ঢাকা    বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

হারমোনিয়ামের ভেতরে পিস্তল, মুন্সীগঞ্জে দুই ভাইসহ গ্রেপ্তার ৩

মুন্সীগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ১১ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দুই সহোদর রয়েছেন।এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ১০ মিনিটে এসআরবি-১১-এর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১৪-এর একটি দল টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রিয়াজ পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে হারমোনিয়ামের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলিসহ বারেক ব্যাপারী (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বারেক ব্যাপারী জানান, অস্ত্র ও গুলির চালানটি মুন্সীগঞ্জের সুজন বেপারীর কাছে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সুজন কুষ্টিয়া থেকে পিস্তল দুটি কিনেছিলেন।এসআরবি জানায়, পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার শিলই এলাকায় সুজন বেপারীর (৩৮) বাড়িতে অভিযান চালায় এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানির একটি দল। সেখান থেকে সুজন ও তাঁর বড় ভাই মনির হোসেনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা ওই এলাকার কাসেম ব্যাপারীর ছেলে।অভিযানকালে বাড়িটি থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন এবং ৪১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, উদ্ধার করা অর্থ অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু পূর্ব থানা ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

বরিশালে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, অস্ত্র নিয়ে মহড়া-শোডাউন

বরিশাল নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের বিভিন্ন গ্রুপের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মোটরসাইকেলে দলবেঁধে চলাচল, প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন, শোডাউন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে পড়া এসব গ্রুপের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গ্রুপের একটি অংশ মাদক, ছিনতাই, চুরি, ইভটিজিং, মারামারি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রবাজির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। কখনো ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে বড় বহর নিয়ে সড়কে মহড়া দিতে দেখা যায় তাদের। কেউ বাধা দিলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।সম্প্রতি নগরীর পলাশপুর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় মাছ ব্যবসায়ী বাবু শিকদার নিহত হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানা পুলিশ টোকাই মধু, শহীদ ওরফে কালা শহীদ ও মন্টু সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, আলোচিত ‘ডেঞ্জার বয়েজ’ চক্রের নেতা রিদওয়ান এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে।স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বরিশাল মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৫০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গ্রুপের সদস্য সংখ্যা কয়েক হাজার বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে পুলিশ বলছে, তাদের কাছে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা রয়েছে এবং তালিকাভুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।অস্ত্রের ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্কসম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজনকে মোটরসাইকেলে করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। পরে নদীর পাড়ে গিয়ে তাদের মধ্যে অস্ত্র হস্তান্তরের দৃশ্যও রয়েছে বলে জানা গেছে।স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের এমন ঘটনা কীভাবে ঘটছে। তাঁদের অভিযোগ, বেলস পার্ক ও আশপাশের সড়ক, কালিজিরা নদীর পাড় থেকে চরবাড়িয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় কিশোর ও তরুণদের মোটরসাইকেল শোডাউন এবং অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে।বরিশাল নগরের গরিয়ারপাড়, চৌমাথা, নিউ সার্কুলার রোড, বাংলাবাজার, কালুশাহ সড়ক, বটতলা, পলিটেকনিক রোড, আমিরকুটির, কেডিসি, চাঁদমারী, মতাসার, কাকাশুরা, সাধুর বটতলা, কাউনিয়া হাউজিং, জানুকিসিংহ রোড, বিসিক, বাগানবাড়ি, হাওলাদার সড়ক, কাশিপুর, সাগরদি, রূপাতলী, কালীবাড়ী রোড, বিএম স্কুল, নতুন বাজার ও বিএম কলেজ এলাকায় বিভিন্ন কিশোর গ্রুপের তৎপরতার কথা স্থানীয়ভাবে জানা যায়।স্থানীয়ভাবে রিফাদ-রিয়াদ, সাগর-শাহরুখ, জিহাদ, মুন্না-সামির, হিরা ও স্টেলিনসহ বিভিন্ন গ্রুপের নাম আলোচনায় রয়েছে। পলাশপুরেও একাধিক গ্রুপ সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিশোরেরাস্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এখন শুধু পাড়া-মহল্লায় সীমাবদ্ধ নেই। নগরের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রেও দলবদ্ধভাবে তাদের অবস্থান ও আড্ডার অভিযোগ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, ত্রিশ গোডাউন, বেলস পার্ক ও জিলা স্কুল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।নারীদের উত্ত্যক্ত করা, মোটরসাইকেলে বিকট শব্দ সৃষ্টি, পথচারীদের বিরক্ত করা, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অভিযোগও রয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর করে তাঁর মুঠোফোন বা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন।শুধু ছিনতাই বা অস্ত্র প্রদর্শন নয়, মাদক ও জুয়ার নিয়ন্ত্রণ নিয়েও বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনলাইন ও অফলাইন—দুই মাধ্যমেই জুয়ার কারবার চলছে। জুয়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারি, গুরুতর আহত হওয়া এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।সম্প্রতি সদর রোডে প্রকাশ্যে কোপানোর ঘটনাতেও জুয়া-সংক্রান্ত বিরোধের কথা স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।গ্রুপে ঢোকার পর অপরাধে জড়ানোর অভিযোগস্থানীয়দের মতে, কিশোরদের একটি অংশ প্রথমে বন্ধুত্ব, আড্ডা কিংবা মোটরসাইকেল শোডাউনের মাধ্যমে এসব গ্রুপে যুক্ত হচ্ছে। পরে ধীরে ধীরে তাদের কেউ কেউ মাদক, মারামারি, ছিনতাই ও অস্ত্র প্রদর্শনের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।পলাশপুরের ‘ফকির গ্রুপ’ নামে পরিচিত একটি কিশোর চক্রের নেতৃত্বে ফকির রাজু রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কাউনিয়া থানায় একাধিক মামলা থাকার কথাও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।এ ছাড়া স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে কিছুদিন আগে রিদওয়ানের একটি হাত কেটে ফেলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নগরের বেলতলা এলাকার মামুন ওরফে বাবা মামুন জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।এসব গ্রুপের পেছনে মাদক কারবারি, অপরাধী চক্র কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।পুলিশের অভিযানকিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতে বরিশাল মহানগর পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। গত শনিবার দুপুরে নগরের বটতলা এলাকা থেকে ‘স্টেলিন গ্রুপের’ প্রধান স্টেলিনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। সে একই এলাকার সোহেল মিঞার ছেলে।বরিশাল নগর পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কাছে কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা আছে। তালিকায় থাকা নাম ধরে ধরে তাদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে। গত শনিবার বিকেলে দেশি অস্ত্রসহ এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’তিনি বলেন, নতুন করে যারা গ্রুপ করার চেষ্টা করছে, তাদেরও তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। বরিশালে নতুন কোনো গ্যাং তৈরি করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কেউ রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাংয়ের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় কাজে আসবে না।

