ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

তিনটি রুটে পার্বত্য এলাকায় অস্ত্র ঢুকছে: নুরুল হক নুর



তিনটি রুটে পার্বত্য এলাকায় অস্ত্র ঢুকছে: নুরুল হক নুর
জাতীয় প্রেসক্লাবে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন নুরুল হক নুর

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে রাজনীতিকেরা এখনো সচেতন না হলে সামনে দেশকে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তাঁর মতে, পরিস্থিতি একপর্যায়ে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

পাহাড়ে অস্ত্র প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ

নুরুল হক নুর বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তিনি জেনেছেন, তিনটি রুটে পার্বত্য এলাকায় অস্ত্র ঢুকছে। এসব অস্ত্র আরাকান আর্মির কাছ থেকে কেনা হয়েছে বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে ‘উজি’ পিস্তল রয়েছে, যেটিকে তিনি ইসরায়েলি পিস্তল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর প্রশ্ন, এসব অস্ত্র কীভাবে সেখানে পৌঁছাচ্ছে এবং কারা এর পেছনে রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী অস্ত্র ও মেশিনগান কোথা থেকে আসছে এবং কারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ভারত বা মিয়ানমারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। কারণ, এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী সরানোর দাবি দায়িত্বজ্ঞানহীন

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, কিছু সমস্যার সমাধান আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে করা সম্ভব।

তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিছু নেতার পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবির সমালোচনা করেন তিনি।

নুর বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। তাঁর দাবি, এনসিপির অনেকের রাষ্ট্র, রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা নেই।

জিয়াউর রহমানের নীতির প্রশংসা

নুরুল হক নুরের মতে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন এবং পাহাড়ে জনসংখ্যার ভারসাম্য ও কৌশলগত নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

তাঁর ভাষ্য, জিয়াউর রহমানের নেওয়া নীতির কারণেই পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনো বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশের সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ হলো এ ধরনের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা। তবে অনেক সময় এসব সংস্থা সরকারের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে ‘অ্যালাইন’ হয়ে জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ধরনের প্রবণতা দেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলেও সতর্ক করেন নুরুল হক।

সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নিলে সেখানে অশান্তি আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, অনেকে পাহাড়ে সেনাবাহিনী দেখতে চান না। তাঁর দাবি, মূলত চাঁদাবাজির স্বার্থেই একটি পক্ষ সেনাবাহিনী প্রত্যাহার চায়।

রাশেদ খান বলেন, দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। দেশের সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনী সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

সেমিনারে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লে. (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা শামীম হোসেন, বাংলাভিশনের এক্সিকিউটিভ এডিটর বদরুল আলম নাবিল এবং থোয়াই চিং মং চাকসহ অন্যরা।

বিষয় : রাজনীতি পার্বত্য চট্টগ্রাম জাতীয় নিরাপত্তা সার্বভৌমত্ব নুরুল হক নুর

দৈনিক নবকাল

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


তিনটি রুটে পার্বত্য এলাকায় অস্ত্র ঢুকছে: নুরুল হক নুর

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে রাজনীতিকেরা এখনো সচেতন না হলে সামনে দেশকে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তাঁর মতে, পরিস্থিতি একপর্যায়ে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র, সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

পাহাড়ে অস্ত্র প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ

নুরুল হক নুর বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তিনি জেনেছেন, তিনটি রুটে পার্বত্য এলাকায় অস্ত্র ঢুকছে। এসব অস্ত্র আরাকান আর্মির কাছ থেকে কেনা হয়েছে বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কাছে ‘উজি’ পিস্তল রয়েছে, যেটিকে তিনি ইসরায়েলি পিস্তল হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর প্রশ্ন, এসব অস্ত্র কীভাবে সেখানে পৌঁছাচ্ছে এবং কারা এর পেছনে রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারী অস্ত্র ও মেশিনগান কোথা থেকে আসছে এবং কারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে ভারত বা মিয়ানমারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। কারণ, এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী সরানোর দাবি দায়িত্বজ্ঞানহীন

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার বিষয়টি উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, কিছু সমস্যার সমাধান আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে করা সম্ভব।

তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিছু নেতার পাহাড় থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের দাবির সমালোচনা করেন তিনি।

নুর বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন। তাঁর দাবি, এনসিপির অনেকের রাষ্ট্র, রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট ধারণা নেই।

জিয়াউর রহমানের নীতির প্রশংসা

নুরুল হক নুরের মতে, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিষয়টি বুঝতে পেরেছিলেন এবং পাহাড়ে জনসংখ্যার ভারসাম্য ও কৌশলগত নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।

তাঁর ভাষ্য, জিয়াউর রহমানের নেওয়া নীতির কারণেই পার্বত্য চট্টগ্রাম এখনো বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গে রয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

দেশের সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাজ হলো এ ধরনের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করা। তবে অনেক সময় এসব সংস্থা সরকারের সঙ্গে অতিরিক্তভাবে ‘অ্যালাইন’ হয়ে জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থকে গুরুত্ব দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ধরনের প্রবণতা দেশের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলেও সতর্ক করেন নুরুল হক।

সেনাবাহিনীর বিকল্প নেই

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সেনাবাহিনী সরিয়ে নিলে সেখানে অশান্তি আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, অনেকে পাহাড়ে সেনাবাহিনী দেখতে চান না। তাঁর দাবি, মূলত চাঁদাবাজির স্বার্থেই একটি পক্ষ সেনাবাহিনী প্রত্যাহার চায়।

রাশেদ খান বলেন, দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। দেশের সংকটময় সময়ে সেনাবাহিনী সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।

সেমিনারে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লে. (অব.) সাইফুল্লাহ খান সাইফের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা শামীম হোসেন, বাংলাভিশনের এক্সিকিউটিভ এডিটর বদরুল আলম নাবিল এবং থোয়াই চিং মং চাকসহ অন্যরা।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
তিনটি রুটে পার্বত্য এলাকায় অস্ত্র ঢুকছে: নুরুল হক নুর
0:00 0:00
1.0x