ঢাকা    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
১০ জেলায় বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১,২৩৫ জন

১০ জেলায় বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১,২৩৫ জন

দেশের ১০ জেলায় কিশোর গ্যাং, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ১ হাজার ২৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার থেকে গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৭৯৪ জনের মধ্যে ৬১৬ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৮ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে চট্টগ্রামে ৮৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লায় ৩৬২, নোয়াখালীতে ১৩৭, লক্ষ্মীপুরে ১২৮, কক্সবাজারে ১৮, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৬, চাঁদপুরে ১৭, ফেনীতে ৫, রাঙামাটিতে ১০ এবং খাগড়াছড়িতে ১২ জনকে আটক করা হয়।বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারপুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে নিয়মিত মামলায় ৯৫ জন, আগের মামলায় ৬২ জন, পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় ২৮ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ৮ জন এবং ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য আইনে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ১২১ জন, সাজা পরোয়ানায় ২৪ জন এবং মাদক মামলায় ৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় মাদক কারবারি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ৪৭ জনকে। অভিযানে সরাসরি গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১৮ জনকে।মাদক উদ্ধার, ২০ জনের কারাদণ্ডমাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৮ হাজার ৭৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত ৩৯টি মামলা করা হয়েছে।অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে ৭ হাজার ২৩৭ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ৩০ গ্রাম গাঁজা, ১১৩ লিটার চোলাই মদ এবং ১০০টি ট্যাডেন্টাডল ট্যাবলেট।এ ছাড়া ৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ১২ বোতল রয়্যাল স্ট্যাগ ডিলাক্স হুইস্কি, ২৪ ক্যান কিংফিশার স্ট্রং বিয়ার এবং ২৪ ক্যান হি-ম্যান স্ট্রং বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্য গ্রেপ্তারবিশেষ অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের আট সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কুমিল্লায় চারজন, নোয়াখালীতে একজন, রাঙামাটিতে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন।জনস্বার্থে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর, কোথাও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।কেরানীগঞ্জে কার্যালয়ে হামলা, লুটের অভিযোগকেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে গত রোববার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন যুবক দেশি অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁরা প্রথমে দরজা ভাঙচুর করেন। পরে আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে একটি ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যান।প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নাসিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে।এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় একটি যুবক দলের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরাও।রূপনগরে চাঁদা দাবিতে থমকে নির্মাণকাজরাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জমি ও ভবন নির্মাণ ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিমতো টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে।এলাকাটিতে একাধিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর মধ্যে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিও এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলার ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।রূপনগরের একটি প্লটের মালিক মোদাসসের হোসেন জানান, চার কাঠা জমিতে নিজের বাড়ি নির্মাণের জন্য চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এ সময় একটি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।গ্রামে থাকা জমি বিক্রি করে ঢাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোদাসসের। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনায় সেই উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি।মোদাসসেরের ধারণা, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না।১০ তলা ভবনের কাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধরূপনগরের সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় চাঁদা দাবির আরেকটি অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি জানান, তাঁদের একটি ১০ তলা ভবনের চার তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খননকাজ শুরুর সময় থেকেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।এ ঘটনায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে।৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগসম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকদের কল্যাণ সমিতি গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে।সমিতির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।সমিতির নেতাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা যাচ্ছে না।সমিতির সহসভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা বেড়েছে।এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থাপুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে।তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পরও সব ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে।রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ দমনে বাধা?ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রশ্রয় অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।তাঁর ভাষ্য, কোনো দল ক্ষমতায় এলে সেই দলের কিছু সদস্য অতীতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দখল ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিতে পারেন।অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে মানুষ নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সচেতন বলেও জানান তিনি।