দখলের অভিযোগ

কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় ‘নকশী রিসোর্ট’ নামের একটি আবাসিক রিসোর্ট রাতের আঁধারে দখলের অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় আল আমিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য বদরুল হাসান মিল্কী রয়েছেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজ শাকিল (৪০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় মাহফুজ শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং এলাকার শামশুদ্দিনের ছেলে।মামলায় যা বলা হয়েছেনকশী রিসোর্টের মালিকের স্ত্রী ইসরাত জাহান চৌধুরী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, সাবেক ছাত্রদল নেতা আল আমিনের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি গভীর রাতে নকশী রিসোর্টে ঢুকে সেটি দখল করে নেন।বাদীর অভিযোগ, ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আসামিরা এর আগে তাঁর মালিকানাধীন ‘মিল্কী রিসোর্টের’ চারটি ফ্ল্যাট এবং নিচতলার ৮০০ বর্গফুটের একটি দোকান দখলে নেন। পরে রাত তিনটার দিকে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি লাইট হাউজ এলাকায় গিয়ে তাঁর মালিকানাধীন নকশী রিসোর্টও দখল করে নেন।জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রিসোর্টের মালিক থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। পরে ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখান থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ওসি জানান, এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার মাহফুজ শাকিল মামলার ২ নম্বর আসামি।মালিকের অভিযোগনকশী রিসোর্টের মালিক আব্দুর রশিদ চৌধুরী বলেন, জামায়াত নেতা মাওলানা আলমগীরের ছেলে আল আমিনকে তিনি মিল্কী রিসোর্টের চারটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান ভাড়া দিয়েছিলেন। তবে আল আমিন ভাড়া পরিশোধ না করে সেগুলো দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।আব্দুর রশিদের আরও অভিযোগ, ফ্ল্যাট ও দোকান দখলে রাখার পরও আল আমিন তাঁকে ছিনতাই, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন।অভিযোগ অস্বীকার আল আমিনেরতবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আল আমিন। তিনি আব্দুর রশিদকে প্রতারক দাবি করে বলেন, নকশী রিসোর্টের জমির মালিক তিনি নন। তাঁর দাবি, রিসোর্ট ও জমির মালিক ছিলেন আবছার উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর মৃত্যুর পর আব্দুর রশিদ ভুয়া কাগজ তৈরি করে রিসোর্টটি দখল করেছেন।আল আমিন বলেন, আব্দুর রশিদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে।সাংবাদিকদের নিয়ে ফেসবুক পোস্টএর আগে কক্সবাজার শহরে জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকেরা সংবাদ প্রকাশ করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে কটূক্তি করে একটি স্ট্যাটাস দেন আল আমিন। সেখানে কক্সবাজারের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার পাশাপাশি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বিনিময়ে সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তোলেন তিনি।এর একদিন পরই রাতে রিসোর্ট দখলের অভিযোগে মামলা ও একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল।

সাবেক ছাত্রদল নেতার রিসোর্ট দখলের অভিযোগ

কক্সবাজারের হোটেলকক্ষে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ

কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে মোহাম্মদ আতাউল কবির নামের এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি জেলার টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে শহরের বাস টার্মিনালসংলগ্ন দি গ্র্যান্ড ঢাকা হোটেলের চতুর্থ তলার ৪০১ নম্বর কক্ষ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ জানায়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে খবর পেয়ে পুলিশ হোটেলে যায়। পরে এসআই মো. বেলাল হোসেন কক্ষের দরজা ভেঙে আতাউল কবিরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।হোটেল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আতাউল কবির হোটেলটিতে ওঠেন। এরপর তিনি আর কক্ষ থেকে বের হননি। শুক্রবার দুপুর ১২টার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ কয়েকবার দরজায় ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাননি। পরে তাঁরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।ওসি মোহাম্মদ আলী বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের ব্যাগ তল্লাশি করে খাগড়াছড়ি পুলিশ লাইন্সের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য কার্ড পাওয়া গেছে। তাঁর বিপি নম্বর ৮২০২০৪৯০৩৪।মোহাম্মদ আতাউল কবির পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজবাড়ীর উড়িবুনিয়া এলাকার আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে।পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

কক্সবাজারের হোটেলকক্ষে পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত লাশ

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে সারারাত গোলাগুলির শব্দ

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের চিংড়িঘের সংলগ্ন এলাকায় থেমে থেমে সারারাত গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) রাত থেকে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তের ওপারে নাকপুরা ও খড়ের দ্বীপ এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।তবে গোলাগুলি কোন পক্ষের মধ্যে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই এলাকায় রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠনের পাশাপাশি মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির উপস্থিতি রয়েছে।হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকার বাসিন্দা বাদশাহ মিয়া বলেন, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ভোররাত পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলির বিকট শব্দ শোনা গেছে। মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তের মাছের ঘের এলাকা থেকে এসব শব্দ হ্নীলার এপারে আসছিল। এতে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।বাদশাহ মিয়া বলেন, পরে খোঁজ নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, গোলাগুলির ঘটনা মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে ঘটেছে।তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাস করায় সবসময় এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করে। মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির পাশাপাশি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও সক্রিয় রয়েছে। অনেক সময় মাদক ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গোলাগুলি হয়। এতে সীমান্তের এপারে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে দুটি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এটি ডাকাত দলের মধ্যে সংঘর্ষ হতে পারে। আবার আরাকান আর্মির সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলিও হতে পারে। বিষয়টি তাঁরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না।তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের সীমান্তের খড়ের দ্বীপ এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে কয়েকজন লোক প্রাণভয়ে এপারে আসার চেষ্টা করছিলেন। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে ফায়ার করা হলে তাঁরা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি।সীমান্তে বিজিবির পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম।

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে সারারাত গোলাগুলির শব্দ