রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা, নতুন ভবন নির্মাণ, কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান এবং পরিবহন স্ট্যান্ড ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত পিচ্চি আলামিন এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
অভিযোগ অনুযায়ী, রামপুরা–বনশ্রী এলাকায় ক্যাবল ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড ব্যবসা
পরিচালনা করতে এককালীন ২০
লাখ টাকা দিতে হয়।
এরপর প্রতি মাসে আরও পাঁচ
লাখ টাকা চাঁদা দাবি
করা হয়। এ ছাড়া
চুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের কাছ
থেকে জোর করে স্ট্যাম্পে
স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দাবি পূরণ না
হলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর
এবং ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে কথিত
টর্চার সেলে নির্যাতন করা
হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে
জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর
বনশ্রীর ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের
একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ২৫
জনের একটি দল দেশীয়
অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তারা
ফিরে যায়। এর আগে
গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও
পিচ্চি আলামিন তাঁর সহযোগীদের নিয়ে
প্রতিষ্ঠানটিতে অস্ত্র প্রদর্শন করে হামলা চালান
বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের
মালিককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা
এবং তা সম্ভব না
হওয়ায় সাদা স্ট্যাম্পে জোর
করে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে
অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়,
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয়
ওই ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন
করা হয়। পরে তিনি
মুক্তি পেলেও চাঁদা দাবির ঘটনা বন্ধ হয়নি।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ পিচ্চি
আলামিনসহ পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম
উল্লেখ করে রামপুরা থানায়
চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইন্টারনেট ব্যবসার বাইরেও এলাকার নতুন ভবন নির্মাণ,
কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান এবং লেগুনা ও
টেম্পো স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা
আদায় করা হচ্ছে। গত
জুনে রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত কাইল্লা পলাশ হত্যাকাণ্ডের মামলাতেও
পিচ্চি আলামিনের নাম এসেছে। ওই
মামলায় তিনি প্রধান আসামিদের
একজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে
জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা,
চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ অন্তত
২৩টি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ
করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রামপুরা
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর
হোসেন বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনেক
মামলা আছে। আমরা তার
বিষয়ে কনসার্ন। আমরা বিভিন্নভাবে রেইডও
করেছি। কিছু সহযোগী অ্যারেস্ট
হয়েছে। সে অ্যারেস্ট হয়নি।
তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা
করছি।’
এদিকে, এলাকায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগে
উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের
দাবি, পিচ্চি আলামিন ও তাঁর সহযোগীদের
দ্রুত গ্রেপ্তার করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করতে হবে। একই
সঙ্গে এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে চাঁদাবাজির অভিযোগগুলোর
নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর আইনগত
ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।