ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
দৈনিক নবকাল
Topic Ads 1
এআই কি মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে?

এআই কি মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের শেখার পদ্ধতি, চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতার জগতে দ্রুত পরিবর্তন আনছে। এ প্রযুক্তির সহায়তায় অল্প সময়ে জটিল বিষয় শেখা এবং নতুন ধারণা তৈরি করা সহজ হচ্ছে। তবে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও দক্ষতা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে সৃজনশীল কাজের মধ্যে বৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আই অ্যাম অ্যান এক্সপার্ট ইন এআই কনশাসনেস হিয়ার’স হাউ দিস নিউ ইন্টেলিজেন্স ইজ নাউ শেপিং আওয়ার্স শিরোনামের এক নিবন্ধে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন এআই নীতিবিদ ও দার্শনিক হেনরি শেভলিন। তাঁর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এআইয়ের প্রভাব শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে সীমাবদ্ধ নয় মানুষের জ্ঞান অর্জন, স্মৃতি, চিন্তাভাবনা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজেদের পরিবর্তন করার ক্ষমতা মানুষের দীর্ঘদিনের বৈশিষ্ট্য।ছয় সপ্তাহে দুই বছরের সমান শেখার অগ্রগতিশিক্ষাক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার শেখার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। মানুষের দক্ষতা ও শিক্ষকের নির্দেশনার সঙ্গে সমন্বয় করে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে শিক্ষার্থীদের শেখার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। নাইজেরিয়ার বেনিন সিটিতে পরিচালিত একটি গবেষণায় বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ের বাইরে শিক্ষার্থীদের জেনারেটিভ এআইভিত্তিক শিক্ষকের সহায়তা দেওয়া হয়। শিক্ষকদের সহযোগিতায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এ কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা যে অগ্রগতি অর্জন করে, বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে তা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় প্রায় দুই বছরের শেখার সমতুল্য।তবে এআই ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া গেলেই যে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব দক্ষতা একই হারে বাড়বে, তা নিশ্চিত নয়। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থীকে সরাসরি উত্তর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, নাকি নিজে চিন্তা করে সমাধান খুঁজে পেতে সহায়তা করা হচ্ছে।এআইয়ের ওপর নির্ভরতায় পরীক্ষার ফল কমতে পারেশিক্ষার্থীদের ওপর এআইয়ের প্রভাব বোঝার জন্য ২০২৩ সালে তুরস্কের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গণিত শেখা নিয়ে একটি গবেষণা করা হয়। গবেষণায় শিক্ষার্থীদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। একদল পাঠ্যবই ব্যবহার করে গণিত অনুশীলন করে। অন্য দুই দল ব্যবহার করে জিপিটি-৪-এর সাধারণ সংস্করণ এবং এমন একটি বিশেষায়িত সংস্করণ, যা সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইঙ্গিতের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমাধানের দিকে এগিয়ে দেয়। ফলাফলে দেখা যায়, সাধারণ জিপিটি-৪ ব্যবহার করা শিক্ষার্থীদের অনুশীলনী পরীক্ষায় নম্বর প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু পরে বই ছাড়া পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাদের ফল পাঠ্যবই ব্যবহার করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম ছিল।গবেষকদের ধারণা, এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এ ফলের একটি সম্ভাব্য কারণ। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ইঙ্গিত দিয়ে সমাধান খুঁজতে সাহায্য করা বিশেষায়িত এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের ফল দেখা যায়নি। এ থেকে বোঝা যায়, এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত উত্তর পাওয়া এবং নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারা এক বিষয় নয়।সৃজনশীলতা বাড়লেও কমতে পারে বৈচিত্র্যলেখালেখি ও সৃজনশীল কাজেও এআইয়ের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২৯৩ জন লেখককে নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় কয়েকজন লেখককে এআইয়ের দেওয়া গল্পের ধারণা ব্যবহার করতে বলা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, এআইয়ের সহায়তা পাওয়া গল্পগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি সৃজনশীল বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে, যাঁদের সৃজনশীলতার মাত্রা আগে তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তাঁদের কাজে উন্নতি বেশি দেখা গেছে।তবে এর পাশাপাশি গল্পগুলোর মধ্যে মিলও বেড়েছে। অর্থাৎ, এআই একজন লেখকের সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করলেও অনেকের সৃষ্টিশীল কাজ একে অপরের মতো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সৃজনশীলতার উন্নতি এবং সামগ্রিকভাবে সৃজনশীল বৈচিত্র্য বজায় রাখা দুটিকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।প্রযুক্তির কারণে দক্ষতা হারানোর আশঙ্কা নতুন নয়নতুন প্রযুক্তি মানুষের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতির ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, এ নিয়ে উদ্বেগ বহু পুরোনো। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক প্লেটোও লেখার প্রচলন মানুষের স্মৃতিশক্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। প্লেটোর ফেড্রাস সংলাপে লেখার আবিষ্কার নিয়ে আলোচনায় সতর্ক করা হয়েছিল, লিখিত তথ্যের ওপর নির্ভরতা বাড়লে মানুষ নিজের স্মৃতির পরিবর্তে বাইরের তথ্যভান্ডারের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে।তবে লেখার প্রচলন মানুষের চিন্তাশক্তিকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করেনি। বরং জ্ঞান সংরক্ষণ, আদান-প্রদান ও বিকাশের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। ১৯৩০-এর দশকে মার্কিন ধ্রুপদি সাহিত্য গবেষক মিলম্যান প্যারি বলকান অঞ্চলের দক্ষিণ স্লাভিক কবিদের মৌখিক ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি দেখতে পান, অনেক কবি লিখতে না জানলেও স্মৃতি থেকে হাজার হাজার পঙ্‌ক্তির দীর্ঘ কবিতা আবৃত্তি করতে পারতেন। তাঁরা প্রতিবার কবিতাগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনও করতেন।এ উদাহরণ দেখায়, কোনো দক্ষতার চর্চা কমে গেলে সময়ের সঙ্গে তা হারিয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি নতুন সক্ষমতা তৈরি করলেও পুরোনো কিছু দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিতে পারে।প্রযুক্তির সঙ্গে বদলেছে মানুষের জীবন ও মস্তিষ্কমানুষের ইতিহাসে প্রযুক্তি ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বহু উদাহরণ রয়েছে। আগুনের ব্যবহার ও রান্নার প্রচলন মানুষের পূর্বপুরুষদের খাবার থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি শক্তি পেতে সাহায্য করেছিল। দীর্ঘ সময়ে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে মানুষের দাঁত, চোয়াল ও পরিপাকতন্ত্রের গঠনে পরিবর্তন এসেছে।কৃষিকাজের প্রসার মানুষের পক্ষে বিপুলসংখ্যক মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া সহজ করেছে। তবে এর ফলে প্রকৃতির বিভিন্ন উদ্ভিদ, ভেষজ, মাশরুম ও বেরির মধ্যে কোনগুলো খাওয়ার উপযোগী, সে বিষয়ে বিস্তৃত জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজনীয়তা কমেছে।পড়ার অভ্যাসও মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন এনেছে। স্নায়ুবিজ্ঞানী স্তানিসলাস দ্যানে ও তাঁর সহকর্মীদের গবেষণায় দেখা গেছে, পড়তে শেখার ফলে মস্তিষ্কের দৃশ্য-প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার একটি অংশ লিখিত শব্দ শনাক্ত করার উপযোগী হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে মুখ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ওই অংশের প্রতিক্রিয়ায় সামান্য পরিবর্তনও আসতে পারে।দার্শনিক অ্যান্ডি ক্লার্কের বক্তব্য উদ্ধৃত করে শেভলিন বলেন, মানুষ স্বভাবগতভাবেই নিজের সক্ষমতা বাড়াতে বাইরের উপকরণ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে। মানুষের মস্তিষ্কের পরিবর্তনশীলতা এবং সংস্কৃতির নমনীয়তা এ বৈশিষ্ট্যেরই প্রকাশ।এআইয়ের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে ব্যবহারের ধরনের ওপরশেভলিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এআই মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন একটি মাধ্যম। এটি একদিকে এমন কিছু কাজ করতে পারছে, যা আগে প্রযুক্তির পক্ষে সম্ভব ছিল না; অন্যদিকে মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা সম্প্রসারণের দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।তবে এআই মানুষের জন্য কতটা উপকারী হবে, তা শুধু প্রযুক্তির সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে না। কীভাবে এটি তৈরি করা হচ্ছে এবং মানুষ কীভাবে ব্যবহার করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্কের শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা গবেষণায় সরাসরি উত্তর দেওয়া এআই এবং নিজে সমাধান খুঁজতে সহায়তা করা এআইয়ের ফলাফলে পার্থক্য দেখা গেছে। অর্থাৎ, এমনভাবে এআই ব্যবহার করা সম্ভব, যাতে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও শেখার ক্ষমতা বিকশিত হয়।মানবজাতি এখন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এআইয়ের কারণে ভবিষ্যতে মানুষের কী ধরনের সুবিধা বা ক্ষতি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ইতিহাস বলছে, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মানুষের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতাও রয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিত রাখতে নির্দেশনা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।বৃহস্পতিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত প্রবিধানমালা-২০২৬ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।এ নির্দেশনার অনুলিপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাশাপাশি সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষকদেরও বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি গঠন স্থগিত রাখতে নির্দেশনা

