ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
কলকাতার হোটেলে আগুন, নিহত ৯ বাংলাদেশি

কলকাতার হোটেলে আগুন, নিহত ৯ বাংলাদেশি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের চতুর্থ তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায় এবং হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আগুনের ধোঁয়ায় কয়েকজন অচেতন হয়ে পড়লে তাঁদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এসি থেকে আগুনের সূত্রপাতের ধারণা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, হোটেলের একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাতে হোটেলের অধিকাংশ অতিথি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন আগুন লাগে। অনেকে হোটেলের ভেতরে আটকা পড়েন। ভবনটির প্রবেশপথ ও বের হওয়ার পথ একই এবং সেটি বেশ সংকীর্ণ বলে জানিয়েছেন আবাসিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, হোটেলে কোনো জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে কেউ কেউ বাথরুমে ঢুকে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। পরে দমকল বাহিনী ভবনে থাকা আবাসিকদের উদ্ধার করে। ‘দরজা খুলতেই ঘরে ধোঁয়া ঢুকে যায়’ হোটেলে থাকার জন্য মঙ্গলবার রাতে রামপুরহাট থেকে দুই বন্ধু কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁদের একজন ইজাজ আহমেদ জানান, তাঁরা ভবনটির চতুর্থ তলায় একটি গেস্টহাউসে ছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে খাওয়াদাওয়া শেষে তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে দুই নারীর চিৎকারে তাঁদের ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই ঘরের ভেতর ধোঁয়া ঢুকে পড়ে বলে জানান তিনি। ইজাজ আহমেদ বলেন, ‘ঘর থেকে বেরিয়ে যে বারান্দা, তা খুব সরু। ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল ঘর।’ অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ নিউ মার্কেটের ওই ভবনের সর্বোচ্চ তলায় একটি পরিবার বসবাস করত। দমকলকর্মীরা তাঁদেরও উদ্ধার করেন। পরিবারটির এক নারী অভিযোগ করেন, হোটেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁর দাবি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিচয় ও আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।