বরিশালে বাড়ছে কিশোর গ্যাংয়ের দাপট, অস্ত্র নিয়ে মহড়া-শোডাউন

প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনা নতুন করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির চিত্র শুধু এই একটি হত্যাকাণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক মাসে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক সংঘাত ও মব সহিংসতার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তিন মাসে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৯৩৪টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ মাসে গড়ে ৩১১টির বেশি এবং দিনে ১০টির বেশি হত্যার মামলা হয়েছে।জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট মামলা হয়েছে ২ হাজার ৭৬টি। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে ২৮৭টি, ফেব্রুয়ারিতে ২৫০টি, মার্চে ৩১৭টি, এপ্রিলে ২৮৮টি, মে মাসে ৩১০টি, জুনে ৩২৬টি এবং জুলাইয়ে ২৯৮টি মামলা হয়েছে।বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতি মাসে কমবেশি ৩০০টি খুনের ঘটনা ঘটছে। গড়ে প্রতিদিন ১০টি খুন যেন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।চুরি-ডাকাতি কমলেও খুন নিয়ন্ত্রণে আসেনিপুলিশের ভাষ্য, চুরি ও ডাকাতির মতো কিছু অপরাধ আগের তুলনায় কমেছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়নি।পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে স্থানীয় বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও মানুষের মধ্যে অস্থিরতার মতো কিছু ঘটনা অনেক সময় আগেভাগে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।অপরাধ বিশ্লেষকেরা অবশ্য মনে করছেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। রাজনৈতিক সংঘাত, ক্ষমতার আধিপত্য, মাদক, পারিবারিক বিরোধ এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার এর মধ্যে অন্যতম।অপরাধ বিশ্লেষক অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুকের মতে, মানুষের হাতে অবৈধ অস্ত্র পৌঁছানো এবং রাজনৈতিক ও পারিবারিক বিরোধের কারণে সহিংসতা বাড়ছে। তার ভাষ্য, অপরাধ বাড়লেও তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৭হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংঘাতও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ তৈরি করছে।আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে ৪০০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭৪ জন। নিহত হয়েছেন অন্তত ৭৭ জন।এর মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘাতে চারজন, জামায়াত ও বিএনপির সংঘাতে নয়জন এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১৬ জন নিহত হয়েছেন।বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৭ জনের মধ্যে অন্তত ৪০ জন দুর্বৃত্তদের হামলা ও গুলিতে নিহত হয়েছেন।গত ২৩ আগস্ট রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতা আল আমিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাটিও রাজনৈতিক কোন্দল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।মব সহিংসতায় সাত মাসে ১৩৪ মৃত্যুমব সহিংসতার ঘটনাও কমেনি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে মব সহিংসতায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন।এর মধ্যে ঢাকায় নিহত হয়েছেন ৫০ জন। চট্টগ্রামে নিহত হয়েছেন ৩১ জন।মানবাধিকারকর্মী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন এলিনা খান বলেন, নির্বাচিত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতা বাড়ছে। পদ-পদবি নিয়েও সংঘাত হচ্ছে। এসবের দায় সরকারকেই নিতে হবে।তবে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কোনো বিষয় নয়। সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর কোনো চাপ নেই এবং পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে।ছয় মাসে হত্যার মামলা প্রায় একইচলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরের ছয় মাসের সঙ্গে আগের ছয় মাসের হত্যার মামলার হিসাবেও বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে না।পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১ হাজার ৭৮৯টি মামলা হয়েছে। এর আগের ছয় মাসে হয়েছিল ১ হাজার ৭৮০টি। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে মামলা বেড়েছে ৯টি।নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাও বেড়েছে। গত ছয় মাসে এ ধরনের ঘটনায় ১১ হাজার ১৬৫টি মামলা হয়েছে। আগের ছয় মাসে হয়েছিল ১০ হাজার ৯০টি। অর্থাৎ মামলা বেড়েছে ১ হাজার ৭৫টি।