ইবির আট অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

একাডেমিক কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আটটি অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে মেডেল, সনদ ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান। এ ছাড়া আটটি অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।প্রতিটি অনুষদে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী এবং যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফল করা শিক্ষার্থীদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।কোন অনুষদে কতজনডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের নয়জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ আল-ফিড, আলী আহসান মোহাম্মদ জুবায়ের, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাঈমুর রহমান; আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আহসান ভূঁইয়া এবং দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নাজমুল ইসলাম ও নুমান আল হাদী।কলা অনুষদ থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মোছা. তানজিলা খাতুন, মো. হাফিজুল ইসলাম ও জেবা রহমান পুরস্কার পেয়েছেন।সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের চার শিক্ষার্থী হলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের মো. মুনতাকিম রহমান, অর্থনীতি বিভাগের মো. টোগর আলী ও জেসিয়া খাতুন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের মোছা. শিরাজাম মনিরা।আইন অনুষদ থেকে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সাদিয়া, রফিয়া খাতুন ও মোছা. হাফসা খানসান সন্ধানী ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সুমি খাতুন ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম; ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রত্যশী সানা, মো. সিরাজুল ইসলাম ও অনিন্দ্য সাহা এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের মেহেদী হাসান সিকদার পুরস্কার পেয়েছেন।বিজ্ঞান অনুষদ থেকে পরিসংখ্যান ও তথ্য বিজ্ঞান বিভাগের মো. মেহেদী হাসান লিমন ও মো. মাহমুদুল ইসলাম এবং গণিত বিভাগের আরিফুল ইসলাম ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ থেকে ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের মোছা. মোহনা রহমান নাইস, জান্নাতুন নাঈম ও নাফিজ রহমান সায়েম; ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আহসান হাবীব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মো. মাহফুজুর রহমান পুরস্কার পেয়েছেন।জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে ফার্মেসি বিভাগের আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. আব্দুল রাশাড় এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. মেহেদী হাসান ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।স্বীকৃতির পাশাপাশি এটি নতুন দায়িত্বঅ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, এ স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন। একই সঙ্গে এটি তাঁদের জন্য নতুন দায়িত্বও।তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে দেশ, দেশের মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কল্যাণে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে হবে।উপাচার্য আরও বলেন, ২০২২ সালে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন থাকাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তৎকালীন প্রশাসনের সহযোগিতায় পরে তা বাস্তবায়িত হয়।