কেরানীগঞ্জে আবাসন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের অভিযোগ এবং রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নগর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার চাইছেন। পুলিশ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও অভিযোগের পরও কেন কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকছে, কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রস্তাবিত হ্যাশট্যাগ: #চাঁদাবাজি #জমিদখল #কেরানীগঞ্জ #মিরপুর #রূপনগর #রাজধানী #আইনশৃঙ্খলা #বাংলাদেশচাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ টপিক: চাঁদাবাজি, জমি দখল, নির্মাণকাজ বন্ধ, কেরানীগঞ্জ, মিরপুর, আইনশৃঙ্খলা ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ৪০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে একাধিক ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। কোথাও নির্মাণশ্রমিকদের মারধর, কোথাও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। এসব ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কারও কারও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেরানীগঞ্জে কার্যালয়ে হামলা, লুটের অভিযোগ কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় আফসানা হাউজিংয়ের কার্যালয়ে গত রোববার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, প্রায় ৩০ জন যুবক দেশি অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করছেন। তাঁরা প্রথমে দরজা ভাঙচুর করেন। পরে আসবাব, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল ভেঙে একটি ছোট ট্রাকে তুলে নিয়ে যান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নাসিরের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁদের কাছে ৪০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। সেই টাকা না দেওয়ায় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরদিন প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিব ব্যাপারী ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও স্থানীয় একটি যুবক দলের সদস্যরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। হামলার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন কর্মীরাও। রূপনগরে চাঁদা দাবিতে থমকে নির্মাণকাজ রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে জমি ও ভবন নির্মাণ ঘিরে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দাবিমতো টাকা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও ঘটছে। এলাকাটিতে একাধিক স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও সামনে এসেছে। এর মধ্যে পরিচিত এক কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিও এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হামলার ঘটনাও আলোচনায় রয়েছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মীর নাম এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। রূপনগরের একটি প্লটের মালিক মোদাসসের হোসেন জানান, চার কাঠা জমিতে নিজের বাড়ি নির্মাণের জন্য চার মাস আগে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এ সময় একটি দলের কয়েকজন সদস্য তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এরপর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। গ্রামে থাকা জমি বিক্রি করে ঢাকায় নিজের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন মোদাসসের। কিন্তু চাঁদা দাবির ঘটনায় সেই উদ্যোগ এখন থমকে গেছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো অভিযোগ করেননি তিনি। মোদাসসেরের ধারণা, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না। ১০ তলা ভবনের কাজ এক মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রূপনগরের সম্প্রসারিত আবাসিক এলাকায় চাঁদা দাবির আরেকটি অভিযোগ করেছেন ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। তিনি জানান, তাঁদের একটি ১০ তলা ভবনের চার তলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খননকাজ শুরুর সময় থেকেই চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আবদুল মান্নান বলেন, বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। এ ঘটনায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে আবদুল মান্নানের অভিযোগ, চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ ও রাজনৈতিক দলের কিছু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে। ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার প্লট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকদের কল্যাণ সমিতি গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে ধরে। সমিতির দাবি, এলাকায় প্রায় ৫০টি প্লট ও ভবনের মালিকের কাছে চাঁদা চাওয়া হয়েছে। নির্মাণশ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সমিতির নেতাদের অভিযোগ, এসব ঘটনায় পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ উপস্থিত থাকলেও চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করা যাচ্ছে না। সমিতির সহসভাপতি মো. তৌহিদুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলের ঘটনা বেড়েছে। এ বিষয়ে রূপনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার আখতার হোসেন। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মামলা করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মামলা করার পরও সব ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিচয় কি অপরাধ দমনে বাধা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল হকের মতে, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও দলীয় প্রশ্রয় অপরাধ দমনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাঁর ভাষ্য, কোনো দল ক্ষমতায় এলে সেই দলের কিছু সদস্য অতীতে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে দখল ও চাঁদাবাজির পথ বেছে নিতে পারেন। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার অপরাধীদের আশ্রয় দেয় না। তবে ক্ষমতাসীন দলের কিছু সদস্য অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন, সেই সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতাসীন দলের নাম ব্যবহার করে মানুষ নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হলে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সচেতন বলেও জানান তিনি। কেরানীগঞ্জে আবাসন প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটের অভিযোগ এবং রূপনগরে চাঁদা দাবির মুখে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার ঘটনা নগর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীরা কার্যকর প্রতিকার চাইছেন। পুলিশ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও অভিযোগের পরও কেন কোথাও নির্মাণকাজ বন্ধ থাকছে, কেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা ঘটছে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

