ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

অপরাধ

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রামপুরায় পিচ্চি আলামিন গ্রেপ্তার, সঙ্গে বিদেশি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩-এর একটি আভিযানিক দল। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি আলামিনের বিরুদ্ধে রামপুরা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন, বাজার, দোকানপাট, টেম্পো স্ট্যান্ড, ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে প্রতি মাসে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, পিচ্চি আলামিন চাঞ্চল্যকর কাইল্ল্যা পলাশ হত্যা মামলারও একজন আসামি। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আইনগত কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

রামপুরা–বনশ্রীতে ইন্টারনেট ব্যবসায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা, নির্যাতনের অভিযোগ

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা, নতুন ভবন নির্মাণ, কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান এবং পরিবহন স্ট্যান্ড ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত পিচ্চি আলামিন এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।অভিযোগ অনুযায়ী, রামপুরা–বনশ্রী এলাকায় ক্যাবল ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড ব্যবসা পরিচালনা করতে এককালীন ২০ লাখ টাকা দিতে হয়। এরপর প্রতি মাসে আরও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ছাড়া চুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দাবি পূরণ না হলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে কথিত টর্চার সেলে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বনশ্রীর ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তারা ফিরে যায়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও পিচ্চি আলামিন তাঁর সহযোগীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্ত্র প্রদর্শন করে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের মালিককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং তা সম্ভব না হওয়ায় সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি মুক্তি পেলেও চাঁদা দাবির ঘটনা বন্ধ হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ পিচ্চি আলামিনসহ পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে রামপুরা থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইন্টারনেট ব্যবসার বাইরেও এলাকার নতুন ভবন নির্মাণ, কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান এবং লেগুনা ও টেম্পো স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। গত জুনে রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত কাইল্লা পলাশ হত্যাকাণ্ডের মামলাতেও পিচ্চি আলামিনের নাম এসেছে। ওই মামলায় তিনি প্রধান আসামিদের একজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ অন্তত ২৩টি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে। আমরা তার বিষয়ে কনসার্ন। আমরা বিভিন্নভাবে রেইডও করেছি। কিছু সহযোগী অ্যারেস্ট হয়েছে। সে অ্যারেস্ট হয়নি। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’ এদিকে, এলাকায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পিচ্চি আলামিন ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে চাঁদাবাজির অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

রামপুরা–বনশ্রীতে ইন্টারনেট ব্যবসায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা, নির্যাতনের অভিযোগ

খিলক্ষেতের আবাসিক বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১

খিলক্ষেতের পিংক সিটি আবাসিক এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ৫০০ ইয়াবা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা তৈরির মেশিন উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিটসংলগ্ন পিংক সিটি আবাসিক এলাকায় একটি বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোড-২-এর ১২ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে এসব মাদক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।খিলক্ষেত থানা পুলিশ জানায়, অভিযানে ৩ হাজার ৫০০টি ইয়াবা, ৩০ বোতল ফেনসিডিল, ফেনসিডিলের ৩৫০টি খালি বোতল এবং ইয়াবা তৈরির একটি মেশিন জব্দ করা হয়েছে।অভিযানকালে ইয়াসিন আরাফাত (৩৭) নামের একজনকে আটক করা হয়। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ইয়াসিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত জাকারিয়া দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে বাসাটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে ঠিক কত দিন ধরে ইয়াবা তৈরির কার্যক্রম চলছিল, কীভাবে মাদক তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আনা হতো এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, আবাসিক এলাকার একটি বাসাকে ব্যবহার করে মাদক তৈরির কারখানা চালানোর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।ওসি বলেন, অভিযানে তৈরি মাদকের পাশাপাশি ইয়াবা তৈরির মেশিন ও বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল উদ্ধার হয়েছে। তাই ঘটনাটি শুধু মাদক মজুতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল কি না, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, খিলক্ষেতের মাটিতে মাদক তৈরি, মজুত কিংবা ব্যবসার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিসহ এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।পুলিশ বলছে, জাকারিয়াকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক তৈরির এই কারখানার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কাঁচামাল কোথা থেকে এসেছে এবং এর পেছনে বড় কোনো চক্র রয়েছে কি না এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।আবাসিক এলাকার একটি বাসার ভেতর মাদক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় এই কারখানার নেপথ্যে কারা এবং মাদকের এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত।