ইবির আট অনুষদের ৩৬ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড

তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিজ নিজ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও কর্মের মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথা শুনে প্রশংসা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী।সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং প্রায় তিন দশক ধরে নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, জীবনসংগ্রাম ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কর্মকাণ্ডের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’তাঁদের কাজের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।প্রকৌশলী হয়েও শিক্ষকতা বেছে নিয়েছেন নায়লাবুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে নায়লা শারাফ প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। পরে জনতা ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও আকর্ষণীয় সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে তিনি শিশুদের শিক্ষাদানকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।গত সাত বছর ধরে তিনি নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা সহজ ও আনন্দদায়ক করতে নিজ উদ্যোগে তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।দুই হাত ছাড়াই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আলতাফেরনরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতবিহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে ২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’।নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কর্মরত আছেন ১০ জন শিক্ষক। পা দিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজও সামলান আলতাফ।তাঁর এই সংগ্রাম ও উদ্যোগের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালয়টির জন্য নতুন একটি ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।তিন দশক ধরে গাছ লাগাচ্ছেন বাবুলভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে আসছেন।পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন খালি জায়গায় রোপণ করেন তিনি। তাঁর হাতে লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রী তিনজনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উদ্যোগ আরও গতিশীল করার জন্য উৎসাহ দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

চুয়েটে ২৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, বললেন মানবেতর অবস্থায় আছি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম টানা ২৫ ঘণ্টা ধরে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ রয়েছেন। এ অবস্থায় তিনি বলেছেন, তাঁরা অত্যন্ত মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছেন তিনি।মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত মানবেতর অবস্থায় আছি। আমাদের আটকে রাখা হয়েছে। গতকালের রাতটিও আমাদের খুব কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি।’এ সময় নিজের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে কথা বলার পরিস্থিতিতে নেই। প্রশাসন আসুক, তারপর হয়তো কথা বলতে পারব।’এর আগে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধ উপাচার্য ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নাশতা পাঠান। সকালে এক দফায় তাঁদের জন্য নাশতা পাঠানো হয়েছিল।২১ দিন পর দপ্তরে প্রবেশ, এরপর অবরুদ্ধসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সকাল আটটার দিকে ছাত্রদলের নেতা, কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে দীর্ঘ ২১ দিন পর নিজ দপ্তরে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম।এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে অবিলম্বে চুয়েট ত্যাগের নির্দেশ দেন। এ জন্য তাঁকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন ত্যাগ না করায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেন।সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে চুয়েট ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। তবে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।দিনভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন।রাতে অসুস্থ কয়েকজন, ভবনে চিকিৎসকসোমবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। এরপর শিক্ষার্থীদের কঠোর পাহারার মধ্যে চুয়েটের চিকিৎসকেরা প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপাচার্য শেখ শরীফুল আলমসহ তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন। এ পরিস্থিতিতে উপাচার্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন। 

চুয়েটে ২৫ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ উপাচার্য, বললেন মানবেতর অবস্থায় আছি

পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পোলট্রি খামারের তীব্র দুর্গন্ধে বিপাকে পড়েছেন বারপাকিয়া দাখিল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে মাদরাসার বাইরে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষকদের। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, কমছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও।কালীগঞ্জ উপজেলার বারপাকিয়া গ্রামে মাদরাসাটির পাশেই নিজ বাড়িতে পোলট্রি খামার করেছেন মলিনা বেগম। স্থানীয় বাসিন্দা ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, খামার থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালি বলেন, ‘মারাত্মক দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে লেখাপড়া করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এ অবস্থা চললেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।’মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছিল। পরে তাঁর পরামর্শে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।তিনি বলেন, সামাজিকভাবেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। প্রচণ্ড দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খামারের মালিক মলিনা বেগম বলেন, তিনি বাড়িতে অল্প পরিমাণে মুরগি পালন করেন। এক মাস বয়স হলে সেগুলো বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, প্রথম ২০ দিন খামারে তেমন দুর্গন্ধ থাকে না। শেষের দিকে প্রায় ১০ দিন কিছুটা দুর্গন্ধ হয়। এই সময়টুকু মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সহ্য করলে কী এমন হয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।এদিকে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে এ ধরনের পোলট্রি খামার থাকা উচিত নয়। দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। শুধু মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নন, দুর্গন্ধে পথচারীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলে জানান তাঁরা।কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা তাঁর কাছে এসেছিলেন। বিষয়টি বর্তমানে কী পর্যায়ে আছে, তা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কমল কুমার বর্মন বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বিষয়টি খোঁজখবর নেবেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পোলট্রি খামারের দুর্গন্ধে মাদরাসায় ক্লাস বন্ধ, বাইরে পাঠদান

মাদরাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতনের চেক ছাড়, টাকা তোলা যাবে ৪ অক্টোবরের পর

বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চেক ছাড় করা হয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় আগামী ৪ অক্টোবরের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে এ টাকা তুলতে পারবেন তাঁরা।বৃহস্পতিবার মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক ১ অক্টোবর বিতরণকারী ব্যাংকগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।চেকগুলো অগ্রণী ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এবং জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ৪ অক্টোবরের পর নির্ধারিত ব্যাংক থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

মাদরাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতনের চেক ছাড়, টাকা তোলা যাবে ৪ অক্টোবরের পর

ক্যাটরিনার মা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন জীবন, প্রত্যন্ত গ্রামে গড়েছেন স্কুল

বলিউডের ঝলমলে জগতের সঙ্গে ক্যাটরিনা কাইফের পরিচয় দীর্ঘদিনের। অভিনয় ও জনপ্রিয়তায় তিনি প্রতিষ্ঠিত তারকা। তবে তাঁর মা সুজান টরকোটের জীবনযাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন। শহুরে জীবন ছেড়ে তামিলনাড়ুর প্রত্যন্ত এলাকায় শিশুদের শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন তিনি।২০০৮ সালে লন্ডন থেকে তামিলনাড়ুতে চলে যান সুজান। গ্রামাঞ্চলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুদের জন্য কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে সেখানে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে তোলেন। শুরুতে শিশুদের বিনা মূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করেন তিনি।২০১৫ সালে সুজান প্রতিষ্ঠা করেন মাউন্টেন ভিউ স্কুল। ৩০ জনেরও কম শিশু নিয়ে শুরু হওয়া স্কুলটিতে আশপাশের গ্রামের দরিদ্র পরিবারের শিশুরা পড়াশোনা করত। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে স্কুলটিতে ৩০০-র বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আট সন্তানকে একাই বড় করেছেন সুজান। মায়ের জীবন ও সমাজসেবার কাজ নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ক্যাটরিনা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর মা মাদুরাইয়ে থাকেন এবং নিজেই শিশুদের পড়ান।ক্যাটরিনা বলেছিলেন, আমার মা মাদুরাইয়ে থাকেন। সেখানে তিনি শিশুদের জন্য একটি স্কুল তৈরি করেছেন। তিনি নিজেই শিক্ষকতা করেন। সেখানে তিনি খুব খুশি। মায়ের সমাজসেবা এবং আশীর্বাদের কারণেই আমি জীবনে এতটা এগোতে পেরেছি।তবে প্রত্যন্ত এলাকায় মায়ের জীবন সহজ নয়। ক্যাটরিনা জানিয়েছেন, সেখানে সব সময় বিদ্যুৎ থাকে না। দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট না থাকায় অনেক সময় মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলাও সম্ভব হয় না।প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই বলেও জানিয়েছেন ক্যাটরিনা। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই বছরের পর বছর শিশুদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তাঁর মা।মায়ের সমাজসেবামূলক কাজ ক্যাটরিনার শৈশবেও প্রভাব ফেলেছে। অভিনেত্রীর ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই তিনি ও তাঁর ভাইবোনেরা দারিদ্র্যের বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। বিভিন্ন দেশে থাকার সময় দরিদ্র মানুষের জীবন কাছ থেকে দেখেছেন তাঁরা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

ক্যাটরিনার মা বেছে নিয়েছেন ভিন্ন জীবন, প্রত্যন্ত গ্রামে গড়েছেন স্কুল

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি চারা গাছ রোপণের অংশ হিসেবে ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছিল। শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযানের প্রথম ধাপে পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০০টি চারা বিতরণ করা হয়।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ একরামুল হক ও সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম।আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহার স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি খোরশেদ আলম, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি গাজী আবু তাহের, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মঈনুল আলম ছোটন ও হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহনাজ আকতার ও শিক্ষক নুরুল আমিন।

পটিয়ায় ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা বন্ধ করে শিক্ষায় আসছে বড় সংস্কার