চাঁদা না পেয়ে হামলা, বন্ধ নির্মাণকাজ; কেরানীগঞ্জ ও মিরপুরে উদ্বেগ

রামপুরা–বনশ্রীতে ইন্টারনেট ব্যবসায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা, নির্যাতনের অভিযোগ

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসা, নতুন ভবন নির্মাণ, কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান এবং পরিবহন স্ট্যান্ড ঘিরে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত পিচ্চি আলামিন এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।অভিযোগ অনুযায়ী, রামপুরা–বনশ্রী এলাকায় ক্যাবল ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড ব্যবসা পরিচালনা করতে এককালীন ২০ লাখ টাকা দিতে হয়। এরপর প্রতি মাসে আরও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ছাড়া চুক্তি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। দাবি পূরণ না হলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং ব্যবসায়ীদের তুলে নিয়ে কথিত টর্চার সেলে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বনশ্রীর ‘গ্রিন জোন অনলাইন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তারা ফিরে যায়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও পিচ্চি আলামিন তাঁর সহযোগীদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে অস্ত্র প্রদর্শন করে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের মালিককে তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং তা সম্ভব না হওয়ায় সাদা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।অভিযোগে আরও বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ওই ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি মুক্তি পেলেও চাঁদা দাবির ঘটনা বন্ধ হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ পিচ্চি আলামিনসহ পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে রামপুরা থানায় চাঁদাবাজির মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইন্টারনেট ব্যবসার বাইরেও এলাকার নতুন ভবন নির্মাণ, কাঁচাবাজার, বিপণিবিতান এবং লেগুনা ও টেম্পো স্ট্যান্ড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। গত জুনে রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত কাইল্লা পলাশ হত্যাকাণ্ডের মামলাতেও পিচ্চি আলামিনের নাম এসেছে। ওই মামলায় তিনি প্রধান আসামিদের একজন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ অন্তত ২৩টি মামলা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এ বিষয়ে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে। আমরা তার বিষয়ে কনসার্ন। আমরা বিভিন্নভাবে রেইডও করেছি। কিছু সহযোগী অ্যারেস্ট হয়েছে। সে অ্যারেস্ট হয়নি। তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’ এদিকে, এলাকায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, পিচ্চি আলামিন ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে চাঁদাবাজির অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

রামপুরা–বনশ্রীতে ইন্টারনেট ব্যবসায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা, নির্যাতনের অভিযোগ

প্রশাসন জালিমের ভূমিকা নিলে জনগণ রুখে দাঁড়াবে: জামায়াত আমির

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রশাসন কোনো অবস্থায় ন্যায়বিচারের পথ ছেড়ে জালিমের ভূমিকা পালন করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। জনগণ এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।বুধবার মিরপুর-১০ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সৃষ্ট সংঘর্ষ ও উদ্ভূত পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির।এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের প্রশাসন অতীত ফ্যাসিবাদী আমলের মতো অন্যায়ের পক্ষ নিক। সংগত ও ভালো কাজে প্রশাসন সবসময় জনগণের সহযোগিতা পাবে। কিন্তু প্রশাসন যদি জালিমের ভূমিকা পালন করে, তবে আমরা তা রুখে দাঁড়াবো।’ প্রশাসনকে ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’ নীতি যথাযথভাবে অনুসরণের আহ্বানও জানান তিনি।ফুটপাত উচ্ছেদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা ও চলাচলের উপযোগী করা যেমন নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি ফুটপাতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকার বিষয়টিও রাষ্ট্রকে বিবেচনায় নিতে হবে। উপযুক্ত বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান চালানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।জামায়াতের আমিরের ভাষ্য, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব হতো। এ ধরনের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।ফুটপাতকেন্দ্রিক চাঁদাবাজিরও সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা আদায় করছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও পড়ছে। শহর কিংবা দেশে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও মাদকের ব্যবসা বরদাশত করা হবে না উল্লেখ করে এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা এবং সরকারি ও স্থানীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে দুঃখ প্রকাশ করেন জামায়াতের আমির। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো এবং আলোচনার মাধ্যমে মানবিক ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রশাসন জালিমের ভূমিকা নিলে জনগণ রুখে দাঁড়াবে: জামায়াত আমির

রাজধানীতে দখল-ভাঙচুরের হিড়িক, চাঁদাবাজি নাকি জমির বিরোধ?

