ঢাকা    বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল

তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর



তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগ্রহ

নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং প্রায় তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, জীবনসংগ্রাম ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

তাঁদের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রকৌশলী হয়েও শিক্ষকতা বেছে নিয়েছেন নায়লা

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। পরে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও আকর্ষণীয় সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে তিনি শিশুদের শিক্ষাদানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা সহজ ও আনন্দদায়ক করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফের

নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কর্মরত আছেন ১০ জন শিক্ষক। পা দিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলান আলতাফ।

তাঁর এই সংগ্রাম ও উদ্যোগের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টির জন্য নতুন একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন বাবুল

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে আসছেন।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন খালি জায়গায় রোপণ করেন তিনি। তাঁর হাতে লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উদ্যোগ আরও গতিশীল করার জন্য উৎসাহ দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা বৃক্ষরোপণ মানবিক উদ্যোগ

দৈনিক নবকাল

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬


তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং প্রায় তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, জীবনসংগ্রাম ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

তাঁদের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রকৌশলী হয়েও শিক্ষকতা বেছে নিয়েছেন নায়লা

বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। পরে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও আকর্ষণীয় সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে তিনি শিশুদের শিক্ষাদানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা সহজ ও আনন্দদায়ক করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফের

নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।

নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কর্মরত আছেন ১০ জন শিক্ষক। পা দিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলান আলতাফ।

তাঁর এই সংগ্রাম ও উদ্যোগের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টির জন্য নতুন একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন বাবুল

ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে আসছেন।

পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন খালি জায়গায় রোপণ করেন তিনি। তাঁর হাতে লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উদ্যোগ আরও গতিশীল করার জন্য উৎসাহ দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।


দৈনিক নবকাল

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ কায়েস আহমেদ সেলিম
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নবকাল
তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
0:00 0:00
1.0x