শিক্ষাব্যবস্থায় মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটাতে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।তিনি বলেন, জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা দেখিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ভুল বার্তা দেওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে। এখন দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা খাতকে পুনর্গঠনের কাজ চলছে।সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারের শিক্ষা কাঠামো, নতুন শিক্ষাক্রম, শিক্ষক মূল্যায়ন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনর্বাসন, কারিগরি শিক্ষা, শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় এবং কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র নিয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।২০২৮ সাল থেকে শিক্ষাক্রমে বড় পরিবর্তনমাহদী আমিন বলেন, ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের শিক্ষাক্রম নতুন করে সাজানো হবে। পুরো কারিকুলামে ব্যাপক ও বিস্তৃত সংস্কার আনা হবে। এর মাধ্যমে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি টেকসই শিক্ষাক্রম তৈরি করা হবে।তবে এর আগে অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বই ও বিষয় যুক্ত করার কথা জানান মাহদী আমিন। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে।এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের রোবটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নিসাম্প্রতিক এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আগের সময়ে পরিসংখ্যান ভালো দেখানোর জন্য কৃত্রিমভাবে জিপিএ-৫ বাড়ানোর প্রবণতা ছিল। এমনকি পরীক্ষা না দিয়েও পাস করিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।তাঁর ভাষায়, ‘আমরা সেই আত্মঘাতী পথ বন্ধ করেছি। এবার কোনো গ্রেস নম্বর দেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীরা শতভাগ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নে তাদের জিপিএ ও জেনুইন ফলাফল পেয়েছে।’ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের কারিগরি প্রশিক্ষণএসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য কিংবা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র বোঝা হিসেবে দেখবে না বলে জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, এসব তরুণকে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সে যুক্ত করা হবে। তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। প্রয়োজনে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।বিভাগ ও জেলায় এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জবেকারত্ব কমাতে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ বা কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।মাহদী আমিন বলেন, এসব কেন্দ্রে কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও চাকরিদাতা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে।প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে এবং পরে দেশের প্রতিটি জেলায় এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাবশিক্ষকতা পেশাকে আরও আকর্ষণীয় করা এবং শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির কথা জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব স্তরের শিক্ষকদের হাতে ডিজিটাল ট্যাবলেট দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সম্মানজনক অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় গুরুত্ববিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মাহদী আমিন।স্থানীয় শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’কে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।পাশাপাশি গবেষণায় সরকারি বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।গ্রাম-শহরের শিক্ষাবৈষম্য কমানোর উদ্যোগগ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য কমাতে দেশব্যাপী বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা।এর মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং ইনোভেশন ও স্টার্টআপ কম্পিটিশন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রতিভা জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি। মাহদী আমিন বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয় দক্ষতা, কর্মসংস্থান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জিপিএ-৫-এর কৃত্রিম বন্যা বন্ধ করে শিক্ষায় আসছে বড় সংস্কার

নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব’ তুলে ধরা হলো ঢাবির সেমিনারে

ইসলামী শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষা: বর্তমান সমাজের সংকট ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।সেমিনারে বক্তারা নৈতিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের সংকট ও বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বের পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন, নিয়মিত বই পড়া এবং অর্জিত জ্ঞান দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুশিল্পীদের কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের সূরা আলাকের অংশবিশেষ অর্থসহ তিলাওয়াত করা হয়। পরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্নার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের উদ্বোধন হয়। এরপর সেমিনার উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্র পাঠ ও নাতে রাসূল (সা.) পরিবেশন করা হয়।সেমিনারে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখক জিয়াউল হক। তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান এবং নিয়মিত বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন। অর্জিত জ্ঞান লেখালেখির মাধ্যমে প্রকাশ এবং সমাজের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।পরে কবি আল মাহমুদের ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ কবিতা আবৃত্তি করা হয়। এরপর একটি কোরাস গান পরিবেশন করা হয়।‘ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব ও ইতিহাস’ বিষয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী। তিনি শহীদ আব্দুল মালেকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশের বিভক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন নয়; অর্জিত জ্ঞান মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো এবং নৈতিক ও আদর্শিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।সেমিনারের সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থার শিক্ষা বিভাগীয় সম্পাদিকা সানিয়া তারান্নুম অর্নি। তিনি নৈতিক চরিত্র গঠনে সীরাতে রাসূল (সা.) অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।সানিয়া তারান্নুম অর্নি বলেন, নৈতিক চরিত্র গঠন ছাড়া জ্ঞান মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তাই শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও আদর্শের সমন্বয় প্রয়োজন। ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে সততা, দায়িত্ববোধ, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ আব্দুল মালেকের মায়ের কাছে লেখা একটি চিঠি পাঠ করা হয়। চিঠি পাঠের সময় উপস্থিতদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এর মধ্য দিয়ে ইসলামী শিক্ষা, আদর্শ ও নৈতিকতার জন্য শহীদ আব্দুল মালেকের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করা হয়।

নৈতিক অবক্ষয় রোধে ইসলামী শিক্ষার গুরুত্ব’ তুলে ধরা হলো ঢাবির সেমিনারে

ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো আমেনার জিপিএ-৫, স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়ার

পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১২ বছর আগে বসতভিটা হারিয়েছিল পরিবারটি। এরপর অন্যের জমিতে খাজনা দিয়ে টিনের ঘর তুলে বসবাস। সংসারে অভাব-অনটন, তার ওপর মা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। মায়ের অসুস্থতার কারণে রান্নাবান্নাসহ ঘরের নানা কাজও করতে হয় মেয়েটিকে। এসবের মধ্যেই নিয়মিত স্কুলে যাওয়া ও পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে।প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান আমেনা। তার স্বপ্ন, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো।গত সোমবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আমেনার সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী। তবে এই সাফল্যের পথ সহজ ছিল না। নদীভাঙন, দারিদ্র্য, মায়ের অসুস্থতা ও পারিবারিক নানা সংকট সামলে তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে।এক কক্ষের ঘরে পড়াশোনাবৃহস্পতিবার সকালে শিবচর উপজেলার মাদবরের চর ইউনিয়নের চরকান্দি গ্রামে আমেনাদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিতে কাদাময় ও পিচ্ছিল উঠান পেরিয়ে টিনের ঘরের সামনে মায়ের কাজে সহযোগিতা করছে আমেনা। মাত্র একটি কক্ষের ঘরে গাদাগাদি করে রাখা আসবাবপত্রের ফাঁকে রয়েছে তার ছোট্ট পড়ার টেবিল। সংসারের কাজ শেষ করে সেখানেই পড়াশোনা করত সে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তাদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারিয়ে যায়। তাদের মূল বাড়ি ছিল শিবচরের চরজানাজাত ইউনিয়নের পূর্ব খাস বন্দরখোলা এলাকায়। নদীভাঙনের পর পরিবারটি মাদবরের চর ইউনিয়নের চরকান্দি গ্রামে এসে অন্যের জমিতে খাজনা দিয়ে বসতি গড়ে। এ পর্যন্ত অন্তত দুইবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে পরিবারটি।আমেনার বাবা হাবিবুর রহমান ওরফে ইলিয়াস কৃষক। অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে যে সামান্য আয় করেন, তা দিয়েই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে সংসার চালান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করাও তাঁর জন্য কঠিন ছিল।অসুস্থ মায়ের কাজও সামলাতে হয়েছেআমেনার মা জরিনা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে নিয়মিত কাজ করতে পারেন না তিনি। ফলে রান্নাবান্নাসহ ঘরের বিভিন্ন কাজ আমেনাকেই করতে হয়েছে। এসব কাজ শেষ করেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেত সে।অভাবের কারণে প্রাইভেট পড়ার সুযোগও তেমন পায়নি আমেনা। তবে পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল।আমেনার মা জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমরা নদীভাঙা মানুষ। কৃষিকাজ করে সংসার চলে। সংসারে সব সময় অভাব-অনটন লেগেই থাকে। আমি কিডনি রোগে আক্রান্ত। দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে টানাটানির সংসার। তবে আমেনার পড়াশোনার প্রতি খুব আগ্রহ। নিজের ইচ্ছায় বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়েছে।’তিনি বলেন, ‘ঠিকমতো প্রাইভেটও পড়াতে পারিনি। আমার মেয়ে অনেক দূর পর্যন্ত পড়তে চায়। কতটুকু পারব জানি না।’রোল ১৮ থেকে জিপিএ-৫নবম শ্রেণিতে আমেনার রোল ছিল ১২। দশম শ্রেণিতে ওঠার পর ফল কিছুটা খারাপ হওয়ায় রোল হয়ে যায় ১৮। সেই ফলাফলই তাকে আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করে।আমেনা বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে ওঠার পর আমার রেজাল্ট খারাপ হয়। রোল ১৮ হয়ে যায়। রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি আসার পর আব্বা খুব মন খারাপ করেছিলেন। আব্বার মলিন মুখ দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। তখন আমার মধ্যে জেদ তৈরি হয়, আমাকে ভালো করতেই হবে। এরপর আমি আরও চেষ্টা করতে থাকি।’তার ভাষায়, ‘আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা অনেক। চাইলেই বাবার পক্ষে আমার সব চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। মা অসুস্থ। ঘরের রান্নাবান্না করেও আমাকে স্কুলে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আমার স্কুলের স্যাররাও আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন, বিশেষ করে গণিতের পবিত্র স্যার।’স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়ারএসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর আমেনা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি অনেক খুশি। ফলাফল নিয়ে অনেক টেনশনে ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল পেয়েছি। আমার এ পর্যন্ত আসার পথটা সহজ ছিল না। বাবা-মা ও শিক্ষকদের সহযোগিতা পেয়েছি।’এখন ভালো কলেজে পড়তে চান আমেনা। তাঁর স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।আমেনার বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মেয়ে ভালো রেজাল্ট করেছে, আমরা খুবই আনন্দিত। অনেক কষ্টের মধ্যে তাকে পড়াশোনা করিয়েছি। আমি কৃষিকাজ করে সংসার চালাই। আমার সাধ্য অনুযায়ী মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।’শিক্ষকদের প্রত্যাশাপ্রতিবেশী মো. ফারুক বলেন, আমেনার পরিবার পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যের জমিতে খাজনা দিয়ে বসবাস করছে। মেয়েটি খুব মেধাবী। কিন্তু ভালো কলেজে পড়ানোর মতো সামর্থ্য তার বাবার নেই। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এ ধরনের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।পাঁচ্চর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল হক বলেন, আমেনা নিঃসন্দেহে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতা তার পড়ালেখায় বিভিন্ন সময়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মায়ের অসুস্থতার কারণে রান্নাবান্নাসহ ঘরের কাজও তাকে নিয়মিত করতে হয়েছে। এরপরও সে স্কুলে এসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছে।তিনি বলেন, ‘আমেনার অদম্য চেষ্টার ফলেই সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আর্থিক অনটন যেন তার উচ্চশিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সমাজের বিত্তবানদের তার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।’এ বছর পাঁচ্চর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাঁদের মধ্যে ইশরাত জাহান আমেনা অন্যতম।বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক পবিত্র চন্দ্র বল্লভ বলেন, আমেনার অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলার মানসিকতা তাকে ভালো ফল করতে সহায়তা করেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিত সে।ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক ইয়াসিন কাজী বলেন, আমেনা নিয়মিত ক্লাস করত এবং পাঠে মনোযোগী ছিল। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার সঙ্গে নিজের পড়ার রুটিন সমন্বয় করে চলত এবং শিক্ষকদের নির্দেশনাকে গুরুত্ব দিত।সামনে আরও বড় পথপদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো, অভাবের সংসার ও অসুস্থ মায়ের দায়িত্ব সামলেও আমেনার জিপিএ-৫ অর্জন এখন পরিবারটির বড় আনন্দের বিষয়। তবে এসএসসির পর সামনে তার আরও বড় পথ- উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা এবং মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি।অর্থের অভাবে সেই পথ যাতে থেমে না যায়, সেটিই এখন আমেনা ও তার পরিবারের বড় দুশ্চিন্তা। ভালোভাবে পড়াশোনা করে চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণে এখন তার প্রয়োজন সুযোগ ও সহযোগিতা।

ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো আমেনার জিপিএ-৫, স্বপ্ন এখন ডাক্তার হওয়ার

১৮ শিক্ষকের মাদরাসায় ১৬ পরীক্ষার্থী, সবাই ফেল

নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার সুটুরিয়া ফজলুল হক খান দাখিল মাদরাসায় ১৮ জন শিক্ষক থাকলেও ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৬ জন শিক্ষার্থীর কেউ পাস করতে পারেনি। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ জন ছাত্রী ও ৯ জন ছাত্র।এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান না করা এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসাটি পরে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে বলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের দাখিল পরীক্ষায় ২০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকেরা।শ্রেণিকক্ষ আছে ১০টি, পাঠদান চলে দুই কক্ষেবুধবার সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, ৯ম, ১০ম শ্রেণি ও প্রাথমিক শাখা মিলিয়ে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত। শিক্ষার্থী কম থাকায় একটি কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান চলছিল।প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১০টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। তবে কয়েকটি কক্ষ জরাজীর্ণ। কোনো কোনো কক্ষে ভাঙাচোরা টিনের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়।অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস নেন না। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো পরিবর্তন হয়নি।দাখিলে ফেল করা শিক্ষার্থী সিয়ামের বাবা বাচ্চু মিয়া বলেন, এই মাদরাসায় কোনো শিক্ষক পড়ালেখা করান না। শিক্ষকরা গল্প করেন, যার যার মতো চলে যান। গত বছর আমার ছেলে দুই বিষয়ে ফেল করেছিল। এবার আবার পরীক্ষা দিয়েও ফেল করেছে। আমরা বারবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু আমাদের কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।আগে মাদরাসা জমজমাট ছিলমাদরাসার সাবেক শিক্ষার্থী তৌহিদ বলেন, তিনি ২০০৭ সালে এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, তখন মাদরাসাটি বেশ জমজমাট ছিল। এখন শিক্ষার্থী কমে গেছে এবং ফলাফলও খারাপ হচ্ছে।তৌহিদের অভিযোগ, প্রতি ক্লাসে একজন-দুজন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। স্যাররা বসে থাকেন, আড্ডা দেন। পরিচালনার ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে। ১৬ জন পরীক্ষা দিয়েছে, একজনও পাস করেনি। অথচ শিক্ষক আছেন ১৮ জন।স্থানীয় বাসিন্দা তৌফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘১৬ জনের মধ্যে ১৬ জনই ফেল করেছে- এটা লজ্জার বিষয়। ১৮ জন শিক্ষক থাকার পরও এমন ফল কীভাবে হলো, তা দেখা দরকার।ফলাফলে নিজেই হতভম্বতবে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান ফল বিপর্যয়ের জন্য শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষার পরিবেশের সংকটকে দায়ী করেছেন।তিনি বলেন, আমি এই ফলাফলে নিজেই হতভম্ব। আমার বলার মতো ভাষা নেই। সবাই একসঙ্গে ফেল করার কথা নয়। কেন এমন হয়েছে, তা দেখছি। ফেল করা শিক্ষার্থীদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমি ক্লাস কীভাবে নেব, আমার শ্রেণিকক্ষই তো ঠিক নেই। ৪০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি আছে, কিন্তু আধুনিকায়ন হয়নি। দুইটি কক্ষ দিয়ে নয়টি ক্লাস চালাতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী কষ্ট করে পড়াশোনা করে। আগামী বছর শতভাগ পাস করানোর চেষ্টা করব।শতভাগ ফেল মেনে নেওয়া যায় নাবেলাবো উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুক বলেন, কেন এমন ফল হলো, তা জানতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ডেকে ফল বিপর্যয়ের কারণ এবং তা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শিক্ষার পরিবেশ ভালো না থাকাকে ফল খারাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, গাছতলায় পড়ালেখা করলেও পাঁচ-সাতজন পাস করবে। ভবন সংস্কারের বিষয়ে আমি কথা বলব। কিন্তু শতভাগ ফেল মেনে নেওয়া যায় না।তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ বাংলা ও ইতিহাস বিষয়ে ফেল করেছে।১৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করায় মাদরাসাটির পাঠদান, শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামী বছর প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে উন্নতি ঘটবে।