খিলক্ষেতের আবাসিক বাসায় ইয়াবা তৈরির কারখানা, আটক ১

মেরুল বাড্ডায় মামুনকে ঘিরে ইয়াবা ও ধর্ষণের অভিযোগ

রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায় মামুন নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদক সেবন, যৌনসম্পর্কে জড়ানো এবং ধর্ষণের মতো গুরুতর বিষয়।অভিযোগ অনুযায়ী, কাশেম সাহেবের ছেলে মামুনের বাসায় এক ডিভোর্সি নারী ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকার সময় তাঁর সঙ্গে মামুনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ওই সময় মামুন নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতেন এবং ওই নারীর সঙ্গে যৌনসম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।তবে মামুনকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি করেছেন তাঁর পরিবারেরই একজন সদস্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই স্বজনের দাবি, মামুন তাঁর ফুফুর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌনসম্পর্ক স্থাপন করে আসছেন। এ অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।ভুক্তভোগীদের ভিডিও সাক্ষাৎকারসহ এ বিষয়ে কিছু তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণ করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া।একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও এতদিন বিষয়গুলো প্রকাশ্যে না আসার কারণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগগুলোর পেছনে কী ধরনের ঘটনা রয়েছে, কারা ভুক্তভোগী এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না এসব বিষয়ও অনুসন্ধানে গুরুত্ব পাচ্ছে।এদিকে, এসব অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ নিয়ে নবকালের ডিজিটাল মিডিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানী ভিডিও প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের ভিডিও বক্তব্য, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা থাকবে। একই সঙ্গে মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।নবকালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগের নেপথ্যের ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হবে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগতভাবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা নেওয়া হবে সেটিও অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর অভিযোগগুলো অসত্য বা বিভ্রান্তিকর হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও ব্যাখ্যাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।

মেরুল বাড্ডায় মামুনকে ঘিরে ইয়াবা ও ধর্ষণের অভিযোগ

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই আন্দোলন ঘিরে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে তাঁদের অর্ধেক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জুলাইয়ে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয়জন হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ২৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়। তাঁদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড, প্রতিটি কথোপকথনের ফরেনসিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সহায়ক প্রমাণও ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। তাঁর দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।এর আগে ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তিতে সিনিয়র প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দাবি করেন, জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বৈঠকে মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদের দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, নাছিম ও আরাফাতের পক্ষে আইনজীবী এম হাসান ইমাম বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর তিন মক্কেল কোনো কমান্ডিং পজিশনে ছিলেন না। কমান্ড রেসপনসিবিলিটির ক্ষেত্রে তিনি শেখ হাসিনাকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, তাঁর মক্কেলরা কাউকে হত্যা করেননি এবং হত্যার নির্দেশও দেননি।ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চার নেতার পক্ষে আইনজীবী ইশরাত জাহান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে তাঁর মক্কেলদের নাম আসেনি। অধীনস্থ নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নারীদের আহত হওয়ার কথা বলা হলেও মামলায় কোনো নারী সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং তাঁর মক্কেলদের খালাস চান।রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম যুক্তি দেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ’-এর নীতি প্রযোজ্য। একই উদ্দেশ্যে একটি গোষ্ঠী অপরাধ করলে সরাসরি অংশগ্রহণ না করলেও ওই গোষ্ঠীর প্রত্যেক সদস্য দায়ী হতে পারেন। তাঁর দাবি, ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশের পর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় যুক্ত হন।মামলাটি প্রথমে ৫/২০২৫ নম্বর মিস কেস হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা গত বছরের ১৮ জুন তদন্ত শুরু করে এবং ৭ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এতে আসামিদের বিরুদ্ধে নয়টি অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে ওই দিনই আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং একই দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ২ আগস্ট। ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট শেষ হয়। এরপর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

জুলাইয়ের গণহত্যা মামলা: ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড

কক্সবাজারের রিসোর্টে ‘সাইবার ল্যাব’, জব্দ প্রায় ২ হাজার আইফোন

কক্সবাজারের হিমছড়িতে পর্যটকদের থাকার জন্য ব্যবহৃত একটি রিসোর্টের বড় হলরুমে গড়ে তোলা হয়েছিল কম্পিউটার ল্যাব। ছয়টি কক্ষ করা হয়েছিল শব্দরোধী। সেখানে কম্পিউটার, মনিটর ও বিপুলসংখ্যক আইফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছিল। পুলিশের অভিযানে ওই রিসোর্ট থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি পুরোনো মডেলের আইফোন উদ্ধার করা হয়েছে।পুলিশের দাবি, ‘জিন শিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠার কথা বলে চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিকদের একটি চক্র রিসোর্টটি ভাড়া নিয়েছিল। পরে রিসোর্টটির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নেয় তারা। সেখানে বসেই আন্তর্জাতিক অনলাইন আর্থিক প্রতারণার কর্মকাণ্ড চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশের অপরাধ তদন্তের বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।তবে রিসোর্টে থাকা বিদেশি নাগরিকদের সবাই এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। জব্দ করা সরঞ্জামের ফরেনসিক পরীক্ষার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ির মেরিনা বিচ ভিলা ছাড়াও উখিয়ার ইনানী এলাকায় আরও দুটি রিসোর্ট ও একটি আবাসিক ভবন ভাড়া নিয়েছিল চক্রটি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে এসব স্থানে দুই থেকে তিন শতাধিক চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিক অবস্থান করছিলেন।রিসোর্টে বিপুল সরঞ্জামগত ২৫ আগস্ট মেরিনা বিচ ভিলায় অভিযান চালায় রামু থানার পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা কয়েকজন বিদেশি নাগরিক পেছনের সৈকত দিয়ে পালিয়ে যান। পরে রিসোর্টের হলরুম থেকে বিপুলসংখ্যক আইফোনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।পুলিশ জানায়, অভিযানে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৫০টি মনিটর, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কিবোর্ড, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, ৪০টি মাউস, একটি আইপিএস ও ২৪টি কানেকশন বোর্ড উদ্ধার করা হয়েছে।এ ছাড়া দুটি চীনা জাতীয় পতাকা, চীনা পুলিশের দুটি র‌্যাংকব্যাজ, পুলিশ প্রতীকযুক্ত একটি টাই, চারটি গ্রামীণফোন ও একটি রবি সিম, ১৫টি নোটখাতা ও একটি ডায়েরিও জব্দ করা হয়।পুলিশের ভাষ্য, রিসোর্ট ভাড়া নেওয়ার পর চক্রটি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী এর ভেতরের কাঠামো পরিবর্তন করে। বড় হলরুমে কম্পিউটার ল্যাব এবং ছয়টি শব্দরোধী কক্ষ তৈরি করা হয়। রিসোর্টের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাও নিজেদের লোকজন দিয়ে পরিচালনা করত তারা।কনস্ট্রাকশন কোম্পানির অস্তিত্ব মেলেনিপুলিশের অনুসন্ধানে রিসোর্ট ভাড়ার সঙ্গে ‘বাবর আলী’ নামে এক চীনা নাগরিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, তাঁর প্রকৃত নাম ঝান ইউয়ান ফান। তাঁর সহযোগী পাই লেডিং রিসোর্ট মালিকদের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি করেন।আরেক চীনা নাগরিক উ ওয়েইপিং নিজেকে ‘জিন শিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশে নির্মাণ কোম্পানি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে পুলিশের অনুসন্ধানে ওই নামে কোনো কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও রিসোর্ট ভাড়ার তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি বলেও জানিয়েছে পুলিশ। বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের পাসপোর্ট ও ভিসার কপি সংশ্লিষ্ট বিশেষ শাখায় জমা দেওয়ার বিধান থাকলেও এসব নাগরিকের ক্ষেত্রে এমন নথি পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের দাবি।তিন দফায় অভিযান ও অনুসন্ধানকক্সবাজার জেলা পুলিশ, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।২৫ আগস্ট মেরিনা বিচ ভিলায় অভিযান চালানোর পরদিন ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রিসোর্টটি পরিদর্শন করে। তারা সাইবার ল্যাব, শব্দরোধী কক্ষ ও বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন।২৮ আগস্ট সিটিটিসির উপমহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি দলও রিসোর্টটি পরিদর্শন করে।পুলিশের এজাহারে বলা হয়েছে, সিটিটিসির প্রাথমিক মতামত অনুযায়ী, চক্রটি কৃত্রিম বাজার বিশ্লেষণ, ভুয়া প্রলোভন দেখানো, নকল বা ভুয়া বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা নেওয়া, ‘এক্সিট ফ্রড’ ও অর্থ আত্মসাতের মতো অনলাইন আর্থিক প্রতারণায় জড়িত থাকতে পারে।তবে এসব কর্মকাণ্ডের প্রকৃত ধরন নিশ্চিত করতে জব্দ করা আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন।কক্সবাজার শহর থেকে গ্রেপ্তার ছয়জনমেরিনা বিচ ভিলায় অভিযানের পর কয়েকজন বিদেশি নাগরিক কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন বলে তথ্য পায় পুলিশ। পরে কলাতলী এলাকার দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন তাইওয়ানের ওয়েই ছিং ওয়েন এবং চীনের সু ইয়াংফান, ইয়ান চ্যাংশেং, সু হাইয়াং, উ চিয়ানশিয়ং ও ঝাং ঝেমিং। তাঁদের কাছ থেকে ছয়টি মোবাইল ফোন, পাঁচটি পাসপোর্ট ও তিনটি পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়।পলাতক চারজন হলেন ঝান ইউয়ান ফান ওরফে বাবর আলী, পাই লেডিং, উ জিপিং ও জিয়ান ঝাং।এ ঘটনায় রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক মিন্টু দত্ত বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার সাইবার অপরাধ আইনে মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জন ও পলাতক চারজনের পাশাপাশি ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীনা ও তাইওয়ানের নাগরিককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।গত শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।তদন্তে আরও যারাপুলিশ বলছে, মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন কয়েকটি রিসোর্টে অবস্থান করা দুই থেকে তিন শতাধিক বিদেশির সবাই কথিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের একটি অংশকে ব্যবহার করে চক্রটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।রামু থানার ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, বিদেশিরা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে এসেছিলেন, রিসোর্টে কী ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন এবং ‘জিন শিন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি’র দাবির পক্ষে বৈধ কাগজপত্র আছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) অহিদুর রহমান বলেন, ঢাকা থেকে পাওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্য ও রামু থানায় করা অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ ও আন্তর্জাতিক অনলাইন আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে।তবে পরে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ অহিদুর রহমান জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ থাকায় তিনি আর মন্তব্য করতে পারবেন না।চীনা নাগরিকদের রিসোর্ট ভাড়া দেওয়া এবং তাঁদের অবস্থানের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছিল কি না, তা জানতে মেরিনা বিচ ভিলা ও ইনানীর ড্রিম হলিডে রিসোর্টের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠান দুটির সব মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।অন্যদিকে হোটেল অর্কিড ব্লুর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁদের হোটেলে ২৪ জন চীনা নাগরিক ছিলেন। তাঁদের বিষয়ে চুক্তিপত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিএফআইসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল।ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাঁরা চীনা নাগরিক; আমাদের হোটেলে থাকতেন। এখানে তাঁরা কোনো কাজকর্ম করতেন না। শুনেছি, অন্য কোনো হোটেলে নাকি কম্পিউটার ল্যাব করেছিলেন।’ পলাতকদের গ্রেপ্তার এবং রিসোর্টগুলোতে পরিচালিত কথিত অনলাইন কর্মকাণ্ডের প্রকৃত ধরন উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কক্সবাজারের রিসোর্টে ‘সাইবার ল্যাব’, জব্দ প্রায় ২ হাজার আইফোন

গণপূর্তে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, নজরে তিন প্রকৌশলী

গণপূর্ত অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্তে প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ তিন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অধিদপ্তরের ভেতরে তাঁদের ‘তিন পাণ্ডব’ নামে পরিচিত করা হয়। তাঁরা হলেন সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ সারোয়ার জাহান, ঢাকা সার্কেল-১ থেকে সম্প্রতি বদলি হওয়া তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান এবং ঢাকা সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরী।অভিযোগ রয়েছে, বদলি ও পদায়ন, টেন্ডার, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এই তিন কর্মকর্তার একটি প্রভাববলয় সক্রিয়। তাঁদের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, টেন্ডার থেকে কমিশন আদায় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে করানোর জন্য প্রকৌশলীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে।এ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার অভিযোগও উঠেছে।বদরুল আলমের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগতত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া ঘিরে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীদের সরকারি বাংলো দ্রুত সংস্কারের কথা বলে টেন্ডার ছাড়াই পরিচিত ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি অর্থ দেখিয়ে সেই অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগও রয়েছে। বড় প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থ ছাড়ে অনিয়ম এবং সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কাজে অনিয়ম, সম্পদ অর্জন ও নারীঘটিত বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাঁকে বদলি করে রিজার্ভে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।সাভার সার্কেলে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর আস্থাভাজন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হেজবুল কবিরকে গাজীপুরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, ওই কর্মকর্তার মাধ্যমে ঠিকাদারদের সঙ্গে বিভিন্ন কাজের সমন্বয় এবং পছন্দের ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া হতো।সরকারি চাকরির পাশাপাশি ডেভেলপার ব্যবসা এবং বিভিন্ন সম্পদের মালিকানা নিয়েও বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর উত্তর বাসাবো, উত্তরা ও বাড্ডায় সম্পত্তি এবং গাজীপুরে জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব সম্পদের কিছু ভাইবোনের নামে থাকলেও এর পেছনে বদরুলের ভূমিকা রয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।গাজীপুরের কয়েকটি প্রকল্প ঘিরে প্রশ্নগাজীপুরে বদরুল আলমের দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া কয়েকটি প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কৃষি বিপণন ভবন, ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকার বিএসটিআই সিভিল, ২০ কোটি ২৪ লাখ টাকার মেট্রোপলিটন সদর থানা, ১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকার সদর উপজেলা মডেল মসজিদ, প্রায় ১০ কোটি টাকার কালিয়াকৈর থানা, ১৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার পুবাইল থানা এবং প্রায় ১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার কোনাবাড়ী থানা নির্মাণ প্রকল্প রয়েছে।এসব প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটোরিয়াম নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে অন্য খাতের অর্থ দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। প্রকল্পের ঠিকাদারকে প্রায় ৪ কোটি টাকা অগ্রিম বিল দেওয়া হলেও নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, কাজ শেষ করতে আরও ৬ থেকে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।মিরপুরের পাইকপাড়া আবাসিক প্রকল্প এবং পুলিশের ১০৭ থানা নির্মাণ প্রকল্পের ভাসানটেক থানার কাজেও কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।এর আগে ময়মনসিংহে ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে বদরুলকে ওএসডি করা হয়েছিল বলেও জানা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আরও বেশি কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে করানোর জন্য তহবিল সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।নারীঘটিত অভিযোগে অর্থ আদায়ের অভিযোগবদরুল আলমের বিরুদ্ধে কয়েকজন নির্বাহী প্রকৌশলী নারীঘটিত বিষয় ব্যবহার করে প্রকৌশলীদের ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করেছেন।তাঁদের দাবি, পরিচিত নারীদের মাধ্যমে প্রকৌশলীদের সঙ্গে যোগাযোগ করানোর পর তাঁদের বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলা হতো। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হতো। পরিস্থিতি জটিল হলে বদরুল সমাধানের উদ্যোগ নিতেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজে অনিয়ম এবং নারীঘটিত অভিযোগ নিয়ে বিতর্কের পর সম্প্রতি মন্ত্রণালয় তাঁকে ওএসডি করেছে বলে জানা গেছে।খুলনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে এক নারী তাঁকে ফোন করে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করেছিলেন। ওই নারীর সঙ্গে বদরুল আলমের পরিচয় রয়েছে বলে তিনি শুনেছিলেন। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য বদরুল তাঁকে বলেছিলেন।আতিকুলের দাবি, ওই ঘটনার পর তাঁকে প্রথমে দায়িত্ব থেকে ক্লোজ করা হয়। প্রায় ছয় মাস পর তাঁকে খুলনায় বদলি করা হয়।বদরুল আলম খানের বক্তব্য জানতে তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপেও মেসেজ পাঠানো হয়। তবে তিনি কোনো সাড়া দেননি।বদলি প্রক্রিয়ায় সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগপ্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আরেক কর্মকর্তা মুহাম্মদ সারোয়ার জাহান। বর্তমানে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী।সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বদলি-বাণিজ্য ঠেকাতে সম্প্রতি মন্ত্রণালয় লটারির মাধ্যমে প্রকৌশলীদের বদলি শুরু করেছে। তবে লটারির আগে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিভিলের ঢাকা জেলার জন্য নির্ধারিত বাক্সে ৪১ জনের নাম যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে।এর আগে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ টাকার সিকিউরিটি মানির পে-অর্ডার অবৈধভাবে নগদায়নের অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।ঠিকাদারের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট গণপূর্ত অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় বলে জানা গেছে।তবে শাস্তির পরিবর্তে পরে তিনি পদোন্নতি পেয়ে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাপন শাখার দায়িত্ব পান।এই পদে থাকার সময় গত ৩ মার্চ এক দিনে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে বদলি করা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বদলি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই ওই আদেশ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগও আসে।পরে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে ওই গণবদলি আদেশ স্থগিত করা হয়।এর আগে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কয়েকজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ যাওয়ার পর মো. হাসানুজ্জামান, মো. খাইরুল ইসলাম ও মো. এরশাদুল হকের বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়।সারোয়ার জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।অভিযোগের বিষয়ে মুহাম্মদ সারোয়ার জাহান বলেন, বদলির সব বিষয় মন্ত্রণালয় জানে। লটারির বাক্সে উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের নাম আগে থেকেই লিখে রাখার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব কিছু জানি না। মন্ত্রণালয় বদলি করেছে, তারাই সব জানে।প্রধান প্রকৌশলীর পরামর্শক’ আবু নাসেরঢাকা সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. আবু নাসের চৌধুরীকেও প্রধান প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত করা হয়। অন্য প্রকৌশলীদের অভিযোগ, নিজের অবস্থান ধরে রাখতে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেন।তাঁর বিরুদ্ধে কাজের অগ্রগতির তুলনায় বেশি বিল দেওয়া, অতিরিক্ত ব্যয়, পরিচিত ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং খারাপ আচরণের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি অর্থ অপচয় ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে তাঁর অধীন সার্কেলের বিভিন্ন কাজে শতাধিক অডিট আপত্তি রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।ঢাকা সার্কেল-২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। সচিবালয়, হাইকোর্ট এবং আশপাশের সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন নির্মাণ ও মেরামতকাজ এই সার্কেলের আওতাধীন।অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের মেরামতসহ বিভিন্ন কাজ পরিচিত ঠিকাদারদের দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দিতেন আবু নাসের। হাসপাতালের মেরামতকাজে বিল দ্বিগুণ করা এবং উপবিভাগীয় ও সহকারী প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি করে কাজ করানোর অভিযোগও রয়েছে।এসব অনিয়ম জানার পরও সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এর আগে বগুড়ায় দায়িত্ব পালনের সময় টেন্ডার জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবু নাসের চৌধুরী বলেন, স্যার আমাকে বগুড়া থেকে ঢাকা নিয়ে এসেছেন; কিন্তু কোনো সিন্ডিকেট-অনিয়মের সঙ্গে আমি জড়িত নই।অভিযোগ শুনছি, প্রমাণ পেলে ব্যবস্থাগৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, প্রধান প্রকৌশলীর সিন্ডিকেট এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তাঁরা শুনছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় লেখালেখিও হচ্ছে। বিষয়গুলো তাঁরা পর্যবেক্ষণ করছেন।তিনি বলেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করায় তাঁদের মধ্যে একজনকে ওএসডি করা হয়েছে। প্রমাণ পেলে অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বদলি, পদায়ন, টেন্ডার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে একের পর এক অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গণপূর্তে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, নজরে তিন প্রকৌশলী

পুলিশের ওপর হামলা, ওসির গাড়ি ভাঙচুর: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম নগরের ওয়ারলেস এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, খুলশী থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর এবং একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।শনিবার রাতে খুলশী থানার পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে।মামলায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগাকে (৪২) প্রধান আসামি করা হয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে। তবে মামলা দায়েরের পর এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ওপর হামলা, ওসির গাড়ি ভাঙচুর: ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

চট্টগ্রামে গত দেড় বছরে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, হত্যা, অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় নেতারা পরস্পরকে দায়ী করলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি অস্ত্রের মহড়া চলে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।এর দুদিন পর খুলশী ও পাহাড়তলী এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের পর গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।গত দেড় বছরে দলীয় কোন্দল ঘিরে চট্টগ্রামে অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকলিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ, মীরসরাইয়ে হামলায় ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়, রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার ও মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ, চান্দগাঁওয়ে যুবদল নেতা ফজলুল আমিন এবং সর্বশেষ রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিম নিহত হয়েছেন।এ ছাড়া রাউজানে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা মো. ওসমান ও তাঁর মাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে।বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সংঘাত, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীও জানিয়েছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা নতুন করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির চিত্র শুধু এই একটি হত্যাকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক মাসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক সংঘাত ও মব সহিংসতার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৯৩৪টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ মাসে গড়ে ৩১১টির বেশি এবং দিনে ১০টির বেশি হত্যার মামলা হয়েছে।জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি, মার্চে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি, মে মাসে ৩১০টি, জুনে ৩২৬টি এবং জুলাইয়ে ২৯৮টি মামলা হয়েছে।বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে কমবেশি ৩০০টি খুনের ঘটনা ঘটছে। গড়ে প্রতিদিন ১০টি খুন যেন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।চুরি-ডাকাতি কমলেও খুন নিয়ন্ত্রণে আসেনিপুলিশের ভাষ্য, চুরি ও ডাকাতির মতো কিছু অপরাধ আগের তুলনায় কমেছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়নি।পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে স্থানীয় বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও মানুষের মধ্যে অস্থিরতার মতো কিছু ঘটনা অনেক সময় আগেভাগে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।অপরাধ বিশ্লেষকেরা অবশ্য মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। রাজনৈতিক সংঘাত, ক্ষমতার আধিপত্য, মাদক, পারিবারিক বিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এর মধ্যে অন্যতম।অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, মানুষের হাতে অবৈধ অস্ত্র পৌঁছানো এবং রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের কারণে সহিংসতা বাড়ছে। তার ভাষ্য, অপরাধ বাড়লেও তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৭হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘাতও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি করছে।আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ৪০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭৪ জন। নিহত হয়েছেন অন্তত ৭৭ জন।এর মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘাতে চারজন, জামায়াত ও বিএনপির সংঘাতে নয়জন এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১৬ জন নিহত হয়েছেন।বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৭ জনের মধ্যে অন্তত ৪০ জন দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন।গত ২৩ আগস্ট রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা আল আমিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটিও রাজনৈতিক কোন্দল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।মব সহিংসতায় সাত মাসে ১৩৪ মৃত্যুমব সহিংসতার ঘটনাও কমেনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে মব সহিংসতায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন।এর মধ্যে ঢাকায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন। চট্টগ্রামে নিহত হয়েছেন ৩১ জন।মানবাধিকারকর্মী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খান বলেন, নির্বাচিত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা বাড়ছে। পদ-পদবি নিয়েও সংঘাত হচ্ছে। এসবের দায় সরকারকেই নিতে হবে।তবে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কোনো বিষয় নয়। সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর কোনো চাপ নেই এবং পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে।ছয় মাসে হত্যার মামলা প্রায় একইচলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের ছয় মাসের সঙ্গে আগের ছয় মাসের হত্যার মামলার হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১ হাজার ৭৮৯টি মামলা হয়েছে। এর আগের ছয় মাসে হয়েছিল ১ হাজার ৭৮০টি। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ৯টি।নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাও বেড়েছে। গত ছয় মাসে এ ধরনের ঘটনায় ১১ হাজার ১৬৫টি মামলা হয়েছে। আগের ছয় মাসে হয়েছিল ১০ হাজার ৯০টি। অর্থাৎ মামলা বেড়েছে ১ হাজার ৭৫টি।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিভিন্ন থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনাও ঘটে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো আগের সক্ষমতায় পুরোপুরি ফিরতে পারেনি। এর সুযোগে খুন, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধ বাড়ছে।চলতি বছরে ঢাকার মিরপুরে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই মামলায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম হলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের আরও অনেক ঘটনা ঘটছে, যেগুলোর সবগুলোতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, খুন ও সহিংসতা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত অভিযান প্রয়োজন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর পুলিশের অনেক সদস্য মনোবল হারিয়েছেন এবং অনেকে ভয় নিয়ে কাজ করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জপুলিশের হিসাবে চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ কিছুটা কমলেও হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক। এর সঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব সহিংসতার ধারাবাহিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হবে না। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার বন্ধ করা, রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় বিরোধ নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তার

নরসিংদীর বেলাবোয় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) উপজেলার বিন্নাবাইদ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বেলাবো উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম (৩৬) এবং পাটুলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম টুটুল। সাইফুল ইসলাম বিন্নাবাইদ এলাকার মৃত আবদুল মজিদ মিয়ার ছেলে। রফিকুল ইসলাম টুটুল একই এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেলাবো থানায় দায়ের করা ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির ১৬ নম্বর মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩)-এর ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় তাঁদের আসামি করা হয়েছে।পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলাবো থানার একটি দল শুক্রবার বিন্নাবাইদ গ্রামে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সাইফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম টুটুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বেলাবো থানা পুলিশ।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুই ছাত্রলীগের নেতা গ্রেপ্তার

সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে মাদক-অস্ত্র

ভারত সীমান্তঘেঁষা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লায় মাদক চোরাচালান কমেনি। বরং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো কারবারিদের জায়গায় নতুন পৃষ্ঠপোষক ও নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।সীমান্তের বিভিন্ন দুর্গম পথ, নদীপথ ও কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে ফেনসিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে ঢুকছে। এসব চালান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বাস, ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন। নারী ও শিশুদেরও বাহক হিসেবে ব্যবহার করার তথ্য পাওয়া গেছে। কুড়িগ্রামে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ১২১ কেজি গাঁজা, ৬ হাজার ৮১১টি ইয়াবা, ১ হাজার ৬টি ফেনসিডিল, ২২০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও ১৪ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭৮টি মামলা হয়েছে এবং ১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তেও মাদক চোরাচালান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরাইল ব্যাটালিয়নের অভিযানে ছয় কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদক জব্দ করা হয়েছে। কুমিল্লায় গত তিন বছরে বিজিবি প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক জব্দ করেছে। এসব অভিযানে ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, মাদক কারবারিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সিসি ক্যামেরা, নদীপথ, যানবাহনের গোপন কুঠুরি এবং বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে। কোথাও কোথাও উল্টো পুলিশের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর তথ্যও পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের যোগসাজশ এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে। ফলে ছোট কারবারিরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

সীমান্তপথে ভারত থেকে আসছে মাদক-অস্ত্র

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোছা. হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের পরিকল্পনায় হালিমাকে হত্যা করা হয়।এ ঘটনায় নিহত হালিমার মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পা (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্রীপ গ্রামের নিজ বাড়িতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন হালিমা। পরদিন সকালে তাঁর মেয়ে চাম্পা দেখতে পান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকানো। দরজা খুলে ভেতরে মাকে না পেয়ে তিনি খোঁজ শুরু করেন।পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্থানীয়রা। সেখানে গিয়ে স্বজনেরা তাঁর মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। নাক-মুখে রক্তাক্ত জখম এবং গলায় সাদা রশি পেঁচানো ছিল।পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।এ ঘটনায় চাম্পা বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।থানা-পুলিশ দুই দিন তদন্তের পর মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তভার নেয়। তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বাদী চাম্পার আচরণ ও বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হয় তদন্তকারীদের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ বসতভিটার জমি কিনেছিলেন বলে দাবি করতেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এরপর দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা করেন।এ নিয়ে বিল্লালের সঙ্গে হালিমার বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে পূর্বশত্রুতার জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন বলেও পিবিআই জানিয়েছে। পরে তাঁকে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পিবিআইয়ের দাবি, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার উদ্দেশ্যে চাম্পা সহযোগীদের নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে সহযোগীরা বাড়িতে এলে চাম্পা তাঁর মাকে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীরা হালিমাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং তাঁর মাথা মাটিতে পুঁতে রাখেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চাম্পা প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা এবং প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের হাতে মাকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য ও গর্হিত অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

গুলশানের দুই স্পা সেন্টারে অভিযান, ৫৩ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর গুলশানে দুটি স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গুলশান থানা-পুলিশ।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত গুলশান থানা-পুলিশ পৃথকভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।অভিযান চালানো প্রতিষ্ঠান দুটি হলো গুলশান থানার ২৪ নম্বর সড়কের ‘গুলশান ওয়ান সেলুন’ এবং ৯৯ নম্বর সড়কের ‘হট স্টোন স্পা’।পুলিশ জানায়, অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৪ জন পুরুষ ও ২৯ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গুলশান থানা সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।পুলিশ জানিয়েছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গুলশানের দুই স্পা সেন্টারে অভিযান, ৫৩ জন গ্রেপ্তার

বংশাল ও বাঞ্ছারামপুরে অভিযান, ১৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

ঢাকার বংশাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এ সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৬টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সজিব (২৮), মো. নিশান আহমেদ (২৫), রুবেল আহমেদ (৩৮) ও নিত্য সরকার (১৯)। তাঁদের মধ্যে সজিবের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে, নিশান আহমেদের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়ায়, রুবেল আহমেদের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর এবং নিত্য সরকারের বাড়িও একই উপজেলার বটতলী এলাকায়।ডিএমপি জানায়, গত ১৮ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম বংশাল থানার মোকিম বাজার রোডে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সজিব ও নিশান আহমেদকে আটক করা হয়।পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেল আহমেদ ও নিত্য সরকারসহ চোরচক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযানে উদ্ধার করা ১৬টি মোটরসাইকেলের মধ্যে রয়েছে সুজুকি জিক্সার, হোন্ডা এক্স-ব্লেড, ইয়ামাহা এফজেডএস, টিভিএস রাইডার, রয়্যাল এনফিল্ড, হোন্ডা সিবিআর ও ইয়ামাহা আর১৫সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল।ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মোটরসাইকেল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় মামলা করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বংশাল ও বাঞ্ছারামপুরে অভিযান, ১৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৬

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৫৫টি মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানার এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।কোন বিভাগে কতজন গ্রেপ্তারডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৫ জন, লালবাগে ৪৫, ওয়ারীতে ৬৫, মতিঝিলে ৪৭, তেজগাঁওয়ে ৪১, মিরপুরে ১২০, গুলশানে ৯৩ এবং উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন রয়েছেন। এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।যা উদ্ধার হয়েছেঅভিযানে দুটি সুইচ গিয়ার, ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১টি ইয়াবা ও ৫ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এ ছাড়া একটি এনা বাস, একটি ট্রাক, ১৭টি মোটরসাইকেল ও আটটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।পুলিশের অভিযানে ৫৯৭ দশমিক ৭৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা চোরাই টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪ ভরি ১৫ আনা ৫ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার এবং দুজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।ডিএমপির কর্মকর্তা নিয়াজ মেহেদী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৬