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। বিভিন্ন থানায় হামলা ও অস্ত্র লুটের ঘটনাও ঘটে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।তবে অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো আগের সক্ষমতায় পুরোপুরি ফিরতে পারেনি। এর সুযোগে খুন, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধ বাড়ছে।চলতি বছরে ঢাকার মিরপুরে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই মামলায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম হলেও বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের আরও অনেক ঘটনা ঘটছে, যেগুলোর সবগুলোতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, খুন ও সহিংসতা বাড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে বিশেষায়িত অভিযান প্রয়োজন। ২০২৪ সালের আগস্টের পর পুলিশের অনেক সদস্য মনোবল হারিয়েছেন এবং অনেকে ভয় নিয়ে কাজ করছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জপুলিশের হিসাবে চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধ কিছুটা কমলেও হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক। এর সঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা ও মব সহিংসতার ধারাবাহিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নতি হবে না। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার বন্ধ করা, রাজনৈতিক সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় বিরোধ নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিদিন গড়ে ১০ খুন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে মোছা. হালিমা (৬৫) হত্যা মামলার প্রায় সাড়ে তিন বছর পর রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের পরিকল্পনায় হালিমাকে হত্যা করা হয়।এ ঘটনায় নিহত হালিমার মেয়ে ও মামলার বাদী চাম্পা (৪৮)কে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্রীপ গ্রামের নিজ বাড়িতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন হালিমা। পরদিন সকালে তাঁর মেয়ে চাম্পা দেখতে পান, ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকানো। দরজা খুলে ভেতরে মাকে না পেয়ে তিনি খোঁজ শুরু করেন।পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্থানীয়রা। সেখানে গিয়ে স্বজনেরা তাঁর মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় দেখতে পান। নাক-মুখে রক্তাক্ত জখম এবং গলায় সাদা রশি পেঁচানো ছিল।পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।এ ঘটনায় চাম্পা বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।থানা-পুলিশ দুই দিন তদন্তের পর মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বপ্রণোদিতভাবে তদন্তভার নেয়। তদন্তের একপর্যায়ে মামলার বাদী চাম্পার আচরণ ও বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হয় তদন্তকারীদের। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ বসতভিটার জমি কিনেছিলেন বলে দাবি করতেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল ছিল না। পরে বিল্লাল জমিটি দুলাল নামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এরপর দুলাল হালিমার বিরুদ্ধে উচ্ছেদের মামলা করেন।এ নিয়ে বিল্লালের সঙ্গে হালিমার বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে পূর্বশত্রুতার জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করেন বলেও পিবিআই জানিয়েছে। পরে তাঁকে করিমগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।পিবিআইয়ের দাবি, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিল্লালসহ অন্যদের হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে বসতভিটার জমি পাওয়ার উদ্দেশ্যে চাম্পা সহযোগীদের নিয়ে মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাত ১১টার দিকে সহযোগীরা বাড়িতে এলে চাম্পা তাঁর মাকে ডেকে আনেন। পরে সহযোগীরা হালিমাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন এবং তাঁর মাথা মাটিতে পুঁতে রাখেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।পরদিন পরিকল্পনা অনুযায়ী চাম্পা প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতা এবং প্রতিপক্ষকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জমি পাওয়ার আশায় মেয়ের হাতে মাকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য ও গর্হিত অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাকে হত্যা, রহস্য উদ্‌ঘাটন

বংশাল ও বাঞ্ছারামপুরে অভিযান, ১৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

ঢাকার বংশাল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোরচক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। এ সময় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৬টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সজিব (২৮), মো. নিশান আহমেদ (২৫), রুবেল আহমেদ (৩৮) ও নিত্য সরকার (১৯)। তাঁদের মধ্যে সজিবের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে, নিশান আহমেদের বাড়ি নাটোরের বাগাতিপাড়ায়, রুবেল আহমেদের বাড়ি বাঞ্ছারামপুর এবং নিত্য সরকারের বাড়িও একই উপজেলার বটতলী এলাকায়।ডিএমপি জানায়, গত ১৮ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি ওয়ারী বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম বংশাল থানার মোকিম বাজার রোডে অভিযান চালায়। সেখান থেকে সজিব ও নিশান আহমেদকে আটক করা হয়।পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুবেল আহমেদ ও নিত্য সরকারসহ চোরচক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযানে উদ্ধার করা ১৬টি মোটরসাইকেলের মধ্যে রয়েছে সুজুকি জিক্সার, হোন্ডা এক্স-ব্লেড, ইয়ামাহা এফজেডএস, টিভিএস রাইডার, রয়্যাল এনফিল্ড, হোন্ডা সিবিআর ও ইয়ামাহা আর১৫সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেল।ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মোটরসাইকেল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় মামলা করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৪১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

বংশাল ও বাঞ্ছারামপুরে অভিযান, ১৬ চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার ৪

মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা, ছেলে আটক

ঝিনাইদহের মহেশপুরে মাদকের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শখের বানু (৫৭) নামের এক নারীকে তাঁর ছেলে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ভোরে উপজেলার শ্যামকুড় গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত শখের বানু ওই গ্রামের মৃত জিকুর হোসেনের স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাঁর ছেলে ইখলাসুর রহমানকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য, ইখলাসুর মাদকাসক্ত। মাদক সেবনের টাকা চাওয়া নিয়ে প্রায়ই মায়ের সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হতো। বৃহস্পতিবার রাতেও টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।পরে ভোররাতে ইখলাসুর মায়ের ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। হত্যার পর তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে পুলিশে দেন।মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মাদক সেবনের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সন্তান তাঁর মাকে হত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।ওসি জানান, সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি স্থান থেকে ইখলাসুর রহমানকে আটক করা হয়েছে।

মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা, ছেলে আটক