১৮ শিক্ষকের মাদরাসায় ১৬ পরীক্ষার্থী, সবাই ফেল

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব

নৈতিকতা ছাড়া জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকিব। তিনি বলেন, সততা ও নিষ্ঠাবিহীন বুদ্ধিমত্তা সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন জরুরি।গতকাল সোমবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ২০২৬ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন ছাত্রীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শিক্ষার্থীদের সামনে অনেক সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এ সময়ে বিভ্রান্তি ও মনোযোগ বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তাই নবীন শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক বিকাশ, উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিনয়, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শৃঙ্খলা এবং প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে নৈতিক দায়িত্ববোধের সমন্বয় করা জরুরি। আধুনিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু দক্ষ পেশাজীবী তৈরি করা নয়; শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ তৈরি করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, একজন মানুষ জীবনে কতটা সফল হবেন, তা শুধু তাঁর মেধার ওপর নির্ভর করে না। বরং তিনি কতটা শৃঙ্খলা মেনে চলতে পারেন, তার ওপরও সাফল্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা মানসিকতা ও মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা এখন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে নানা মত ও ধারণার কারণে সমাজে বিভাজন তৈরি হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বৈশ্বিক বাস্তবতা। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, বায়োটেকনোলজি ও ডেটা সায়েন্স সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে দ্রুত পরিবর্তন করছে।অধ্যাপক সালেহ হাসান নকিব বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তন দ্রুত হলেও মানবতাকে পথ দেখানোর মৌলিক মূল্যবোধগুলো চিরন্তন। এসব মৌলিক মূল্যবোধে বড় ধরনের পরিবর্তন সমাজে নানা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আগামী দুই দশকে অনেক পেশা বিলুপ্ত বা পরিবর্তিত হতে পারে, আবার এমন অনেক নতুন পেশার সৃষ্টি হবে, যেগুলোর বিষয়ে এখনো ধারণা করা যাচ্ছে না।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শুধু সনদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় দিতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তাঁদের গবেষক, উদ্যোক্তা, শিক্ষক ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতা হিসেবে দেখতে চায় বিশ্ববিদ্যালয়।তিনি শিক্ষার্থীদের আধুনিকতা ও ইসলামের যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে মূল্যবোধসম্পন্ন, ভদ্র, পরোপকারী ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, বিজ্ঞান মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি কীভাবে কাজ করে তা শেখায়, আর ঈমান শেখায় কেন তা সৃষ্টি হয়েছে। জ্ঞান ছাড়া সভ্যতার সূচনা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্ব সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও প্রযুক্তি ও কৌশলের দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বে যারা প্রযুক্তি ও কৌশলে এগিয়ে, তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও কৌশল অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।অনুষ্ঠানে আইআইইউসির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ হাসমত আলী, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, রেজিস্ট্রার কর্নেল মো. কাসেম, পিএসসি (অব.), কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কাওসার আহমেদ, ফিমেল একাডেমিক জোনের প্রধান মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুলতানা আক্তার বক্তব্য দেন।অনুষ্ঠানে নবীন ছাত্রীদের শপথ পাঠ করান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী। পরে বিভাগীয় ব্রিফিং সেশনে বিভিন্ন বিভাগ ও অফিসের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।অনুষ্ঠানের শুরুতে আইআইইউসির ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। ভর্তি পরীক্ষায় নিজ নিজ অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া নবীন ছাত্রীদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। দিন শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন নবীন ছাত্রীরা।

নৈতিকতাবিহীন জ্ঞান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে: সালেহ হাসান নকিব

আজ এসএসসি ও সমমানের ফল, যেভাবে জানা যাবে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ সোমবার প্রকাশ করা হবে। সকাল ১০টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ফল ঘোষণা করবেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা তিনটি মাধ্যমে ফল জানতে পারবে। নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানা যাবে।ওয়েবসাইটে ফলশিক্ষা বোর্ডগুলোর অভিন্ন ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd ও educationboardresults.gov.bd–এ গিয়ে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।এ ছাড়া শিক্ষার্থী যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়েছে, সেই বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল দেখা যাবে।এসএমএসে যেভাবে ফল জানা যাবেযেকোনো মোবাইল নম্বর থেকে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানা যাবে।এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:SSC <স্পেস> বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর <স্পেস> রোল নম্বর <স্পেস> পরীক্ষার বছরএরপর মেসেজটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও সংবাদপত্রের কার্যালয়ে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।খাতা পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগপ্রকাশিত ফলে কেউ অসন্তুষ্ট হলে পুনঃনিরীক্ষণ বা খাতা চ্যালেঞ্জের আবেদন করতে পারবেন। এ জন্য অনলাইনে আবেদন নেওয়া হবে ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত।পরীক্ষা হয়েছিল এপ্রিলেএবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২৪ মে।সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।

আজ এসএসসি ও সমমানের ফল, যেভাবে জানা যাবে

প্রাইভেট পড়ালে বন্ধ হবে এমপিও: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের বাইরে প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। নির্দেশ অমান্য করে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়ালে তাঁর এমপিও বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।শনিবার নাটোরের লালপুর উপজেলার বরমহাটি সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় ও বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুলের পড়া স্কুলেই শেষ করাতে হবে। প্রয়োজন হলে বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শ্রেণিকক্ষেই পাঠদান সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি বলেন, ‘স্কুলের শিক্ষকদের প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্কুলের পড়া স্কুলেই শেষ করাতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়ালে তাঁর এমপিও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, বিদ্যালয়ের বাইরে প্রাইভেট পড়ানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা বিদ্যালয়েই দিতে হবে।তিনি বলেন, কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়ালে তাঁর এমপিও বন্ধ করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের উন্নয়নেও কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না।‘শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার’বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে কেউ কোনো কথা বলতে না পারে।তিনি বলেন, ‘আমরা সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। এজন্য সরকার শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে যা কিছু প্রয়োজন, তার সবই করার চেষ্টা করছে।’স্থানীয় শিক্ষার সমস্যা নিয়ে আলোচনামতবিনিময় সভায় স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন সমস্যা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।সভায় এবি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবেদ আলী মণ্ডলের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোলাম, বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু, ঈশ্বরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রঞ্জু এবং বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন।এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাইভেট পড়ালে বন্ধ হবে এমপিও: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী