ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
জীবিত থাকতেই ৫ হাজার মানুষের চল্লিশা করলেন দম্পতি

জীবিত থাকতেই ৫ হাজার মানুষের চল্লিশা করলেন দম্পতি

মৃত্যুর পর স্বজনেরা ‘চল্লিশা’ করবেন- এমন প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে জীবিত থাকতেই অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ‘চল্লিশা’র আয়োজন করেছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার এক দম্পতি।শুক্রবার উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বীর হাজীপুর গ্রামে প্রায় ৫ হাজার মানুষের জন্য এ ভোজের আয়োজন করেন মো. রফিকুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী বেগম আক্তার (৫৫)। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।বীর হাজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলে ভোজের আয়োজন। অতিথিদের বসে খাওয়ার জন্য মাঠজুড়ে সামিয়ানা টানানো হয়। চেয়ার-টেবিলের ব্যবস্থা ছিল। একসঙ্গে প্রায় ৪০০ মানুষের খাবার গ্রহণের ব্যবস্থা থাকায় কয়েক দফায় খাবার পরিবেশন করা হয়।ভোজের মেন্যুতে ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িকণ্টা, ডাল ও পায়েস। অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও আয়োজনে অংশ নেন এবং খাবার পরিবেশনে সহযোগিতা করেন।আয়োজক রফিকুল ইসলাম বীর হাজীপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে। নিজের এমন আয়োজনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তাঁর দুই সন্তান বাকপ্রতিবন্ধী। তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানরা আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষকে নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর আশঙ্কা ছিল। এ কারণেই জীবিত থাকতেই নিজের হাতে আয়োজনটি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই আমি এই আয়োজন করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল, আমি নিজে বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দেব।’তিনি জানান, জীবিত অবস্থায় অসহায় মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এ উদ্যোগ নিয়েছেন। মৃত্যুর পর অন্য কেউ আয়োজন করবেন—এমন অপেক্ষা না করে নিজের হাতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে দেখা যায়নি। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে খাবারে অংশ নিয়েছেন।’স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর পর চল্লিশার পরিবর্তে জীবিত অবস্থায় এ ভোজ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা রফিকুল ইসলাম ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় আলোচনায় আসে।রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে এ আয়োজনের অর্থ ব্যয় করেছেন। তাঁর হিসাবে, পুরো আয়োজনে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের দুই সন্তান মাসুদ মিয়া (৩০) ও রায়হান মিয়া (১৪) বাকপ্রতিবন্ধী। পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শান্তা আক্তার (২৫), রানা মিয়া (১৭) এবং তাঁর মেয়ে-জামাই বাবলু মিয়া।ভোজে অংশ নেওয়া কয়েকজন বলেন, সাধারণত মৃত্যুর পর স্বজনেরা চল্লিশার আয়োজন করেন। তবে জীবিত অবস্থায় একজন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে অসহায় মানুষের জন্য এমন বড় আয়োজন করায় বিষয়টি তাঁদের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে। খাবার পেয়ে তাঁরা আয়োজক দম্পতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাঁদের জন্য দোয়া করেন।