রাজধানীতে হঠাৎ বেড়েছে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও, মোহাম্মদপুরের চাঁদ হাউজিং ও আদাবরের একটি বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগ, কোথাও আবার জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধ।মাটিকাটায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলার সময় গুলি ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সালমানের দাবি, চাঁদা না দেওয়ায় হামলা হয়েছে। তবে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, প্রায় ৩৫ কাঠা জমির বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।মোহাম্মদপুরের চাঁদ হাউজিংয়েও জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই পক্ষই জমির মালিকানা দাবি করছে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি মূলত জমির মালিকানা নিয়ে দেওয়ানি বিরোধ।আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে অস্ত্রধারীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে একটি বাড়িতে। বাড়ির মালিকপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা দখলের চেষ্টা করে এবং গেট, সিসিটিভি ও জানালায় ভাঙচুর চালায়। পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি নিয়ে আগেও বিরোধ ছিল।সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের জমি দখল নিয়ে একাধিক পক্ষের বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। ঘটনায় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম অভিযোগ হিসেবে এলেও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। একাধিক ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের নাম উঠে এলেও পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনাই আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাড্ডা হাসপাতালে হামলার ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

রাজধানীতে দখল-ভাঙচুরের হিড়িক, চাঁদাবাজি নাকি জমির বিরোধ?

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এলাকায় এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী লেখেন, একজন মানুষ সারাদিন রোদে পুড়ে ও ঘাম ঝরিয়ে ৫০০ টাকা আয় করেন। এই অর্থ দিয়েই তাঁর সন্তানের দুধ, স্কুলের খাতা কিংবা বৃদ্ধ বাবার ওষুধ কেনার প্রয়োজন মেটানো হয়। সেখান থেকে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা চাঁদা হিসেবে নিয়ে গেলে শুধু টাকা হারায় না, পরিবারের কোনো একটি প্রয়োজনও সেদিন থেমে যায়।তিনি লেখেন, আপনার আমার কাছে ৫০০ টাকা সামান্য হতে পারে। কিন্তু যার সারাদিনের ঘামের মূল্য এই ৫০০ টাকা, তার কাছে এই টাকাই হাজার কোটি টাকার সমান। চাঁদাবাজির বিস্তৃতি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা লেখেন, দোকান বসাবেন, চাঁদা। ব্যবসা করবেন, চাঁদা। গাড়ি চলবে, চাঁদা। বাড়ি তুলবেন, সেখানেও চাঁদা।চাঁদাবাজির অর্থ রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে অপমান আরও গভীর হয়। তাঁর ভাষ্য, এই অর্থ শুধু নিচের পর্যায়েই থেমে থাকে না; ধাপে ধাপে এর ভাগ ওপরের নেতাদের কাছেও পৌঁছে যায়।নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও লেখেন, চাঁদাবাজি শুধু টাকা কেড়ে নেয় না, মানুষের ঘাম, সন্তানের ভবিষ্যৎ আর বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেয়। পোস্টের শেষাংশে তিনি নব্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নব্য চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। এলাকায় এলাকায় চাঁদাবাজবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।তিনি আরও বলেন, দেশ তখনই বাঁচবে, যখন একজন বাবা নিজের ঘামের ৫০০ টাকা নিরাপদে সন্তানের জন্য ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাই আনিসুর রহমান রিপন ও সোহেলের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, জুয়ার আসর বসানো এবং কৃষিজমিতে অবৈধভাবে বালু ফেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী ও বাসিন্দার দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাঁরা এলাকায় একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বললে হামলা ও হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।গত ২৯ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।মানববন্ধনে দুবাইপ্রবাসী আলমগীর কবিরের প্রায় চার বিঘা জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় বায়েজিদ হাসান শিবলী নামের এক যুবককে মারধর এবং পরে তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের মামলা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, জিয়ারুল, মিন্টু মোল্লা, সজল শেখ, মাহফুজ ও লতিফ মোল্লাসহ কয়েকজনকে নিয়ে বাবলু একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এই চক্র সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায় করে।বিলাসবহুল গাড়ি ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্নস্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যে খালেকুজ্জামান বাবলু বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর একটি বিলাসবহুল প্রাডো গাড়ি এবং রাজপ্রাসাদসদৃশ বাড়ি নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।মাদক কারবারের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে তাঁর এক ভাগনে মিন্টুর ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর। তবে ভাগনের গ্রেপ্তারের সঙ্গে বাবলুর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা অভিযোগকারীরা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেননি।সম্প্রতি শ্রীপুরের পাগলা ব্রিজ এলাকায় বাবলুর ব্যবহৃত প্রাডো গাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় কয়েকজন এ ঘটনাকে মাদক ব্যবসা বা অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করলেও, হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও অভিযোগখালেকুজ্জামান বাবলুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর দাবি, তিনি একদিকে দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকলেও অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন। এ নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অভিযোগ অস্বীকার বিএনপিরভুক্তভোগীদের অভিযোগের পর গত ২৯ আগস্ট কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে ‘বানোয়াট, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক’ বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, দলীয় পদ ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তাঁদের অভিযোগকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য, অভিযোগগুলোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খালেকুজ্জামান বাবলু এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সম্পদের উৎস, জমি দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগগুলো সত্য হলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।কালীগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে কেউ যাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা ভয়ভীতি দেখাতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেবে।

কালীগঞ্জে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

চট্টগ্রামে গত দেড় বছরে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নাম জড়িয়ে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, হত্যা, অস্ত্র উদ্ধার, চাঁদাবাজি ও পুলিশের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনার পর স্থানীয় নেতারা পরস্পরকে দায়ী করলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি অস্ত্রের মহড়া চলে এবং তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ অস্ত্রধারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।এর দুদিন পর খুলশী ও পাহাড়তলী এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের পর গোপন সুড়ঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।গত দেড় বছরে দলীয় কোন্দল ঘিরে চট্টগ্রামে অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বাকলিয়ায় যুবদলের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ছাত্রদল কর্মী সাজ্জাদ, মীরসরাইয়ে হামলায় ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয়, রাউজানে যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার ও মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ, চান্দগাঁওয়ে যুবদল নেতা ফজলুল আমিন এবং সর্বশেষ রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ করিম নিহত হয়েছেন।এ ছাড়া রাউজানে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চে রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি নেতা মো. ওসমান ও তাঁর মাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাও ঘটে।বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে সংঘাত, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষ্য, দেশজুড়ে পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও পদ স্থগিতসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ও নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীও জানিয়েছেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি বা অস্ত্রবাজিতে জড়িতদের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামে বিএনপির নাম ঘিরে সংঘর্ষ-খুন, বাড়ছে উদ্বেগ

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি বিশ্বরোড এলাকায় ১১ দলীয় জোটের চট্টগ্রাম অভিমুখী লংমার্চের পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। জনগণের দাবি আদায়ের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি।জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন জামায়াতের আমির।তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জ্বালায় জনগণ অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে।জনগণের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস নেই, পানি নেই, ইলেকট্রিসিটি নেই, কিন্তু গ্যাসের বিল যথারীতি আছে। বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল আছে। এ ধরনের হয়রানি থেকে জনগণকে রেহাই দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় নয়: শফিকুর রহমান

হাতিয়ায় হানিফ মেম্বারকে ঘিরে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্য হানিফ মেম্বারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ৯ নম্বর বুড়িরচর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। স্থানীয়ভাবে তিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন সূত্রের দাবি, হানিফ মেম্বার শুধু বুড়িরচর ইউনিয়ন নয়, হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। খেয়াঘাট, মাছের আড়ত ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকাতেও তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, নির্যাতন ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তিনি সশস্ত্রভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।স্থানীয়দের ভাষ্য, সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে হানিফ মেম্বার দীর্ঘদিন এলাকায় নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হানিফ মেম্বারের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।

হাতিয়ায় হানিফ মেম্বারকে ঘিরে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির অভিযোগ